1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

রহস্য খুলছে বরফ মানব

৫ হাজার বছর আগের বরফ মানবের জিনোম আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা৷ এর মধ্য দিয়ে বর্তমান মানুষের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রের হদিস মিলবে৷ বিজ্ঞানীদের আশা, জটিল সব রোগের উদ্ভবের কারণও জানা যাবে এর ফলে৷

default

এই আল্পস পর্বতেই পাওয়া গিয়েছিল বরফ মানবের সন্ধান

২০ বছর আগের কথা৷ আল্পসে উঠছিলেন দুই জার্মান হেলমুট আর এরিকা সিমন৷ হঠাৎই সেখানে এক আদি মানবের সন্ধান পান তাঁরা৷ অবশ্য জীবন্ত নয়, একটি মমি৷ সেটাই বরফ মানব৷ এই অজানাকে জানার চেষ্টার শুরু সেখানেই৷ হিসেব করে বের করা হলো, আজ থেকে ৫ হাজার বছর আগে এই বিশ্বেই চলাফেরা ছিল বরফ মানবের৷ হোমো স্যাপিয়ন্সের মানে বর্তমান মানবের নিকটতম আদি পুরুষের অন্যতম তারা৷ গত সপ্তাহে জানানো হলো, বরফ মানবের সৃষ্টি রহস্যের কিনারা করা গেছে৷ তার মানে হচ্ছে, তাদের জিনোম আবিষ্কার হয়েছে, কাজ চলছে জেনেটিক ম্যাপ তৈরির৷ কাজটি করছেন জার্মানি আর ইতালির এক দল গবেষক৷ তাঁরা আশবাদী, বরফ মানব শুধু নিজেদের রহস্যই খুলবে না, বর্তমান মানবের সঙ্গে তাদের ছিন্ন সূত্র জোড়াও লাগিয়ে দেবে৷

১৯৯১ সালে বরফ মানবের সন্ধান পাওয়ার পর থেকেই তা ব্যস্ত রেখেছে বিজ্ঞানীদের৷ বিভিন্ন নমুনাও সংগ্রহ করা হয়৷ জোগাড় করা হয় বরফ মানবের ব্যবহার করা বিভিন্ন উপকরণও৷ অন্যদিকে কী জানা গেল, তা শুনতে আগ্রহী ছিল অনেকে৷ যা নিয়ে বলছিলেন গবেষক আলবার্ট জিংক৷ তাঁর কথায়, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে বরফমানব নিয়ে, তাই অনেকে জানতে চাচ্ছিলো, আমরা কী কী পেয়েছি৷ এই কৌতূহল অস্বাভাবিক নয় মোটেই৷''

বরফ মানবের মমিটি রয়েছে ইতালির উত্তরাঞ্চলের দক্ষিণ টিরলের প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে৷

BdT Italien Ötzi Mann in Bozen Bolzano Todesursache

বরফ মানবের মমিটি রয়েছে ইতালির উত্তরাঞ্চলের এই প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে

আর এই জাদুঘরটি যে প্রতিষ্ঠানের সেই ‘ইন্সটিটিউট ফর মমি অ্যান্ড দি আইসম্যান' এর প্রধানের দায়িত্বে আছেন জিংক৷ ইতালির ইউরোপিয়ান একাডেমি অফ বোজেনের কর্মকর্তাও তিনি৷ জিনোম আবিষ্কারের পর কী, তা জানালেন জিংক৷ তিনি বললেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এই যে বরফ মানবের জিনোম আবিষ্কারের পরের ধাপ কী? এখন আমাদের আরো রহস্যের জট খুলতে হবে৷ উত্তর খুঁজতে হবে অনেক প্রশ্নের৷ তার মানে হলো, কাজ বেড়ে গেল এবং তা গুরুত্বপূর্ণও৷ তবে তা মনে করতেই আমার ভালো লাগছে৷''

জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার করা মানে হলো, বিজ্ঞানীরা এখন বরফ মানবের জিনগত বৈশিষ্ট্যের নকশা পেয়ে গেলেন৷ এই নকশা আলাদা হওয়ার কারণেই প্রত্যেকটি জীব দেখতে আলাদা, তাদের আচরণ আলাদা৷ আধুনিক মানবের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কার হয়েছে এক যুগেরও বেশি সময় আগে৷ এরপর বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জিনোম আবিষ্কারের ঘোষণা থেকে থেকেই আসছে৷ এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হল বরফ মানব৷ এর পেছনে শ্রম দেওয়ার প্রসঙ্গ সম্পর্কে জিংক বললেন, ‘‘আমরা দেখতে চাই, বিবর্তনের কোন ধাপে, কীভাবে বরফ মানব এল৷ তারা কী এমন কোনো জীনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ছিলো, যা কোনো রোগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত৷ আমরা জানতে চাই, তাদের খাদ্যভ্যাস কেমন ছিল, তারা কি দুধ হজম করতে পারত৷ তাদের বিবর্তনের ধাপগুলো জানতে এইসব প্রশ্নের উত্তর মেলা জরুরি৷''

বরফ মানবের জিনোম বিশ্লেষণে এক সময় উঠেপড়ে লেগেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যানি স্টোন৷ তখন তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন, এখন শিক্ষক৷ অ্যানি যে সময়টাতে কাজ করেছিলেন, তখন জিনোম সিকোয়েন্স বের করা ছিল অনেক কঠিন৷ কারণ এখনকার মতো প্রযুক্তি পাওয়া তখন সহজ ছিল না৷ তাই সফল হতে পারেননি অ্যানি৷ এখন জিনোম আবিষ্কারের খবরে তিনিও খুশি৷ তবে সেই সঙ্গে একটু সতর্কবার্তাও দিলেন৷ অ্যানি জানালেন, ‘‘এটা বরফ মানবের মাত্র একটি নমুনা৷

Eismumie Ötzi

৫ হাজার বছর আগের এই বরফ মানবের জিনোম আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা

এ থেকে এই জনগোষ্ঠী সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যেতে পারে৷ তবে ওই সময়টাকে পুরোপুরি ধরতে হলে আরো নমুনা চাই৷ অন্তত ২৫ থেকে ৫০টি নমুনা৷''

তবে আশাবাদী জিংক৷ তিনি মনে করছেন, একটি নমুনা থেকেও মিলতে পারে অনেক প্রশ্নের উত্তর৷ ডায়াবেটিসের মতো রোগ কীভাবে এলো, তার তার কারণও বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন জিংক৷ তা হলে এই রোগের নিরাময় অনেকটা সহজ হয়ে যাবে৷ জিংক বলছেন, হয়তো দেখা যাবে আলপাইন অঞ্চলের মানুষ এখনো বরফ মানবের ডিএনএ-এর কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করছেন৷ তাহল সেটা হবে বিজ্ঞানীদের জন্য একটা দারুণ খবর৷ জিংক আরো জানান, ‘‘এটা খুবই মজার হবে যে এই বরফ মানবের জীনের সঙ্গে যদি অপেক্ষাকৃত দূরের অন্য কোনো আদি মানবের জিনের সমরূপতা মেলে৷ এমনও হতে পারে ওই জীনের কিছু গঠনবৈশিষ্ট্য বর্তমান যুগেও পরিবাহিত হচ্ছে৷''

সৃষ্টি রহস্য আবিষ্কার হয়েছে৷ এখন চলছে জেনেটিক ম্যাপ তৈরির কাজ৷ এতে হাত লাগিয়েছন হাইডেলব্যার্গের জীনতাত্ত্বিক আন্দ্রেয়াস কেলারও৷ তিনি বললেন, ‘‘আমরা জানি, তিনশ কোটি ডিএনএ নিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে৷ কাজের আধেকটা প্রায় হয়ে গেছে৷ আগামী চার মাসের মধ্যে বাকিটাও হয়ে যাবে, সেই আশাই করছি৷''

আর মানে হলো, আর মাত্র কয়েকটা মাস, ৫ হাজার বছরের রহস্যের অবগুণ্ঠন খুলছে বলে৷

প্রতিবেদন: মনিরুল ইসলাম

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল ফারূক

ইন্টারনেট লিংক