1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

রসরাজের ফেসবুক পোস্ট রসরাজের নয়

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু যুবক রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে যে আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টের অভিযোগ তুলে হিন্দুদের ওপর হামলা চলছে, সেই ফেসবুক পোস্ট তার নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা৷ তবে তদন্ত চলছে৷

সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ফোর-ফাইভ ক্লাস পাস ঐ যুবকের ফটোশপে কাজ করার মতো দক্ষতা নাই৷ আমরা সরেজমিন তদন্তে ধারণা করছি, নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন বাজারের একটি সাইবার ক্যাফে থেকে এ কাজ করা হয়েছে৷''

এদিকে রবিবার নাসিরনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও বলেন, ‘‘রসরাজ দাস ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার ঐ ছবি আপলোড করেনি৷ গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি ঢাকা থেকে পোস্ট করা হয়েছে৷ কারা এই ছবিটি পোস্ট করেছে, তার তদন্তও চলছে৷ এই ছবিটি এখন ফরেনসিক ল্যাবে আছে৷ নাসিরনগরের দু-চারটা লোক এই ষড়যন্ত্র করছে৷''

অডিও শুনুন 07:16

‘রসরাজের বিরুদ্ধে মামলা এবং রিমান্ড আইনসম্মত হয়নি’

রসরাজের বাড়ি নাসিরনগর সদর থেকে ১৬ কিমি. দূরে হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে৷ ২৮শে অক্টোবর তার ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা হয়৷ পরদিন ২৯ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে মারধোরের পর পুলিশে দেয়৷ তবে সেই সময়ই তার ফেসবুক থেকে পোস্টটি ডিলিট করে ক্ষমা চওয়া হয়৷ স্থানীয় এবং রসরাজের পরিচিতরা জানান, ‘‘রসরাজ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে৷ সে পেশায় একজন জেলে এবং হরিপুর ইউনিয়ন মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক৷''

নাসির নগরের স্থানীয় সাংবাদিক উজ্জ্বল চক্রবর্তী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছি৷ সোমবার সকালে পুলিশের তদন্তকারীরা আমাকে জানান, তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে রসরাজ ঐ বিক্রিত পোস্টটি দেননি৷ বরং প্রথম দিন থেকেই সে পোস্ট দেয়ার কথা অস্বীকার করে আসছিল৷ পুলিশ জানিয়েছে যে, কারা রসরাজের ফেসবুক ব্যবহার করে পোস্ট দিয়েছে তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তাদের আটেকের চেষ্টা চলছে৷ তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম আপাতত প্রকাশ করছে না৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘রসরাজের গ্রামের বাড়ি হরিণবেড়ে তার বাবা-মা ভাই-বোন সবাই ভয়ে অন্যত্র চলে গেছেন৷ কোথায় গেছেন কেউ বলতে পারে না৷ স্থানীয়রা জানান, ঐদিন রসরাজকে বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের কথা বলে বাড়িতে ডেকে আনা হয়৷ যে সময়ে ফেসবুক পোস্টের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে সে বিলে মাছ ধরছিল৷ তার একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে৷ তবে ফোনটি সে বাড়িতে রেখে মাছ ধরতে গিয়েছিল৷''

আটকের পর রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়ে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়৷ বিচারপতি মানিক বলেন, ‘‘প্রাথমিক তদন্ত না করে রসরাজের বিরুদ্ধে মামলা এবং রিমান্ড আইনসম্মত হয়নি৷ আদালতে তাকে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে দেয়া হয়নি৷ একজন আইনজীবী রসরাজের পক্ষে ওকালতনামা সই করে আদালতে দিলেও, আদালত তার ওকালতনামা গ্রহণ করেননি৷ শতাধিক আইনজীবী হই চই করে যা দাবি করেছেন, আদালত সেই অনুযায়ী কাজ করেছেন৷ আইনজীবী না থাকলে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আদালত তাকে কথা বলার সুযোগ দেন৷ কমপক্ষে জিজ্ঞেস করেন যে, সে দোষী না নির্দোষ৷ আদালত তাও জানতে চায়নি৷ এটা বেআইনি৷ তাই আমরা রসরাজের আটক এবং রিমান্ড হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷''

অডিও শুনুন 05:06

‘তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তারা যে রসরাজ ঐ বিক্রিত পোস্টটি দেননি’

উজ্জ্বল চক্রবর্তী জানান, ‘‘রসরাজের পক্ষে একজন মুসলিম আইনজীবী দাঁড়াতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তাকে অন্যান্য আইনজীবীরা বসিয়ে দেন৷ পুলিশ তদন্তে জানতে পেরেছে রসরাজের ফেসবুকের পাসওয়ার্ড আরো কয়েকজনের কাছে আছে৷ আর ক্ষমা চেয়ে যে পোস্টটি দেয়া হয়েছিল, তাও রসরাজ দেয়নি৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে আশুতোষ নামে তার এক আত্মীয় দেয়৷''

তিনি জানান, ‘‘হরিপুর বাজারের যে সাইবার ক্যাফের নাম এসেছে যেখান থেকে রসরাজের ফেসবুকে ছবি আপ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ তবে পুলিশ সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলেনি৷ সাইবার ক্যাফেটি ঘটনার পর থকে বন্ধ আছে৷''

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘‘২০১২ সালের অক্টোবরে রামুর বৌদ্ধপল্লী এবং মন্দিরে হামলার ব্যাপারে উত্তম বড়ুয়া নামে এক বৌদ্ধ যুবক ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছে বলে গুজব ছাড়ানো হয়েছিল৷ পরে দেখা যায় সে আদৌ কোনো পোস্ট দেয়নি৷ কিন্তু তারপরও গত চার বছর ধরে সেই বৌদ্ধ যুবকের কোনো খোঁজ নাই৷ তার পরিবার জানে না সে কোথায় আছে৷ আমরা তাই রসরাজের নিরপত্তা নিয়েও শঙ্কিত৷ এ কারণেই সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি তাকে আইনি সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷''

প্রসঙ্গত, নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর এই হামলার মধ্যেই খাগড়াছড়ি এলকায় ফেসবুক ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের একটি অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় পুলিশ৷ বুধবার রাতে আটক করে নাম সাগর হাসেন (২৫) নামে এক যুবককে৷

সাগর ফটোশপের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন একটি ছবি তৈরি করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি কুনেন্টু চাকমার নামে চালিয়ে দেয় তার ফেসবুকে৷ আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ৷ এ ঘটনায় সাগর হোসেনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়