1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

রবি থেকে কবি

রবীন্দ্রনাথের জীবন, চিন্তায় ও কাব্যে একটা ক্রম পরিণতির দিক আছে৷ রবীন্দ্রনাথ নিজেই সেটা সবচেয়ে ভালো বুঝতেন এবং নিজের কথাতেই বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন৷

Rabindranath Tagore (1861 - 1941) undatierte Aufnahme

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমার স্বর্গীয় পিতৃদেব ছিলেন প্রথম প্রহরের রবীন্দ্রভক্ত, একেবারে নজরুলের অগ্নিবীণা যখন বাজছে, ঠিক সেই আমলের৷ পরে শান্তিনিকেতনে অধ্যাপনা করেছেন৷ রবীন্দ্রচিন্তা করেছেন৷ সেই বাবা বলতেন, রবীন্দ্রনাথও নোবেল প্রাইজ পকেটে করে জন্মাননি৷ তার প্রমাণ কবির লেখাতেই আছে৷

যে কবির কাছে আসা প্রথম সাগর দেখার মতো, সেই কবিও যে একদিন বীজ ও অঙ্কুর থেকেই শুরু করেছিলেন, এক লাফে মহীরুহ হয়ে যাননি, এ'কথা উপলব্ধি করলে দু'পার বাংলার উঠতি কবিদের অনেক উপকার হতে পারে৷

সন্ধ্যা সংগীত দিয়েই শুরু করা যাক৷ কবি লিখছেন:

‘‘এই গ্রন্থাবলীতে আমার কাব্য রচনার প্রথম পরিচয় দিয়ে দেখা দিয়েছে সন্ধ্যা সংগীত৷ তার পূর্বেও অনেক লেখা লিখেছি কিন্তু সেগুলোকে লুপ্ত করার চেষ্টা করেছি অনাদরে৷ হাতের অক্ষর পাকাবার যে খাতা ছিল বাল্যকালে সেগুলিকে যেমন অনাদরে রাখিনি, এও তেমনি৷''

Rabindranath Tagore was a Bengali poet, novelist, musician, painter and playwright who reshaped Bengali literature and music. As author of Gitanjali with its profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, he was the first non-European to be awarded the Nobel Prize for Literature (1913). Bild: Hasibur Rahman (DW-Korrespondent) Aufnahmeort: Kushtia, Bangladesch Aufnahmedatum: 30. April 2011 Bilder geliefert von Arafatul Islam

কুষ্টিয়াতে কবিগুরুর বাসস্থান

প্রভাত সংগীতের ‘‘সূচনা''য় কবি নিজের ‘বিকাশোন্মুখ মন', ‘অপরিণত ভাবনা'র কথা বলেছেন৷ ছবি ও গান সম্বন্ধে বলছেন:

‘‘এটা বয়ঃ সন্ধি কালে লেখা, শৈশব যৌবন যখন সবে মিলেছে৷ ভাষায় আছে ছেলেমানুষি, ভাবে এসেছে কৈশোর৷ তার পূর্বেকার অবস্থায় একটা বেদনা ছিল অনুদ্দিষ্ট, সে যেন প্রলাপ বকে আপনাকে শান্ত করতে চেয়েছে৷এখন সেই বয়স যখন কামনা কেবল সুর খুঁজছে না, রূপ খুঁজতে বেরিয়েছে৷ কিন্তু আলো আঁধারে রূপের আভাস পায়, স্পষ্ট করে কিছু পায়না৷ ছবি এঁকে তখন প্রত্যক্ষতার স্বাদ পাবার ইচ্ছা জেগেছে মনে কিন্তু ছবি আঁকার হাত তৈরী হয় নি তো৷''

নিজের সমালোচনায় কবি কিন্তু মুহূর্তেই কড়ি এবং কোমল:

‘‘মোটের উপর অক্ষম ভাষার ব্যাকুলতায় সবগুলিতেই বানানো ভাব প্রকাশ পেয়েছে, সহজ হয়নি৷ কিন্তু সহজ হবার একটা চেষ্টা দেখা যায়৷ সেইজন্যে চলতি ভাষা আপন এলোমেলো পদক্ষেপে এর যেখানে সেখানে প্রবেশ করছে৷ আমার ভাষায় ও ছন্দে এই একটা মেলা-মেশা আরম্ভ হল৷ ছবি ও গান কড়ি ও কোমলের ভূমিকা করে দিল৷''

আর কড়ি ও কোমল সম্পর্কে কবির মন্তব্য?

‘‘যৌবন হচ্ছে জীবনে সেই ঋতু পরিবর্তনের সময় যখন ফুল ও ফসলের প্রচ্ছন্ন প্রেরণা নানা বর্ণে ও রূপে অকস্মাৎ বাহিরে প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে৷ কড়ি ও কোমল আমার সেই নব যৌবনের রচনা৷''

Screenshot der Seite tagoreweb.in Flash-Galerie Rabindranath Tagore ###Hinweis: Bild nur in Zusammenhang mit der Berichterstattung der Seite verwenden!###

বাকি থাকেন সাধক, জিজ্ঞাসু রবীন্দ্রনাথ? তাঁর সূচনা হল কোথা? মানসীর ‘‘সূচনা''য় কবি লিখছেন, গাজিপুরে এসে:

‘‘মন নিমগ্ন হল অক্ষুণ্ণ অবকাশের মধ্যে৷ আমার গানে আমি বলেছি - আমি সুদূরের পিয়াসী৷ পরিচিত সংসার থেকে এখানে আমি সেই দূরত্বের দ্বারা বেষ্টিত হলুম; অভ্যাসের স্থূল হস্তাবলেপ দূর হবামাত্র মুক্তি এলো মনোরাজ্যে৷ এই আবহাওয়ায় আমার কাব্য রচনার একটা নতুন পর্ব আপনি প্রকাশ পেলো৷... আমার কল্পনার ওপর নূতন পরিবেষ্টনের প্রভাব বারবার দেখেছি৷ এই জন্যেই আলমোড়ায় যখন ছিলুম আমার লেখনী হঠাৎ নতুন পথ নিল শিশুর কবিতায়, অথচ সে জাতীয় কবিতার কোনো প্রেরণা কোনো উপলক্ষ্যই সেখানে ছিল না৷''

মানসীতেই ছন্দের নানা খেয়াল দেখা দিতে শুরু করে, লিখেছেন কবি, কবির সঙ্গে শিল্পীর গাঁটছড়া পড়ে৷ কিন্তু মহাকালের সোনার তরীতে নিজের পাকা ফসল বোঝাই করার জন্য যে কবির জন্ম, তিনি কি বলেন?

‘‘...সোনার তরী লেখা আর এক পরিপ্রেক্ষিতে৷ বাংলা দেশের নদীতে নদীতে গ্রামে গ্রামে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছি, এর নূতনত্ব চলন্ত বৈচিত্র্যের নূতনত্ব৷... বাংলাদেশকে তো বলতে পারিনে বেগানা দেশ, তার ভাষা চিনি, তার সুর চিনি৷... সেই নিরন্তর জানাশোনার অভ্যর্থনা পাচ্ছিলুম অন্তঃকরণে, যে উদ্বোধন এনেছিল তা স্পষ্ট বোঝা যাবে ছোটো গল্পের নিরন্তর ধারায়৷ সে ধারা আজও থামত না যদি সেই উৎসের তীরে থেকে যেতুম৷ যদি না টেনে আনত বীরভূমের শুষ্কপ্রান্তরের কৃচ্ছ্রসাধনের ক্ষেত্রে৷''

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন