‘রক্ষকই যখন ভক্ষক, তখন জাতি কী আর আশা করবে?′ | পাঠক ভাবনা | DW | 02.03.2016
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাঠক ভাবনা

‘রক্ষকই যখন ভক্ষক, তখন জাতি কী আর আশা করবে?'

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের হাতে ছাত্রীরা অহরহ যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে৷ বিচারহীনতার কারণেই কি যৌন হয়রানি এভাবে বেড়ে চলেছে? হ্যাঁ, ডয়চে ভেলের বহু ফেসবুকবন্ধু কিন্তু এমনটাই মনে করেন৷

সম্প্রতি গাইবান্ধার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ক্লাসের মধ্যে যৌন হয়রানি করেন প্রধান শিক্ষক আয়নাল হক৷ এতে সাময়িকভাবে তাকে বরখাস্ত করা হলেও, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷

দেশে আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই৷ তাই উপায়ান্তর না দেখে ডয়চে ভেলের ফেসবুক বন্ধু অর্জুন বৈদ্যর পরামর্শ, ‘‘আমার মতে এইরকম বিচার না চেয়ে তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সকলে মিলে শাস্তি দেওয়া উচিত৷''

‘‘রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন জাতি এর থেকে কী আর আশা করতে পারে? আইন, বিচার, শাসন বিভাগের কাছ থেকে জাতি আজ দিশেহারা৷ নির্যাতনের শিকার ক্রমাগত বেড়েই চলছে৷'' বাংলাদেশের ছাত্রীদের প্রতি যৌন হয়রানি বেড়ে যাওয়ায় এই মন্তব্য পাঠক দেলোয়ার হোসেনের৷ দেলোয়ার বাংলাদেশের অপরাধীর শাস্তি বা বিচারের ব্যাপারে সত্যিই হতাশ৷

অপরাধমূলক অনেক ঘটনা নিরবে ঘটে যায়, যা কেউ জানেই না৷ তাই বিচারের তো কোনো প্রশ্নই আসে না৷ তাই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাদেকা হালিম ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘কোনো ঘটনা মিডিয়াতে আসলে তার বিচার হয়৷ কিন্তু ক'টি ঘটনাই বা মিডিয়াতে আসে? ফলে অধিকাংশ ঘটনারই কোনো বিচার হয় না৷ এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই যৌন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে৷ বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে স্কুল-কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হতো৷''

‘‘ঐ শিক্ষকগুলোকে ধরে সবার সামনে তাদের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া উচিত৷'' যেসব শিক্ষকরা ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন করেন, তাদের ওপর মোহাম্মদ আল-আমিন এতটাই ক্ষিপ্ত যে তিনি এভাবেই তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷

‘‘এ রকম শিক্ষকদের শিক্ষক বলা উচিত নয়, সে যোগ্যতা তারা হারিয়েছেন'', এমনটাই মনে করেন পাঠক মিষ্টি ঘোষ৷

এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত মো. ইসরাফিলের৷ তাঁর ধারণা, ‘‘যোগ্যতা ছাড়া দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ দিলে এমনই হবে৷''

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরা যেভাবে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন করছেন, তা জেনে ডয়চে ভেলের ফেসবুকবন্ধু সবুজ হাসানের শুধু একটাই কথা, ‘‘হায়রে দেশ, এটা খুবই দুঃখজনক!''

‘‘দেশে কোনো নীতি নাই৷'' এই সোজা মন্তব্য মঞ্জুরুল আলমের৷

এছাড়া ডয়চে ভেলের পাতায় শিশুদের যৌন হয়রানি বিষয়ক নানা তথ্য জেনে রাজু খান লিখেছেন, ‘‘অনেক সুন্দর একটা পেজ৷''

সংকলন: নুরুননাহার সাত্তার

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন