1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘রওশন এরশাদ বিরোধী দলীয় নেত্রী'

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদই হচ্ছেন দশম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী৷ বুধবার তিনি বলেন, ‘‘পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নির্দেশেই নির্বাচনে গেছি৷ তাঁর নির্দেশেই বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছি৷''

চেয়ারম্যান থাকতে তিনি কেন বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রওশন এরশাদ বলেন, ‘‘উনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই বিরোধী দলীয় নেতা হচ্ছেন না৷'' আর বিএনপি ছাড়া এই নির্বাচনকে কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সব দলের সমঝোতা হলে মধ্যবর্তী একটা নির্বাচন তো হতেই পারে৷''

এদিকে সদ্য শেষ হওয়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের (এমপিদের) নামের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে৷ বুধবার ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯০টি আসনের এই গেজেট প্রকাশ করা হয়৷ সহিংসতার কারণে ৮টি আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে৷ এছাড়া, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে যশোরের দু'টি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন৷ সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ নিতে হবে৷ তবে দেরি না করে বৃহস্পতিবারই নতুন এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান হবে বলে ডয়চে ভেলেকে নিশ্চিত করেছেন নবনির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য৷

জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে ফোন করে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তাঁকে শপথ নেয়ার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো, বর্তমান সংসদ বহাল রেখে নতুন এমপিরা কিভাবে শপথ নেবেন? তাহলে কি একটি আসনে দু'জন করে সংসদ সদস্য হবেন? কিভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে? এ সব ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে কিছুই বলা হয়নি৷

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম বলেছেন, বৃহস্পতিবারই শপথ নেবেন নতুন এমপিরা৷ তার আগে নবম সংসদের এমপিরা পদত্যাগ করবেন, না সংসদ ভেঙে দেয়া হবে – সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি তিনি৷ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব জয়নাল আবেদীনও বৃহস্পতিবার নতুন এমপিদের শপথ নেয়া কথা বলেছেন৷ তবে কিভাবে শপথ নেয়া হবে সে ব্যাপারে তিনিও কিছু বলেননি৷

অবশ্য আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি তো কোনো আইনি জটিলতা দেখছি না৷ আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, বৃহস্পতিবার শপথ হতে কোনো আইনি বাধা নেই৷ কারণ, শপথ অনুষ্ঠানের কিছুক্ষণ আগে নবম জাতীয় সংসদ ভেঙে দেবেন রাষ্ট্রপতি৷ আর নতুন সংসদ গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ট দলের প্রধানকে আনুরোধ জানাবেন৷ তাহলেই আর জটিলতা থাকবে না৷''

সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, কোনো জটিলতা না থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত একটা ব্যাখার প্রয়োজন রয়েছে৷ কারণ বিষয়টি ব্যাখা করে পরিষ্কার না করা পর্যন্ত এক ধরণের বিভ্রান্তি থেকে যাবে৷ বিভ্রান্তি দূর করেই শপথ অনুষ্ঠান করা উচিত বলে মনে করেন তিনি৷

এদিকে ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯২টি সংসদীয় আসনের ফলাফল চূড়ান্ত হলেও গেজেট হয়েছে ২৯০টি আসনের৷ এর কারণ, যশোরের দু'টি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রেখেছে কমিশন৷ নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে ঐ দু'টি আসনের গেজেট প্রকাশ করা হয়নি৷ ঐ আসন দু'টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছে৷ যশোর-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হলেন মনিরুল ইসলাম এবং যশোর-২ আসনের শেখ আফিল উদ্দীন৷ তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ দুই প্রার্থীকে আলাদাভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে৷ তাছাড়া, আগামী ১০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁদের৷ এছাড়া তাঁরা ইসির সামনে ব্যক্তিগতভাবে শুনানি দিতে চান কিনা, তাও জানাতে বলেছে কমিশন৷

প্রসঙ্গত, বিরোধী দল ছাড়া অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে ২৯২টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে৷ এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩২টি, জাতীয় পার্টি ৩৩টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ ৫টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি, তরীকত ফেডারেশন ১টি, নবগঠিত রাজনৈতিক দল বিএনএফ ১টি এবং স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা ১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়