1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যৌন অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখাটাই গর্বের

আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায় এখন বাংলাদেশের নারীরা চাকরি বা ব্যবসায় বেশি যুক্ত হচ্ছেন৷ মেয়েদের শিক্ষার হারও বাড়ছে৷ সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন বাড়ছে যৌন হয়রানির ঘটনা৷

default

প্রতীকী ছবি

সংবাদমাধ্যমে এ ধরণের অপরাধের খবর প্রায়ই চোখে পড়ে৷ এই তো কদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আনেন তাঁরই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে৷ পরে ঘটনার তদন্তের স্বার্থে শিক্ষা কার্যক্রমসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক৷ ভাবা যায়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এক ছাত্রী নিরাপদ নন তাঁর নিজের শিক্ষকের কাছেই! তাহলে অন্যদের যে কী অবস্থা তা তো বোঝাই যাচ্ছে৷

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান ইউএন-উইমেনের করা এক জরিপ বলছে, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ ছাত্রীই নাকি যৌন হয়রানির শিকার হন৷ আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি এ হার সবচেয়ে বেশি – প্রায় ৮৭ শতাংশ! এরপর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (৭৬ শতাংশ), বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় (৬৬ শতাংশ) এবং মেডিকেল কলেজ (৫৪ শতাংশ)৷

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেমন কর্মক্ষেত্রেও তেমনি নারীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন৷ তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত নারী শ্রমিকরা যেন এক্ষেত্রে একটু বেশিই বিপদে আছেন৷ অবস্থার উন্নয়নে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি-র উদ্যোগে ও হাইকোর্টের নির্দেশনায় ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন' শীর্ষক একটি খসড়া আইন তৈরি করে আইন কমিশন৷ সেটা প্রায় বছর চারেক আগের কথা৷ সম্ভবত এখনো তা আইনে পরিণত হয়নি৷

DW Bengali Mohammad Zahidul Haque

জাহিদুল হক

হাইকোর্টের ঐ নির্দেশনায় ১৬ ধরনের কর্মকাণ্ডকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷ এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতে অশালীন আচরণ, হয়রানি বা নিপীড়নমূলক উক্তি ও মন্তব্য বা ভঙ্গি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা৷ এছাড়া চিঠি, মোবাইল, খুদে বার্তাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যৌন ইঙ্গিতমূলক অপমানজনক কথা লেখা, চরিত্র হননের জন্য স্থির বা ভিডিওচিত্র ধারণ করা, প্রেমের প্রস্তাব করে প্রত্যাখ্যাত হয়ে হুমকি দেওয়া প্রভৃতি৷

অবশ্য আইন করে যে এসব অপরাধ বন্ধ করা যাবে তা নয়৷ ভারতে গত বছর থেকেই এ ধরণের একটি আইন কার্যকর রয়েছে৷ তবে সেটা পর্যাপ্ত মনে না হওয়ায় ইতিমধ্যে আইনটি সংশোধনের কথা উঠেছে৷

তবে এটা ঠিক আইন দিয়ে অপরাধ বন্ধ করা না গেলেও কিছুটা কমানো যেতে পারে৷ তাই আইনটা প্রণয়ন করা জরুরি৷ আইন কমিশন যেহেতু একটি খসড়া প্রকাশ করেছে সেহেতু সরকারের উচিত হবে এই আইন পাসে যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ নেয়া এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া৷

এছাড়া একজন কেন যৌন হয়রানির মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয় তা বিবেচনা করে দেখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে৷ ছোট থেকেই শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে হবে৷ এক্ষেত্রে শিক্ষকদের চেয়ে মা-বাবাকেই বেশি দায়িত্ব নিতে হবে৷ মা-বাবা যতটা যৌনতাকে ‘ট্যাবু'-র পরিধি থেকে বের করে এনে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে পারবেন ততই মঙ্গল৷ পারিবারিক শিক্ষা যৌন হয়রানি বন্ধে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে৷ এর সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি আরেকটু জোর দিয়ে যৌন বিষয়ক শিক্ষার প্রচলন করা যায় তাহলে আরও ভালো হবে৷

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে সেখানকার কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে৷ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধানের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো আচরণের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে৷

সর্বোপরি, ধূমপান করার চেয়ে না করে থাকতে পারাটা যেমন এক ধরনের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ, তেমনি যৌন হয়রানির মতো ঘৃণ্য অপরাধ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখাটাও গৌরবের বিষয় – মানুষ হিসেবে আমাদের সবাইকে এমন মনোভাব ধারণ করা শিখতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন