1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যৌথ তদন্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায় বাংলাদেশ

সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ আর ভারত যৌথ তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক৷ তাঁদের কথায়, ভারত অতীতে সীমান্ত হত্যা বন্ধে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি, কমেনি সীমান্ত হত্যা৷

বাংলাদেশের জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া সীমান্তে স্কুলছাত্র শিহাব উদ্দিন সজলকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১৪ই মে সাতজন বিএসএফ সদস্যকে ‘সাসপেন্ড' করা হয়৷ ভারতের কৃষ্ণনগর ১১৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট মাহেন্দ্র কুমার বানপুর হালদারপাড়া কোম্পানি কমান্ডার ইন্সেপেক্টর অনুভব আত্রাইয়াসহ ঐ সাত বিএসএফ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের এ আদেশটি দেন৷ এ ঘটনায় বিএসএফ-এর মহাপ‌রিচালক কে কে শর্মাও দুঃখ প্রকাশ করেন৷

এরপর ১৬ই মে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর মধ্যে ছয়‌ দিনব্যাপী স‌ম্মেলন শে‌ষে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ জানান, ‘‘বাংলাদেশ ও ভারতের ‌সীমান্তে হত্যার ঘটনায় দু'দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে৷''

সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলির বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, ‘‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা দেখা না দিলে বিএসএফ গুলি করে না৷ তবে কিভাবে এই গুলি করার বিষয়টি একেবারে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে৷''

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসেবে গত তিন বছরে বিএসএফ-এর হাতে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বেড়েছে৷ তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মোট ২৭ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ সদস্যরা৷ এদের মধ্যে ১২ জনকে গুলি করে এবং ১৪ জনকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়৷ এছাড়া আরো একজনকে কিভাবে হত্যা করা হয়, তা জানা যায়নি৷

আসক জানায়, ২০১৪ সালে হত্যা করা হয়েছিল ৩৩ জন বাংলাদেশিকে৷ এর মধ্যে গুলি ও নির্যাতন করে সমান সংখ্যক বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়৷ পরবর্তীতে, অর্থাৎ ২০১৫ সালে হত্যা করা হয় ৩৭ জনকে৷ এদের মধ্যে ২৫ জনকে গুলি এবং বাকিদের নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল৷

ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ-এর বৈঠকে এ কথাো জানানো হয় যে, গতবছরের ১লা আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বিএসএফ-এর গুলিতে মোট ২৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন৷

অডিও শুনুন 02:45

‘যেভাবেই হোক সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ হোক’

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সীমান্ত হত্যার তদন্ত দুই দেশ যৌথভাবে করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাই৷ তবে এখনও আস্থা রাখতে পারছি না৷ কারণ এর আগেও ভারত সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করাসহ আরো অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ কিন্তু তার কোনোটারই বাস্তবায়ন হয়নি, সীমান্ত হত্যা কমেনি৷''

তাই তিনি বলেন, ‘‘যৌথ তদন্তের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াটি বোঝো এবং বাস্তবে যে কাজটি শুরু হয়েছে তা দেখেই মন্তব্য করতে চাই৷ আমরা চাই যেভাবেই হোক সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যা বন্ধ হোক৷''

বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খানের কথায়, ‘‘এই যৌথ তদন্তের বিষয়টি আমরা কার্যকরভাবে দেখতে চাই৷ অতীতের নানা প্রতিশ্রুতির মতো এটাও যেন শুধুমাত্র একটা প্রতিশ্রুতি হয়েই থেকে না যায়৷''

প্রসঙ্গত, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ অবশ্য সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের যৌথ তদন্ত কিভাবে হবে, যৌথ তদন্ত দল কীভাবে কাজ করবে, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি৷ তাছাড়া এই যৌথ তদন্ত কবে থেকে শুরু হবে, তাও স্পষ্ট নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়