1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বিশ্বের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল

বার্লিন প্রাচীর পতন ও দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের ভিত্তি তৈরি হয়েছিলো শান্তিপূর্ণ মিছিলের মাধ্যমে৷ ঠিক ২৫ বছর আগে লাইপসিশ শহরে সেই আন্দোলন সাবেক পূর্ব জার্মানির মূলে ধাক্কা দিয়েছিল৷

১৯৮৯ সালের ৯ই অক্টোবর, অর্থাৎ ঠিক ২৫ বছর আগে সাবেক পূর্ব জার্মানির লাইপসিশ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এমন এক মিছিল, যার জের ধরে বিশ্ব ইতিহাসের গতি-প্রকৃতি বদলে যায়৷ এ দিন প্রায় ৭০,০০০ মানুষ ‘সোমবারের মিছিল'-এ অংশ নিয়েছিলেন৷ তাঁদের কণ্ঠে ছিল ঐক্য ও অহিংসার ডাক৷ পূর্ব জার্মান রাষ্ট্রের সংস্কারের দাবি করছিলেন তাঁরা৷ এমন অভূতপূর্ব ঘটনা এর আগে ঘটেনি৷ এত বড় সমাবেশের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারে নি কুখ্যাত পুলিশ ও ‘স্টাসি' গোয়েন্দা বাহিনী৷ এরপর সেই আন্দোলনের ঢেউ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে৷

ভিডিও দেখুন 04:47

কয়েক জন মানুষের নীরব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়, তার ফলে একে একে ভেঙে পড়ে বার্লিন প্রাচীর, পূর্ব জার্মান কমিউনিস্ট রাষ্ট্র এবং অবশেষে পূর্ব ইউরোপ সহ সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা৷ ফলে উধাও হয়ে যায় লৌহ যবনিকা, শেষ হয় শীতল যুদ্ধ৷ বদলে যায় পৃথিবীর ইতিহাস৷

বর্তমান জার্মান প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক নিজে সেই অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন৷ সাবেক পূর্ব জার্মানিতে খ্রিষ্টান লুথেরান সম্প্রদায়ের ‘প্যাস্টর' বা যাজক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন তিনি৷ পরে কুখ্যাত ‘স্টাসি' গোয়েন্দা বাহিনীর আর্কাইভ সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়ে তিনি এই কালো অধ্যায়ের খুঁটিনাটি অপরাধ বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করেছিলেন৷

বৃহস্পতিবার গাউক লাইপসিশ শহরে এক ভাষণে সেই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়ার ডাক দেন৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরাও৷ এই দেশগুলিও দুই জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলো৷ ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর সেই প্রক্রিয়া শেষ হবার পর এই দেশগুলিও একে একে কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পায়৷

১৯৮৯ সালে তৎকালীন পূর্ব জার্মান নাগরিকদের সাহসের প্রশংসা করেন গাউক৷ তাঁর মতে, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন সফল হলেও নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকলে চলবে না৷ সেই গণতন্ত্র কী ভাবে কাজ করছে, তার জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে৷ শুধু উগ্রবাদী, গোঁড়া ও বিকৃত মতাদর্শই গণতন্ত্রের জন্য হুমকি নয়, নাগরিকরা সেই গণতন্ত্রের মধ্যে প্রাণ সঞ্চার না করে চললে তার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে, বলেন জার্মান প্রেসিডেন্ট৷ তাঁর মতে, শুধু দেশের মধ্যে নয়, তার বাইরেও গণতন্ত্র রক্ষা করা জার্মানদের নৈতিক দায়িত্ব৷ কেউ নীরবে বাইরে থেকে হাত গুটিয়ে বসে রইলে সে নিজেই অন্যায়ের শিকার হয়ে পড়ে৷ অতএব গোটা বিশ্বে জার্মানির সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন আছে, বলেন ইওয়াখিম গাউক৷

এসবি/ডিজি (এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়