1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

যে ডাইনোসরের ডাকনাম ‘নরকের মুরগি’

উত্তর অ্যামেরিকা থেকে উদ্ধার করা কিছু জীবাশ্ম পাখির মতো দেখতে ডাইনোসরের বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ সুমেরীয় পৌরাণিক কাহিনিতে এক রাক্ষসের নামে এই ডাইনোসরের নাম রাখা হয়েছে ‘আনজু ওয়াইলেই’৷

অনেক গবেষণার পর ডাইনোসরটির পরিচয় নিয়ে বুধবার নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা৷ যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ডাকোটা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ‘আনজু ওয়াইলেই' নামের ডাইনোসরের জীবাশ্ম৷ জীবাশ্মটির মাথার আকৃতি অনেকটা পাখির মতো৷ এর দন্তবিহীন ঠোঁট রয়েছে৷ খুলিতে রয়েছে একটি অদ্ভুত ঝুঁটি৷ হাতে বড় ধারালো থাবা, দীর্ঘ পা এবং সেগুলো ছোট পালকে ঢাকা৷

বিজ্ঞানীরা জানালেন, উত্তর অ্যামেরিকায় প্রায় এক শতক আগে এ ধরনের ডাইনোসরের একটি হাড় পাওয়া গিয়েছিল, তখন থেকেই ঐ অঞ্চলে তাদের অনুসন্ধান চলছে৷ অন্তত ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব ছিল বলে জানালেন তাঁরা৷ গবেষক এমা শ্যাখনার বললেন, ‘‘আমি জানি না এরা কি গর্জন করত, হাসত, না দৌড়াত৷ কারণ এটা অদ্ভুত ধরনের একটি মুরগি যা একদম দৈত্যের মতো দেখতে৷''

প্যালিওন্টোলজিস্ট ম্যাট লামানা জানালেন, আনজু ওয়াইলেই ১১ ফুট লম্বা, এর উচ্চতা ৫ ফুট আর ওজন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি হতে পারে৷ একজন গবেষক জানালেন, ‘‘একে বর্ণনা করার জন্য নরক থেকে আসা মুরগি বা ‘দ্য চিকেন ফ্রম হেল' উপযুক্ত একটি নাম৷'' তিনি ডাইনোসরটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘আপনাকে যদি টাইম মেশিনে করে ডাইনোসর যুগের শেষ সময়ে নর্থ অ্যামেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন এই পাখিটিকে দেখে আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে – কী কিম্ভূত দেখতে একটা পাখি! সাধারণত ডাইনোসর বলতে যে চিত্রটি মানুষের চোখে ভেসে ওঠে, এটা তা থেকে একেবারেই ভিন্ন৷''

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ছোট ছোট পালক বিশিষ্ট এই ডাইনোসর থেকেই পূর্ণাঙ্গ পাখিদের রূপ বিকশিত হয়েছিল৷ যদিও প্রাচীন পাখির অস্তিত্ব অন্তত ১৫ কোটি বছর আগে পাওয়া যায়৷ তবে এই ডাইনোসরদের মেরুদণ্ডে বাতাস চলাচলের জায়গা রয়েছে এবং পায়ের হাড়ে আছে গর্ত৷

পালক সমৃদ্ধ ফসিল একেবারেই বিরল এবং আনজু ওয়াইলেই-র মতো মস্তিষ্কের এমন গঠন আজ পর্যন্ত কোনো ডাইনোসরের ফসিলে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা৷

এপিবি/এসবি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন