1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

যে চাষে জমি বাঁচে

চাষের জমি বা গরু চরানোর জমির অবনতি ঘটে নানা কারণে৷ অথচ এই অবনতি না রুখলে বিশ্বের তিন’শ কোটি মানুষ তাদের খাদ্যের উৎস হারাবে৷ একটি সমাধান হচ্ছে চাষিদের টেকসই চাষের পদ্ধতি শেখানো৷

চাষবাসের উর্বর জমি মানবসভ্যতার পক্ষে অপরিহার্য৷ বিজ্ঞানীরা কিন্তু দেখছেন, জমির গুণগত উৎকর্ষ কমে আসছে৷ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জমি এভাবে বিপন্ন৷ চাষের জমি, গরু চরানোর জমি বা বনজঙ্গল নষ্ট হওয়ার ফলে প্রায় তিন'শ কোটি মানুষের পেটে টান পড়তে পারে; বছরে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি ডলার৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ইওয়াখিম ফন ব্রাউন বলেন, ‘‘বিশ্বে জমির পরিস্থিতি শঙ্কাজনক৷ এবং তা ক্রমেই আরো খারাপ হচ্ছে৷ জমির উর্বরতা কমছে, কেননা জমির সযত্ন ও সুবিবেচক ব্যবহারের জন্য চাষিদের কোনো উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে না৷ অবকাঠামো আর শহর বাড়ায় ক্রমেই আরো বেশি জমি নষ্ট হচ্ছে৷ জমির অবনতি ঘটলে, সভ্যতা বাঁচবে না৷ ইতিহাস তা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে৷''

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন৷ জমির অবনতির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কিছু একটা করা না হলে, ভবিষ্যতে সেই জমি আবার ঠিক করার খরচ অনেক বেশি হবে৷ এটা একটা বিশ্বায়িত সমস্যা৷ ফন ব্রাউন বলেন, ‘‘বিশ্বের তিনটি বড় এলাকায় জমির খুবই অবনতি ঘটেছে: দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আর ল্যাটিন অ্যামেরিকার দক্ষিণাঞ্চল৷ এই হটস্পটগুলো আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আসলে এটা একটা গ্লোবাল প্রবলেম৷ উত্তর অ্যামেরিকা, রাশিয়া, চীনের উত্তরাঞ্চল, ইউরোপের কিছু অঞ্চল – যেমন স্পেন – এর ভুক্তভোগী৷''

সমস্যা ও সমাধান

জমির ক্ষয়ের কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা ব্যাপক, অ-টেকসই কৃষিকাজের কথা বলেছেন৷ কম জমিতে বেশি পশুপালন; জঙ্গল কেটে সাফ; কৃষিক্ষেত্র আর চারণভূমির পক্ষে হানিকর পদ্ধতিতে চাষবাস ও গোচারণ৷ শেষমেষ পানি বা বাতাসেও মাটি উড়ে যায়৷ ফন ব্রাউন বলেন, ‘‘জমির নবীকরণ সম্ভব – কিন্তু দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার পলি জমতে কয়েক দশক নয়, কয়েক শতক বা হাজার বছর সময় লেগে যেতে পারে৷ জমি আসলে কোনো নবায়নযোগ্য সম্পদ নয়৷''

বিশেষ করে দরিদ্ররাই জমি খারাপ হওয়ার ফলে সমস্যায় পড়েন, কেননা খাদ্যের দাম বাড়ায় তাদের পক্ষে সেই দাম দেওয়া আর সম্ভব হয় না৷ নয়ত ধনি-দরিদ্র, সকলেই প্রভাবিত হয়৷ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বাসস্থান বাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে৷ তবে আশা আছে, বিশেষ করে যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা যায়৷ ফন ব্রাউন-এর অভিমত, ‘‘আমরা যদি জমির অবনতি রোখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি, যেমন লাঙল না দিয়ে চাষ, টেকসই সেঁচ, কোন ফলের পর কোন ফলের চাষ, মাত্রাধিক নাইট্রোজেন ব্যবহার না করে সার প্রয়োগ – তাহলে এ সব পদক্ষেপের ব্যয় যতোই হোক না কেন, জমির অবনতি সামাল দিতে যে খরচ পড়বে, তা হবে এর পাঁচগুণ৷''

সেটা কিভাবে সম্ভব, তা দেখিয়েছেন উজবেকিস্তানের চাষিরা; বনের গবেষকরা এই প্রকল্পে তাদের সাহায্য করছেন৷ এক্ষেত্রে জমি বিশেষ তৈরি করার প্রয়োজন পড়ে না, নয়ত একাধিক ধরনের ফসল একসঙ্গে বোনা হয়৷ এর ফলশ্রুতি হিসেবে চাষের জমি শুকিয়ে যাওয়া অথবা ক্ষয়ের হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পায়৷ জমি বেশি চাষ করার দরকার হয় না বলে চাষিদের ডিজেলের খরচ বাঁচে, অথচ আরো বেশি ফসল হয়৷ এটা নাকি সারা বিশ্বে করা সম্ভব৷ ফন ব্রাউন-এর মতে, ‘‘চাষিরা যাতে টেকসইভাবে জমি ব্যবহার করেন, সেজন্য তাদের প্রেরণা দরকার৷ সেই প্রেরণা হবে জমির দীর্ঘমেয়াদি ইজারা অথবা সরাসরি মালিকানা৷ এছাড়া তারা যে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সুরক্ষার জন্য কাজ করছেন, পানির অপব্যবহার রোধ করছেন, সেজন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷''

জমি বা মাটি হলো এমন একটি প্রাকৃতিক সম্পদ, যা নিয়ে মানুষ সবচেয়ে কম মাথা ঘামায়৷ এখন জমির অবনতির বিরুদ্ধে কিছু একটা করার সময় এসেছে, নয়ত পৃথিবীতে দারিদ্র্য বাড়বে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আরো সমস্যাকর হয়ে দাঁড়াবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়