1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

যে কোনো উপায়ে ফরসা হওয়া চাই

ট্যানজিটিনিস সারা মুখে লাল কাদামাটি মেখেছেন৷ শুধুমাত্র ঠোঁট ও চোখের কাছটা বাদ রয়েছে৷ সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতেই এটা করেছেন তিনি৷ দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করেন তিনি৷ বয়স তাঁর ৩০-এর মতো৷

সারাদিন কড়া রোদে সবজি বাগানে কাজ করেন ট্যানজিটিনিস৷ আর তাই এই কাদামাটির প্রলেপ৷ এক ধরনের ‘সানক্রিম' আর কি! নিজের হাত দেখিয়ে বলেন তিনি, ‘‘দেখুন কত কালো৷ সূর্যের তাপে আরো কালো হয়ে যেতে পারে নাইজেরিয়ার মানুষদের মতো৷ আমি তা চাই না৷'' আর এ জন্য বাজার থেকে গিরিমাটি কেনেন এই তরুণী৷ খানিকটা আমাদের দেশের মুলতানি মাটির মতো৷ তবে এই মাটিতে রয়েছে আকরিক লোহা৷ এটা তিনি পানির সঙ্গে মিশিয়ে ‘পেস্ট' করে রোদে কাজ করার সময় মুখে মাখেন৷ এই পদ্ধতিটি তিনি শিখেছেন মায়ের কাছে৷ কৃষ্ণাঙ্গ জুলু জাতির এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ট্যানজিটিনিস৷

দারিদ্র্য পীড়িত গ্রাম

কয়েকটি কাঠের কুড়েঘর ও সাদামাটা সিমেন্টের বাড়ি নিয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর গ্রামটি৷ এখানকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা বড়ই কঠিন৷ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা৷ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিজেরাই তৈরি করেন৷ বিলাসিতার তো প্রশ্নই ওঠে না৷ কিন্তু তবু ট্যানজিটিনিসের কাছে দেখতে সুন্দর লাগাটা গুরুত্বপূর্ণ৷ এ জন্যে সূর্যের তাপ থেকে মুখটা বাঁচাতে চান তিনি৷ তাঁর মতে, ‘‘মুখটাই পুরুষদের চোখে পড়ে প্রথমে৷ আর গায়ের রং ফরসা হলে পুরুষরাও পছন্দ করেন৷ বিবাহিত হলে স্বামী গর্ববোধ করেন সুন্দরী স্ত্রী পাশে থাকলে৷ আর বাবারা খুশি হন সুন্দরী কন্যা ঘরে থাকলে৷''

দক্ষিণ আফ্রিকার লিমপোপো ইউনিভার্সিটির ফটোবায়োলজিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেভার্লি সামার বলেন, ‘‘এই মাটি সূর্যের তাপ থেকে ত্বককে রক্ষা করে৷ প্রতিদিন ব্যবহার করলেও এটি বিপজ্জন নয়৷''

Kosmetik in einem Laden in Swasiland

ফরসা হওয়ার কসমেটিক্স

সন্তুষ্ট নন আফ্রিকার মেয়েরা

কিন্ত এতেও সন্তুষ্ট নন আফ্রিকার মেয়েরা৷ তাঁরা কৌটার জিনিস, মানে কেনা জিনিস দিয়ে ফরসা হতে চান৷ দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলের এক শপিং সেন্টারে এলে বোঝা যায়, রূপচর্চার প্রতি আফ্রিকার মেয়েরা কীভাবে ঝুঁকে পড়েছেন৷ এক দোকানের জানালার শো-কেসে দেখা যাবে থরে থরে সাজানো ব্লিচিং ক্রিমের কৌটা৷ বিক্রিও হয় প্রচুর৷

প্যাকেটের ওপর লেখা আছে, এই ক্রিম মাখলে ত্বকের রঙ মিল্ক কফির মতো ফর্সা হবে৷ আর এসব বর্ণনার ফাঁদে পড়ে যান বহু মেয়ে৷ দোকানের বিক্রেতা বলেন, ‘‘অনেক মেয়েই এই ক্রিম কিনছেন, গতকাল ১০টিরও বেশি বিক্রি করেছি৷''

অনেক মেয়েই এই ক্রিমের ভক্ত

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী , দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি তিন জনে একজন মেয়ে এই ক্রিম কেনেন৷ নাইজেরিয়ায় তো এই সংখ্যা ৭৭ শতাংশ৷ এছাড়া এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং ভারতেও এই ক্রিমের জয়জয়কার৷ অনেক মেয়ে ২০ বছর ধরে প্রতিদিন এই ক্রিম ব্যবহার করছেন৷

ব্লিচিং ক্রিমে রয়েছে ‘হাইড্রোকুইনোন' নামে একটি রাসায়নিক যৌগ, যা ব্যবহার করা হয় ফটোর ডেভেলপিং-এর জন্য৷ নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকও ফ্যাকাশে হয়৷

তবে এই ক্রিমের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম নয়৷ বলেন বনের চর্ম চিকিৎসক উভে রাইনহোল্ড৷ তাঁর কথায়, ‘‘এতে ত্বকের প্রথম স্তর পাতলা হয়ে যায়৷ বহুদিন ব্যবহার করলে বলিরেখা বেড়ে যেতে পারে৷ হতে পারে সংক্রমণ, জ্বালাপোড়া, চুলকানি ইত্যাদি৷''

ইন্টারনেটের বিভিন্ন খবরাখবরে জানা গিয়েছে, এই ক্রিম ব্যবহারের ফলে ফোসকা পড়তে পারে, হতে পারে তীব্র যন্ত্রণা৷ এর ফলে দাগ থেকে যায় অনেক সময়৷ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নে হাইড্রোকুইনোন মিশ্রিত ক্রিম নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ তবে অন্যান্য দেশে ও ইন্টারনেটে এই ক্রিম কেনা যায়৷

চামড়ার রঙ বদলানো যায় না

ড. রাইনহোল্ড জানান, তাঁর কাছে কাছে কৃষ্ণাঙ্গ রোগীদের কেউ কেউ অনুরোধ করেন চামড়া ফরসা করার জন্য৷ ডাক্তারদের জন্য এক কঠিন পরিস্থিতি৷ ‘‘আমাদের কাছে ঝুঁকিহীন, সহজ কোনো পদ্ধতি নেই, যার মাধ্যমে তাঁদের এই ইচ্ছা পূরণ করা যায়'', বলেন এই চিকিৎসক৷ অসুখবিসু্খ বা কোনো সংক্রমণের কারণে কালো দাগ ওঠানোর জন্য এই ধরনের ওষুধ দিতে পারেন চিকিৎসকরা৷ তাও ব্যবহারের সময়সীমা বেধে দেওয়া হয় তিন মাস৷ ডা. রাইনহোল্ড জানান, ‘‘আমরা এই সব রোগীকে বুঝিয়ে বলি যে, মানুষ এভাবেই পৃথিবীতে এসেছে৷ একটি

নির্বাচিত প্রতিবেদন