1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

যেভাবে মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ানো যায়

ছোটবেলায় স্কুলে নামতা বা কবিতা মুখস্থ করতে হয়েছে অনেককেই৷ আজকাল কম্পিউটার আর স্মার্টফোনের যুগে প্রায় কিছুই মনে রাখার দরকার হয় না৷ কিন্তু স্মৃতিশক্তির প্রয়োজন মোটেই ফুরায়নি৷

আজকাল আর অচেনা শহরেও ঠিকানা মনে রাখতে হয় না৷ টেলিফোন নম্বর বা জন্মদিনও আলাদা করে মনে রাখার দরকার নেই৷ মস্তিষ্কের স্মৃতিভাণ্ডার এখন ‘আউটসোর্স' করা হচ্ছে স্মার্টফোন ও ডেটা গ্লাসের মধ্যে৷ মাথা খালি রাখাই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে৷ কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞানী বরিস কনরাড এই প্রবণতার বিপক্ষে৷ তাঁর মতে, ভালো স্মৃতিভাণ্ডার পেশাগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি৷ কনরাড বলেন, ‘‘স্কুলে থাকতে মনে হতো শেখার সীমা আছে৷ কখনো ভাবি নি, যে আমি নিজেই নিজের স্মৃতিভাণ্ডারের ক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারি৷''

বরিস কনরাড-এর স্মৃতিশক্তি বেশ প্রখর৷ তবে গিনিস বুক অফ রেকর্ড-এ স্থান পেতে তাঁর কোনো অসাধারণ ক্ষমতার প্রয়োজন হয়নি৷ সবটাই পেরেছেন অনুশীলনের কল্যাণে৷ তিনি বলেন, ‘‘যে কেউ, মানে যে কোনো সুস্থ মানুষ এটা করতে পারে৷ প্রতিভা বা বয়স কোনো বাধা নয়৷ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তির যথেষ্ট উন্নতি সম্ভব৷''

বিশ্ব স্মৃতিশক্তি চ্যাম্পিয়ন ৫২টি তাসের বিন্যাস মুখস্থ করতে চান৷ সাধারণ মানুষের কাছে যা অসম্ভব মনে হয়, তাঁর কাছে সেই বিষয়টি মোটেই অস্বাভাবিক নয়৷ শেখার প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের কাছে কাজের মতো৷ প্রতিটি নতুন তথ্য স্নায়ুকোষগুলির মধ্যে পথগুলি সম্প্রসারণ করে ডেটা হাইওয়ে সৃষ্টি করে৷ তার যত ব্যবহার হয়, ভবিষ্যতে তত দ্রুত জ্ঞানের নাগাল পাওয়া যায়৷

তাসের পরীক্ষার জন্য কনরাড-এর এক বিশেষ কায়দা আছে৷ একবার দেখে নিয়ে তিনি শুধু স্মৃতিশক্তি কাজে লাগিয়ে সব তাস আগের মতো হুবহু সাজিয়ে ফেলতে পারেন৷ এমন অসাধারণ কাজ করতে হলে মস্তিষ্ককে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে কাজ করতে হয়৷ তাস মুখস্থ করতে কনরাড-এর রেকর্ড ৩০ সেকেন্ড৷ একেবারে ক্রমানুসারে তাস সাজিয়েছেন তিনি৷ কোনো ভুল হয় নি৷ এর জন্য জিনিয়াস হবার দরকার নেই, অত্যন্ত সহজ উপায়ে এটা করা সম্ভব৷ বরিস কনরাড বলেন, ‘‘সব ধরনের মেমারি ট্রেনিং-এর ভিত্তি একই৷ সেটা হলো ছবির মাধ্যমে ভাবা৷ তাতে বাড়তি অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে৷ ফলে বেশি জিনিস মনে রাখা সম্ভব৷''

কিন্তু ৫২টি তাসের বিন্যাস মনে রাখার উপায় কী? কনরাড প্রতিটি তাসের জন্য মনে আলাদা ছবি তৈরি করেন৷ সেগুলি দিয়ে একটি রুট তৈরি করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথম তাসটি রুইতনের ৫৷ তার জন্য আমি স্ট্যাচুর হিরোকে কল্পনা করলাম৷ সে একচাকা সাইকেলে দাঁড়িয়ে৷ তারপর এল হরতনের ৯৷ তার জন্য আমি সিঁড়ির ছবি বেছে নিলাম৷ কল্পনা করলাম, সিঁড়িতে বসে কেউ চুমু খাচ্ছে৷ তারপর এলো হরতনের ৩, যেটা কানের মতো দেখতে৷ কল্পনা করলাম, দেয়াল থেকে অনেক কান বেরিয়ে আছে৷ এভাবেই বাকিগুলিও ছবি তৈরি হয়৷''

এ এক অসাধারণ সাফল্য, সবারই অনুকরণের যোগ্য৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক