1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

যেখানে হাতি-গরুতে এক ঘাটে জল খায়

আমোবোজেলি ন্যাশনাল পার্কে যেমন থাকে হাতিরা, তেমন থাকে মাসাইরা, তাদের গরুর পাল নিয়ে৷ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান৷ এখানে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল না খেলেও, হাতি-গরুতে জল খায়৷ সে-ও তো এক স্বর্গ, নয় কি?

অ্যান্টেনা নিয়ে খোঁজ চলেছে ১২টি হাতির একটি হাতির, যার গলায় একটি জিপিএস ট্রান্সমিটার ঝোলানো আছে৷ ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার নিধির ইভান মকালা দেখালেন, ‘‘ঐ দেখুন – যে হাতিটা অন্যদের থেকে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে, ও-ই হলো কিমানা নামের পুরুষ হাতিটা৷''

তরুণ হাতিটির গলায় ছয় কিলো ওজনের ট্রান্সমিটার ঝোলানো থাকলেও, তার কোনো অসুবিধা হয় না – কেননা তার ওজন হলো পাঁচ টন! মকালা জানালেন, ‘‘হাতিরা দলে থাকতে ভালোবাসে, যেমন বড় পুরুষ হাতিরা, তেমন তরুণ হাতিরা৷ মাদি হাতিরা আর বাচ্চারা একসঙ্গে থাকে৷

ভিডিও দেখুন 03:49

‘হাতি আর পশুপালন খুব ভালো খাপ খায়’

পুরুষ হাতিরাও ছোট-বড় দল করে একসঙ্গে থাকতে ভালোবাসে৷ এই হাতিটা ওদের মাঝখানে রয়েছে – এছাড়া রয়েছে আরো কম বয়সি হাতিরা, যেমন ঐ ছোট্ট হাতিটা, যে পিছনে দৌড়াচ্ছে৷ ও বেচারা সদ্য দঙ্গলে যোগ দিয়েছে৷ এখন ও বড় হাতিদের কাছ থেকে শিখবে, কী করে হাতির দলের মাঝখানে ‘বিগ বুল' হওয়া যায়৷''

হাতিদের চলাফেরা দেখলে বোঝা যায় যে, কিমানা যখন ন্যাশনাল পার্ক ছেড়ে যায়, ও শুধু তানজানিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত যায়, তার ওপারে নয়৷ তারপর ও ঘুরে দাঁড়ায়, ফিরে আসে, যেন ও জানে যে, তানজানিয়ায় হাতি শিকার নিষিদ্ধ নয়৷

আমবোজেলি ন্যাশনাল পার্ক খুব বড় নয়, মাত্র ৩৯০ বর্গমিটার৷ কিন্তু তার পারিপার্শ্বিক ও পরিবেশ আয়তনে এর ২০ গুণ বেশি৷ আমবোজেলির অববাহিকায় মোট ১,৪০০ হাতির বাস৷ সন্ধ্যায় তারা পার্কের এলাকা ছেড়ে বেরোয় খাদ্যের সন্ধানে, আর সকালে পার্কে ফেরে সেখানে পানি আছে বলে৷

মাসাইদের গরুর পালের ক্ষেত্রেও সে-কথা প্রযোজ্য৷ মকালা বলেন, ‘‘হাতি আর পশুপালন খুব ভালো খাপ খায়৷ হাতি আর গরু, দু'টি প্রাণীই তৃণভোজী; ওরা একসঙ্গে খায়, ঘোরে-ফেরে৷ আমি নিজে ওদের একসঙ্গে শান্তিতে চরতে দেখেছি, কোনো সমস্যাই নেই৷''

এই গরুর পাল হলো মাসাইদের সব৷ কে বড়লোক, কে গরিব, তার মাপ হলো, কার কত গরু আছে৷ মাসাইদের বাড়ির দেয়াল তৈরি হয় মাটির সঙ্গে গোবর মিশিয়ে৷ তবে মাসাইদের সময় ভালো যাচ্ছে না৷ মাসাই কিশোর গিডিয়ন সাইতাবু সিনিয়োক-এর বয়স ১৬, তার স্কুলে যাবার ইচ্ছে, কিন্তু স্কুলে যাবার সামর্থ্য নেই৷

গিডিয়ন বলে, ‘‘এ গাঁয়ে অনেক পরিবারের বাস৷ আমরা সকলে মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে থাকি, গরু পুষি৷ কিন্তু এখন আকাল চলছে৷ ২০০৮-০৯ সালে অনেক গরু মরে গেছে৷ আকালের আগে কোনো কোনো মাসাই-এর এক হাজারের বেশি গরু থাকত৷ আজ তা কমে দশটা গরুতে দাঁড়িয়েছে৷''

মাসাই পুরুষরা গরুর পালের দেখাশোনা করেন, বাকিটা হলো মহিলাদের কাজ৷ গিডিয়নের মা সাফারিতে আসা টুরিস্টদের মালা, পুঁতি ইত্যাদি বিক্রি করে তাঁর আট সন্তানকে একা মানুষ করছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও