1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

যুদ্ধ না অভিশাপ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সম্ভ্রম হারিয়েছেন অনেক নারী৷ যুদ্ধের তিন বছর জাপানি সেনাদের হাতে নির্যাতিতা এক নারী লি ওক-সিয়ন, যিনি সম্প্রতি জার্মানি এসে যুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া দুঃসহ সব স্মৃতি তুলে ধরেছেন৷

লি ওক-সিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত বহনকারী এক নারী৷ ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপের একটা অংশ ছিল জাপানের আওতায়৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীনের একটি পতিতালয়ে ১৪ বছর বয়সি লি ওক-সিয়নকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে আটকে রেখেছিল জাপানি সেনারা৷ দীর্ঘ তিন বছর তাঁর উপর চলে পাশবিক নির্যাতন৷ অথচ কোরীয় সেই নারীই এখন প্রতিবাদের অনন্য রূপ হয়ে উঠেছেন৷

দুঃস্বপ্নের দিনগুলি

১৯৪২ সাল৷ বুসানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি শহরে তখন থাকতেন লি ওক-সিয়ন৷ ঠিক বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে একদল মানুষ তাঁকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং একটি পতিতালয়ে তথাকথিত ‘স্বস্তির জায়গা' বা ‘কমফর্ট জোন'-এ তাঁর আশ্রয় হয়৷

যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন তাঁর উপর চলে জাপানি সেনাদের যৌন নির্যাতন৷ তখনও কিন্তু তিনি ভাবতে পারেননি যে বাকি জীবনে কখনো তিনি আর তাঁর পরিবারের দেখা পাবেন না, এমনকি ৬০ বছরেও তাঁর মাতৃভূমিতে মাটি স্পর্শ করতে পারবেন না তিনি৷

Das Bild zeigt die Südkoreanerin Lee Ok-Seong, die als eine von rund 200.000 Trostfrauen während des zweiten Weltkrieges in japanischen Militärbordellen als Sexsklavin gehalten wurde. Die Fotos stammen von dem Fotografen Tsukasa Yajima, bei ihm liegt auch das Copyright. Er ist einverstanden, dass wir die Fotos im Rahmen der Berichterstattung über Frau Lee benutzen.

কিভাবে কোরিয়ায় ফিরে যাবেন তাও জানতেন না

চীনের কাছে জাপানের আত্মসমর্পণের ৭০ বছর পর ৮৬ বছরের এই বৃদ্ধা তাঁর কাহিনি জানাতে এসেছিলেন জার্মানিতে৷ দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা একাধারে বর্ণনা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না৷ কিন্তু যে সারসংক্ষেপ তিনি বললেন, তার ভয়াবহতা বিশাল৷ তাঁর মতে, সেই পতিতালয়ে কোনো মানুষের থাকার জায়গা হতে পারে না৷ এটি ছিল একটি কসাইখানা৷ সেই তিনটা বছরই যে তাঁর সারাজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে৷

সেবাদাসী নাকি পতিতা

লি ওক-সিয়ন একা নন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর মতো কত নারী যে এমন দুঃসহ জীবন কাটিয়েছেন, তার হিসেব মেলা ভার৷ জার্মানির পোটসডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ বার্নড স্ট্যোভার জানালেন, সংখ্যাটা ২ লাখেরও বেশি৷ তবে এটা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়৷

এটা কেবল কোরীয় উপদ্বীপের ঘটনাই নয়, চীন, মালয়েশিয়া এবং ফিলিপাইনেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আহুতি দিয়েছিলেন এমন অনেক নারী৷ জাপানি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব পতিতালয়ে বেশিরভাগ অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের এনে তাঁদের উপর চলতো নির্যাতন৷ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এঁদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই যুদ্ধের আগে মৃত্যুবরণ করেছিলেন৷

লজ্জার অধ্যায়

কেবল যৌন নির্যাতনই হয়, মারধোরের পাশাপাশি চলত চাকু ও ছুড়ি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন৷ লি ওক-সিয়ন স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে বললেন, যেসব মেয়েকে সেখানে রাখা হতো, তাঁদের বয়স ১১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে এবং সেই নরক থেকে আর কেউ বাঁচতে পারবেন না বলে বদ্ধমূল ধারণা জন্মেছিল তাঁদের৷ বর্হিবিশ্ব থেকে তাঁরা একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানালেন লি৷ অনেক মেয়েই আত্মহত্যা করেছিলেন, কেউ পানিতে ডুবে অথবা গলায় ফাঁস দিয়ে৷ তিনিও এমনটিই ভেবেছিলেন, কিন্তু এটা বলা যতটা সহজ ছিল করাটা বেশ কঠিন ছিল বলে জানালেন তিনি৷

Das Bild zeigt die Südkoreanerin Lee Ok-Seong, die als eine von rund 200.000 Trostfrauen während des zweiten Weltkrieges in japanischen Militärbordellen als Sexsklavin gehalten wurde. Die Fotos stammen von dem Fotografen Tsukasa Yajima, bei ihm liegt auch das Copyright. Er ist einverstanden, dass wir die Fotos im Rahmen der Berichterstattung über Frau Lee benutzen.

কোরীয় এই নারী এখন প্রতিবাদের অনন্য রূপ হয়ে উঠেছেন

তাই লি ওক-সিয়ন অপেক্ষা করছিলেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার৷ ১৯৪৫ সালের শেষে, যুদ্ধ যখন প্রায় শেষের দিকে, পতিতালয়ের মালিক উধাও হলেন৷ তখন লি হঠাৎ করেই অনুভব করলেন যে তাঁরা মুক্ত এবং কী করবেন তা ভেবে পাচ্ছিলেন না৷ কারণ তাঁদের কাছে অর্থ ছিল না, ছিল না মাথা গোঁজার ঠাঁই৷ কিভাবে কোরিয়ায় ফিরে যাবেন তাও জানতেন না৷ এ অবস্থায় কিভাবে দেশে ফিরে যাবেন?তাঁর জন্য পুরো ব্যাপারটাই যে অত্যন্ত লজ্জাজনক৷ তাঁর মনে হতো, তাঁর মুখেই লেখা আছে তিনি কে, আর সে কারণেই দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল তাঁর মন থেকে৷

চীনে নতুন জীবন

কিছুদিন পর চীনেই এক কোরীয় নাগরিকের দেখা পেলেন লি ওক-সিয়ন৷ যিনি তাঁকে বিয়ে করলেন কেবল তাঁর মাতৃহীন সন্তানদের দেখভালের জন্য৷ লি ওক-সিয়নের মা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না৷ কেননা পতিতালয়ে থাকার সময় সিফিলিসে আক্রান্ত হওয়ায় জীবন বাঁচানোর জন্য তাঁর জরায়ু কেটে ফেলা হয়েছিল৷ বহুদিন তিনি পায়ের ওপর ভর দিয়ে হাঁটতেও পারতেন না৷ বেশ কয়েক দশক এভাবেই কাটাতে হয়েছে তাঁর৷

এ ধরনের বেশিরভাগ নারীর জীবনই অনেকটা একইরকম৷ বেশিরভাগ নারীই অতীতের কথা ভুলে বর্তমানে বাঁচতে চাইতেন৷ ভাবতেন পুরোনো সেইসব ভয়াবহ দিনের কথা প্রকাশ পেলেই লজ্জায় পরতে হবে৷ স্ট্যোভারের মতে, এ সময় বেশিরইভাগ নারীই যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নিতেন৷ অনেকটা বাধ্য হয়েই, কেননা সমাজের সমর্থন পেতেন না তাঁরা৷

তবে ১৯৯১ সালে প্রথম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নির্যাতিত নারীদের নিয়ে জনসমক্ষে কথা বলা শুরু হয়৷ কথা বলেন এক নির্যাতিতা নারী৷ নির্যাতিত ২৫০ জন নারীকে নিয়ে জাপান সরকারকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়৷ এরপর থেকে প্রতি বুধবার এসব নারী এবং তাঁদের সমর্থকরা সৌলে জাপানি দূতাবাসের সামনে তাঁদের দাবিতে অবস্থান নেন৷

১৯৯৩ সালে জাপান সরকার একটি গবেষণা করে এবং তাদের প্রকাশিত রিপোর্টে এসব নারীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং জাপানি সেনাবাহিনীর কৃতকর্ম তুলে ধরা হয়৷ পরে অবশ্য স্বতন্ত্র কয়েকটি ঘটনায় জাপান সরকার কথায় ক্ষমা চাইলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এই নারীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি৷ তাই পরবর্তীতে এই নারীদের সহায়তায় তহবিল গঠন করা হলেও কখনোই সেই অর্থ পাননি তাঁরা৷ এমনকি ২০০৭ সালে জাপানের সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেয় যে, তাঁরা নাকি কখনোই ক্ষতিপূরণ দাবি করেননি৷

২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিনঝো আবে বলেছিলেন, পতিতালয়ে এসব নারীদের যে জোর করে পাঠানো হয়েছিল, এর কোনো প্রমাণ নেই৷ একথা বলার পর অবশ্য এই বিবৃতির জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি৷ এ বছরের শুরুতে ওসাকার গভর্নর তরু হাশিমোতো সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সেনাবাহিনীর মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখতে যুদ্ধের সময় সেনাদের সেবার জন্য এসব নারীদের প্রয়োজন৷

একাকী দেশে ফেরা

লি ওক-সিয়ন এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন৷ ২০০০ সালে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের দেশকে জানতে এবং সেখানকার জনগণকে নিজের কাহিনি জানাতে তিনি সেদেশে পাড়ি দেন৷ তিনি এখন একটা বাসা ভাড়া করে অন্য একজনের সাথে একই ঘরে থাকেন৷ পুরোনো যৌন কর্মীদেরও সেখানে থাকতে দেয়া হয়৷ তবে প্রথমবারের মতো সেখানে মানসিক সমর্থন পেয়েছেন বলে জানালেন তিনি৷ শুধু তাই নয়, অবশেষে দেশে যাওয়ার জন্য নতুন পাসপোর্টও পেয়েছেন লি ৷ কিন্তু সেখানে গিয়ে জানলেন, তাঁর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই৷ তাঁর এক ভাই থাকলেও, সবকিছু জানার পর সেও কিন্তু লি ওক-সিয়নের প্রতি কোনো আগ্রহ দেখায়নি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়