1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত আলীমের মৃত্যু

যুদ্ধাপরাধ মামলায় আমৃত্যু কারাণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীম চিকিত্‍সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন৷ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে প্রিজন সেলে চিকিত্‍সাধীন ছিলেন৷

Abdul Alim

আব্দুল আলীম (ফাইল ফটো)

হাসপাতালের পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভূঁইয়া জানান, শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি মারা যান৷ আর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ফরমান আলীও তার মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন৷

তিনি বলেন, ‘‘শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে ফুসফুস থেকে পানি বের করা হয়েছিল৷ এই কয়দিন তিনি লাইফ সাপোর্টেই ছিলেন৷ শনিবার সোয়া ১টায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দিলে চিকিত্‍সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷''

এদিকে আলীমের মরদেহ শনিবার হিমঘরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান৷ তিনি বলেন, ‘‘রোববার একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে৷''

তবে আব্দুল আলীমের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের আবেদন করেছেন৷ আলীমের ছেলে খালিদ বিন আলীম জানান, যেহেতু চিকিত্‍সক জানিয়ে দিয়েছেন ক্যান্সারের কারণে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে, তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছি৷ এখন দেখা যাক কি হয়৷

তিনি জানান, লাশ পেলে বনানীতে একটি জানাজা করে জয়পুরহাট নিয়ে যাওয়া হবে৷

তবে কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, চিকিত্‍সকরা জানিয়েছেন আব্দুল আলীম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন৷ তবে আইন অনুযায়ী ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই৷ এ জন্য উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে৷ নির্দেশনা পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের নেতা হিসাবে একাত্তরে জয়পুরহাটে রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানোর দায়ে আলীমকে গত বছরের ৯ই অক্টোবর আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল৷ তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগের নয়টি আদালতে প্রমাণ হয়েছে৷ হত্যা, গণহত্যার মতো অপরাধে ‘মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য হলেও' বয়স ও পঙ্গুত্বের কথা বিবেচনায় নিয়ে ৮৩ বছর বয়সি এই যুদ্ধাপরাধীকে বাকি জীবন কারাগারে কাটানোর এই সাজা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২৷ বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে রায়ের দিন থেকেই তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছিল৷

মামলা ও রায়

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১১ সালের ২৭ মার্চ জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে আলীম গ্রেফতার করা হয়৷ ৩১শে মার্চ তাকে ১ লাখ টাকায় মুচলেকায় আর ছেলে ফয়সাল আলীম ও আইনজীবী তাজুল ইসলামের জিম্মায় জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল৷ এরপর কযেক দফায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোয় ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ছেলের বাড়িতেই ছিলেন৷

গত বছরের ১৫ই মার্চ আলীমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন, যাতে হত্যা, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৮টি অভিযোগ আনা হয়৷

গত বছরের ১১ জুন ৭ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১৭টি অভিযোগে আলীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়৷ চলতি বছরের ২২শে অগাস্ট প্রসিকিউশনের ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়৷

অন্যদিকে আসামিপক্ষে তার ছেলে সাজ্জাদ ছাড়াও সাক্ষ্য দেন জয়পুরহাটের বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ চৌধুরী ও মো. মোজাফফর হোসেন৷ সাফাই সাক্ষ্য চলে ২৭শে আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত৷ ৪ঠা সেপ্টেম্বর থেকে ২২শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গতবছরের ৯ই অক্টোবর মামলার রায় হয়৷

মুসলিম লীগ থেকে বিএনপি

১৯৩০ সালের ১লা নভেম্বর জয়পুরহাটে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল আলীম৷ তার বাবা আবদুল ওয়াহেদ ছিলেন জয়পুরহাট শহরের থানা রোডের ইসলামিয়া রাইস মিলের মালিক৷ আদি বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় হলেও দেশ বিভাগের পর ১৯৫০-৫১ সালে তাদের পুরো পরিবার তখনকার জয়পুরহাটে চলে আসে৷

১৯৫৮ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেয়ার চার বছরের মাথায় দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি৷১৯৭১ সালে তার নেতৃত্বে শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ব্যাপক ধরপাকড়, লুটপাট, নির্যাতন এবং হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটায়৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দালাল আইনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিল আলীমের বিরুদ্ধে৷

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর এবং ১৯৭৭ সালে দুই দফা জয়পুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলীম৷ ১৯৭৯, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷ জিয়াউর রহমানের সরকারে প্রথমে বস্ত্রমন্ত্রী এবং পরে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন আলীম৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়