1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান মিলি রহমান

মতিউর রহমান ছোটবেলা থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন৷ তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন তিনি৷ সেসময় নরসিংদিতে নিজের এলাকার মানুষদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এই সেনা৷

default

কিন্তু একসময় মতিউর রহমান মনে করলেন, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে একটি বিমান বড় প্রয়োজন৷ সেই চিন্তা থেকেই ফিরে গেলেন কর্মস্থলে, করাচিতে৷ এরপর একটি জঙ্গি বিমান দখল করে দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষায় থাকলেন মতিউর৷ ২০ আগস্ট আসল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, করাচির মৌরিপুর বিমান ঘাঁটি থেকে একটি জঙ্গি বিমান নিয়ে উড়াল দিলেন এই সাহসী সেনা৷

সেদিন সকালে স্ত্রী মিলি রহমান বিদায় জানাতে পারেননি মতিউরকে৷ মিলির জন্য তা ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা৷ আজ চল্লিশ বছর পরও তাই সেদিনের ঘটনার ব্যাখ্যা খোঁজেন এই নারী৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, আমি সেদিন (২০ আগস্ট) তাকে খোদা হাফেজ বলতে পারিনি, যা আমি নিয়মিত বলতাম৷ আমি খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম এই নিয়ে৷

বিমান দখল, উড়াল

চরম সাহসিকতার সঙ্গে জঙ্গি বিমান দখলে সফল হলেও শেষ অবধি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেননি মতিউর৷ ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় তাঁর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়৷ মতিউরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বিস্ফোরণ স্থলের আধা মাইল দূর থেকে৷ মিলি ২০ আগস্ট দুপুরেই বুঝতে পরেছিলেন, তাঁর স্বামী জঙ্গি বিমান দখলে সফল হয়েছে৷ কিন্তু তখনও জানতেন না, তাঁর স্বামী শহীদ হয়েছে৷ এই ঘটনার পর মিলিকে আটক করে পাকিস্তানি সেনারা৷ তিনি বলেন, ২০ তারিখ সারা দিন গেল, ২১ তারিখ সারাদিন গেল, সন্ধ্যার সময় আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো এবং আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো তাঁর দেহাবশেষ দেখানোর জন্য, মর্গে৷

মিলির দেশে ফেরা

মিলি জানান, আটক অবস্থায় পাকিস্তানিরা তাঁর উপর মানসিক নির্যাতন চালায়৷ একটি অন্ধকার কুঠুরিতে তাকে বন্দি করে রাখে দিনের পর দিন৷ এভাবে মানসিক নির্যাতন আর জেরার পর একসময় ছাড়া পান মিলি৷ সন্তানসহ ফিরে আসেন বাংলাদেশে৷ তাঁর কথায়, ২৩ দিন একটা কালো ছোট কুঠরিতে বন্দি ছিলাম৷ প্রতিদিন আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ এক পর্যায়ে তারা হয়তো যা চেয়েছিল তা পেয়ে যায়৷ ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ তারা আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়৷

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানকে৷ কিন্তু তাঁর সমাধি থেকে যায় পাকিস্তানে৷ একাত্তর পরবর্তী সময়ে মিলি রহমান চেষ্টা করেন মতিউর রহমান এর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে৷ ২০০৬ সালের জুন মাসে তাঁর দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়৷ এরপর মতিউর রহমানকে পূর্ণ মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়৷

যুদ্ধাপরাধের বিচার

বর্তমানে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন মিলি রহমান৷ তাঁর এখন একটাই চাওয়া, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার৷ দেরিতে হলেও সেই বিচার হবে এমনটা প্রত্যাশা এই মহীয়সী নারীর৷ তিনি বলেন, ঐ যে দালাল আইনটা তুলে দিয়ে সমস্ত রাজাকারকে ছেড়ে দেওয়া হলো, সেটাতেই আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেল সবচেয়ে বেশি৷ এর ফলে আমরা রাজাকারদের পুর্নপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিলাম৷ সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আজকে তারা এই পর্যায়ে আসছে৷

তিনি বলেন, আমরা এখনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারিনি৷ শুধুমাত্র তাদের কারণে৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন