1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মুক্তিযুদ্ধ

যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার চান মুক্তিযোদ্ধা ইলা দাস

নরসিংদী-ভৈরব অঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিয়ে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযানে অংশ নেন বীর সাহসী নারী ইলা দাস৷ ২০১০ সালে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ইলা দাসকে৷ যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার হোক এটিই তাঁর দাবি৷

default

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

ঢাকার সূত্রাপুরে জন্ম সাহসী নারী ইলা দাসের৷ বাবা হরলাল দাস ও মা নির্মলা দাস৷ ১৯৭০ সালে তৎকালীন নারী শিক্ষা মন্দির উচ্চ বিদ্যালয়, বর্তমান শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে ইডেন কলেজে ভর্তি হন ইলা৷ ছাত্র লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি৷ তাই শ্বশুর বাড়ির রক্ষণশীলতা সত্ত্বেও স্বাধিকার আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন ইলা দাস৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের সময় রেসকোর্স ময়দানে হাজির ছিলেন৷ ছাব্বিশে মার্চ পাক বাহিনীর হত্যা-নির্যাতন শুরু হলে নরসিংদীতে গ্রামের বাড়িতে চলে যান তিনি৷ সেখানে স্থানীয়ভাবে গঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের দলে যোগ দেন৷

ডয়চে ভেলের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইলা দাস জানালেন, অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য কোথায় কীভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন সেসব ঘটনা৷ তিনি বলেন, ‘‘নরসিংদীর রায়পুরা গ্রামে আমাদের বাড়ি ছিল৷ পাক বাহিনীর যোগাযোগ রুখে দাঁড়াতে রায়পুরায় একটি সেতু ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় মুক্তিযোদ্ধারা৷ ফলে পাক সেনারা ক্ষোভে ঐ এলাকার প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে সব বাড়ি-ঘর আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়৷ এ ঘটনাটি আমাকে যুদ্ধে যেতে আরো বেশি উৎসাহিত করে৷ আমাদের দলনেতা ছিলেন গয়েশ আলী মাস্টার৷ উনি আমাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন৷ আমরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাহাড়িয়া অঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম৷ চারিদিকে পাহাড় ঘেরা এবং মাঝখানে কিছুটা সমতল ভূমিতে আমাদের প্রশিক্ষণ হতো৷ এসময় সাবানির মা হিসেবে পরিচিত একজন মহাসড়কের পাশে পাতা কুড়াতেন৷ কিন্তু তিনি মূলত আমাদের পাহারায় থাকতেন৷ মহাসড়কে পাক সেনাদের আসার খবর আমাদের কাছে পৌঁছে দিতেন৷ একদিন পাক সেনারা তাঁকে দেখে ‘হোল্ড' বলে চিৎকার করে ধমক দেন৷ কিন্তু তিনি তাদের দিকে কোন ভ্রূক্ষেপ না করে বরং এক মনে পাতা কুড়াতে থাকেন৷ ফলে ভগবানের ইচ্ছায় পাক সেনারা নীরবে চলে যায়৷ যাহোক আমরা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তিন নম্বর সেক্টরের অধীনে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নিই৷ আমাদের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল শফিউল্লাহ৷ মহাসড়ক দিয়ে যখন পাক সেনারা যেতো তখন আমরা পাহাড়ের ঢালে ও গাছের আড়ালে থেকে তাদের উপর অভিযান চালাতাম৷ নরসিংদীর যোশর এলাকা, আশুগঞ্জ সার কারখানা, ভৈরব - এসব অঞ্চলেই আমরা অভিযান চালিয়েছি৷''

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিশেষ কয়েকটি ঘটনার কথা জানালেন ইলা দাস৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘পাক সেনাদের অভিযান ঠেকাতে রায়পুরার চরসুবুদদি গ্রামের একটি সেতু উড়িয়ে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারা৷ এতে পাক সেনারা আমাদের গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়৷ এসময় তাদের মধ্য থেকে একজন পাক সেনা দলছুট হয়ে আমাদের হাতে ধরা পড়েছিল৷ তখন আমরা গ্রামের ১২-১৪ জন নারী সেই পাক সেনাকে ধান-চাল ভাঙার জন্য যে ভারি ‘গাইলচা' আছে সেটা দিয়ে বেড়িয়ে মেরে ফেলেছিলাম৷''

এছাড়া একবার পাক সেনাদের কবলে পড়েও কীভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন সেই ঘটনা জানালেন ইলা দাস৷ তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধের সময় আমি বটতলা গ্রামে একটি বাড়িতে মাঝে মাঝে গিয়ে আশ্রয় নিতাম৷ একদিন সেই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম৷ কিন্তু রাতের শেষ দিকে ঐ গ্রামে রাজাকারসহ পাক সেনাদের অভিযানের খবর পাই৷ শুনলাম গ্রামের সব বাড়িতে ঢুকে প্রত্যেক বাড়ি থেকে যুবকদের ধরে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে রাখছে তারা৷ এক পর্যায়ে আমি যে বাড়িতে ছিলাম সেখানেও তারা আসে৷ লাথি দিয়ে দরজা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢোকে৷ আমি পাক সেনাদের দেখেই পেছনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে উঁচু একটি পাঁচিল টপকে বাঁশ বাগানে চলে যাই৷ এরপরই ছিল একটি দীর্ঘ বিল৷ এটি মধুবিল নামে পরিচিত৷ আমি সাঁতার কাটতে জানতাম না তবুও প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিলাম সেই বিলে৷ এমনকি বিলের দিকেও গুলি চালিয়েছিল পাক সেনারা৷ তবে আমি বেশ কিছুক্ষণ শ্বাস বন্ধ করে জলের নিচে ডুব দিয়ে থাকায় তারা আমাকে ঠিকমতো টার্গেট করতে পারেনি৷ এদিকে, আমাকে ডুবে যেতে দেখে বিলের অপর পার থেকে একজন এসে আমাকে উদ্ধার করেছিল৷''

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে কাজ করেন ইলা দাস৷ ২০১০ সালে জাতীয় মহিলা সংস্থার উদ্যোগে এগারো জন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়৷ তাঁদের মধ্যে অন্যতম ইলা দাস৷ বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া যেন দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি হয় সেটিই বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলা দাসের বড় চাওয়া৷

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়