1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন: কে কাকে ভোট দেবে?

মার্কিন সমাজে যেমন বহু বিভাজন, বহু গোষ্টী, ঠিক সেইভাবেই ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবার সম্ভাবনা৷ এখন কোন গোষ্ঠী কাকে ভোট দেবে, সেটাই হলো প্রশ্ন৷

নারী ভোট
নির্বাচনি প্রচার অভিযানের শুরু থেকেই মহিলারা ভোটার হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে একটি বিশেষ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেন৷ জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প ক্লিন্টনের চেয়ে অনেক কম মহিলাদের ভোট পাবেন৷ সেজন্য অবশ্য তিনি নিজেই প্রধানত দায়ী৷ বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এবং টুইটারে তিনি বিশেষ বিশেষ মহিলাকে মেদবহুল বা কুশ্রী বলে অভিহিত করেছেন, অথবা এক মহিলা সাংবাদিকের রজঃশ্রাব নিয়ে বদরসিকতা করেছেন৷ এই পন্থায় ট্রাম্প স্বয়ং রিপাবলিকান মহিলা ভোটারদেরও সহানুভূতি হারিয়েছেন৷ ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচার অভিযানে নারী অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি স্থান পায়নি৷ সে তুলনায় হিলারি ক্লিন্টন গোড়া থেকেই নারী-পুরুষের সমান পারিশ্রমিক, গর্ভপাত বা পরিবার ও পেশার মতো বিষয়গুলিকে তাঁর প্রচারণায় গুরুত্ব দিয়েছেন৷

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন

নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে হিলারি ক্লিনটন অনেক এগিয়ে

নীচের তলার শ্বেতাঙ্গ
কম শিক্ষা বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্বেতাঙ্গ পুরুষরাই হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোট ব্যাংক৷ এই গোষ্ঠীর মানুষেরা ভারী শিল্পে চাকুরি কমায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ তাই ‘‘মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন’’, ট্রাম্পের এই শ্লোগানের অর্থ তাদের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা৷ ট্রাম্প যে চীন থেকে চাকরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মুক্তবাণিজ্য ও অভিবাসনের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করেছেন, তা এই শ্রেণির মানুষদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়৷ ট্রাম্প তাঁর এই গোঁড়া সমর্থকদের কাছে এক ধরণের অ্যান্টি পলিটিসিয়ান, যিনি সাধারণ রাজনীতিকদের ঠিক বিপরীত৷ এদের কাছে পলিটিক্যাল করেক্টনেসের কোনো মূল্য নেই৷ এদের চোখে হিলারি ক্লিন্টন হলেন ওয়াশিংটনের এস্ট্যাবলিশমেন্টের অঙ্গ৷

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুসারীরা মূলত সেতাঙ্গ ও পুরুষ

আফ্রো-অ্যামেরিকান
কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনিরা চিরকালই প্রধানত ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে থাকেন৷ হিলারি ক্লিন্টনও এবার এই ভোট পাবার আশা করতে পারেন৷ এখন প্রশ্ন হলো, ক্লিন্টন অ্যাফ্রো-অ্যামেরিকানদের ভোট দিতে যেতে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন কিনা – তিনি তো আর বারাক ওবামা নন৷ অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিভিন্ন জাতিবাদী মন্তব্যের দরুণ এই গোষ্ঠীর ভোটারদের কাছে অপ্রিয় এবং অপাত্র৷ গত জুলাই মাসে এনবিসি টেলিভিশনের একটি জরিপ অনুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মাত্র ছয় শতাংশ ট্রাম্পকে ভোট দেবেন৷ অপরদিকে ওহাইও-র মতো সুইং স্টেটের শতকরা একশো ভাগ কৃষ্ণাঙ্গ হিলারিকে ভোট দেবেন বলে জরিপে প্রকাশ৷

হিস্প্যানিক
দক্ষিণ অ্যামেরিকা থেকে আগত মানুষেরা যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে বাড়ছেন, সেভাবে আর কোনো জনগোষ্ঠী বাড়ছে না৷ চার বছর আগে তাদের একটা বড় অংশ বারাক ওবামাকে ভোট দিয়েছিলেন৷ ট্রাম্প মেক্সিকানদের সম্বন্ধে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, অথবা তাঁর মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা এই গোষ্ঠীর মানুষদের আরো বেশি করে হিলারির দিকে ঠেলে দিতে পারে৷ তবে ২০১২ সালে মাত্র ৪৮ শতাংশ হিস্প্যানিক ভোট দিতে গিয়েছিলেন৷

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বার্নি স্যান্ডার্স-এর সমর্থকরা

এভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান
এভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টানরা চিরকাল রিপাবলিকানদের ভোট দিয়ে থাকেন, কিন্তু তারাও ট্রাম্পের নানা কীর্তিকলাপে অসন্তুষ্ট, যদিও তার মানে এই নয় যে, এই ধর্মপ্রাণ, গোঁড়া খ্রিষ্টানরা ক্লিন্টনকে ভোট দেবেন৷ সম্ভবত বেশ কিছু এভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান শেষমেষ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন৷

 

মিলেনিয়ালস
১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে যাদের জন্ম, সেই সব মার্কিনিরা ছিলেন ২০০৮ ও ২০১২ সালে বারাক ওবামার সবচেয়ে উৎসাহী সমর্থক৷ তবে এই মিলেনিয়ালদের অনেকে এবার প্রাইমারি পর্যায়ে হিলারির ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বি বার্নি স্যান্ডার্সের দিকে ঝুঁকেছিলেন৷ ট্রাম্পের পরিবর্তে তারা নিশ্চয় ক্লিন্টনকেই ভোট দেবেন, যদি হিলারি তাদের ভোট দিতে যেতে অনুপ্রাণিত করতে পারেন৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন