1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নৌ-টহলদারি জল্পনামাত্র: ভারত

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্টের সঙ্গে যৌথ নৌ-টহলদারির সম্ভাবনা অস্বীকার করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তর৷ বলেছে, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স যে খবর দিয়েছে, তা স্রেফ জল্পনা৷

ভারতীয় নৌ-বাহিনীর মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে সরকারের নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি৷ অর্থাৎ একমাত্র জাতিসংঘের উদ্যোগ ছাড়া অন্য কোনোরকম আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে ভারত অংশ নেবে না৷

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উক্তি উদ্ধৃত করে রয়টার্স বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছিল যে, এ দু'টি দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত বৈঠকে বিবাদিত দক্ষিণ চীন সাগরে যৌথ নৌ-টহলদারির প্রসঙ্গ ওঠে৷ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুন মাসে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে দু'দেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোর মধ্যে জলপথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রটিকেও রাখা হয়৷ যদিও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি৷

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ত্রিদিব চক্রবর্তী ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এই ইস্যুর ভূ-রাজনৈতিক তাত্পর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘দক্ষিণ চীন সমুদ্র সম্পর্কে আসিয়ান দেশগুলির একটা নিজস্ব অবস্থান আছে৷ তারই ভিত্তিতে ‘কোড অফ কনডাক্ট' বা আচরণ বিধি তৈরি করা হয়েছে, যাতে চীন সই করে৷ এই পরিস্থিতিতে অ্যামেরিকা যদি নাক গলাবার চেষ্টা করে, তাহলে চীন তা মেনে নেবে না৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঢুকলেই সেটা হয়ে দাঁড়াবে আন্তর্জাতিক বিষয়৷'' যদিও ২০০৭ সালে হিলারি ক্লিন্টন এক বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্ককে সরাসরি আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবেই তুলে ধরেছিলেন৷

Abraham Lincoln Flugzeugträger USA

নৌপথে বিশ্বের যত পণ্য পরিবহন করা হয়, তার ৪০ শতাংশই হয় দু’টি সাগর দিয়ে – দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর

অন্যদিকে, চীন মনে করে, এটা আসিয়ান দেশগুলির মধ্যে আঞ্চলিক বিষয়৷ এর আন্তর্জাতিক রূপ দেবার চেষ্টা করা হলে চীনও সেক্ষেত্রে তার অবস্থান পাল্টাবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্তরে তার সমাধান খুঁজবে৷ এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে অদ্যাপক ত্রিদিব চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ভারত যদি যুক্তরাষ্টের সঙ্গে গলা মেলায়, তাহলে ভারতের পক্ষে তা বড় ঝুঁকির কারণ হবে৷ চীনের সঙ্গে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা এমনিতেই আছে৷ তাই চীনের সঙ্গে বকেয়া বিরোধ মেটাতে আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ নেওয়াই হবে সমীচীন৷

প্রশ্ন হলো, সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক আইন কী বলে? উত্তরে অদ্যাপক চক্রবর্তী জানান, চলতি আন্তর্জাতিক আইনে যথেষ্ট ধোঁয়াশা আছে৷ সেই আইন হামেশাই লঙ্ঘিত হচ্ছে৷ মোটকথা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলনীতি হলো, দক্ষিণ এশিয়ায় তার সমর্থক দেশগুলি চীনের বিরুদ্ধে যাতে কড়া অবস্থান নেয়৷ যুক্তরাষ্ট্রে সহকারী প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি দেশের ১২ নটিক্যাল মাইল সেদেশের জলসীমার মধ্যে পড়ে৷ তাই সেখান দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য সে দেশের অনুমতি নেয়া জরুরি৷

উল্লেখ্য, বিশ্ব বাণিজ্যের সিংহভাগ সমুদ্রপথ দিয়েই হয়৷ দক্ষিণ চীন সমুদ্রের অন্যান্য দাবিদার রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপিনস ও তাইওয়ান৷

আপনার কী মনে হয়? ভারত কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলাচ্ছে? জানান নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়