1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমাতে হিলারিকে কারজাইয়ের ফোন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান শীতল সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে৷

default

আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই

গত বৃহস্পতিবার কারজাই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিরুদ্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি করার অভিযোগ তুলেছিলেন৷ এরপর যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ঐ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায়৷

আফগান সংসদে দেয়া ঐ বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট কারজাই দুজন পাশ্চাত্য কুটনীতিকের নাম উল্লেখ করে বলেন যে তাঁরাই ছিলেন কারচুপির নেপথ্যে৷ কাবুলে একটি পুতুল সরকারকে ক্ষমতায় বসানোই ছিল এই কারচুপির মূল লক্ষ্য, বলেন কারজাই৷

তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মুখপাত্র রবার্ট গিবস কারজাইয়ের বক্তব্যকে ‘অস্বস্তিকর' বলে অভিহিত করেন৷ তিনি বলেন, কারজাইয়ের এই

Robert Gibbs Pressesprecher im Weissen Haus in Washington

ওবামার মুখপাত্র রবার্ট গিবস কারজাইয়ের বক্তব্যকে ‘অস্বস্তিকর' বলেছেন

বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন৷ ওদিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি আফগান প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে ‘উদ্ভট' বলেছেন৷ এছাড়া কাবুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আইকেনবেরি দেখা করেন প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের সঙ্গে৷ আর সেসময়ই কারজাই ফোন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনকে৷

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্রাউলি এই টেলিফোন আলোচনাকে গঠনমূলক বলে মন্তব্য করেছেন৷ ক্রাউলি বলেন যে তাঁরা কারজাইয়ের ফোন পেয়ে খুশি৷ দু'দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রেসিডেন্ট কারজাই তাঁর অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্রাউলি৷ এছাড়া আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন কারজাই, বলেন ক্রাউলি৷ তবে দুই নেতার মধ্যে আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে করা বক্তব্যের জন্য সরাসরি ক্ষমা চান নি কারজাই৷ বরং তাঁর বক্তব্যের বিপুল প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি অবাক হয়েছেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন কারজাই৷

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক তেমন একটা ভাল যাচ্ছিলনা৷ গত মাসেই ওবামা প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আফগান প্রেসিডেন্টের একটি পরিকল্পিত সফর বাতিল করে দেয়৷ অভিযোগ, আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিতে এক বিল পাশ করান প্রেসিডেন্ট কারজাই৷ তাছাড়া সেসময় আফগানিস্তান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে কাবুল সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চটিয়ে দেয়৷

এরপর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আকস্মিক এক সফরে কাবুলে গিয়ে প্রেসিডেন্ট কারজাইকে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেন৷

কারজাই যে দুজন পশ্চিমা কুটনীতিকের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন তাঁরা হলেন জাতিসংঘের প্রাক্তন ডেপুটি প্রধান পেটার গ্যালব্রেথ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব জেনারেল ফিলিপ মরিলন৷ তবে গ্যালব্রেথ এই অভিযোগকে ‘অবাস্তব আর ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়