1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যারা প্রাণ দিল

ইন্দোনেশিয়া মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আটজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করেছে, এ বছরের দ্বিতীয় গণ মৃত্যুদণ্ড৷ আরো ৫০ জন রয়েছে ফাঁসির অপেক্ষায়৷ মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দানা বাঁধছে, দেখছেন গ্রেহেম লুকাস৷

ইংরেজিতে ‘হ্যাশবালিনাইন' ভুক্ত ঘটনাবলী নতুন করে প্রমাণ করে, কেন সারা বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া উচিত৷ অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে মৃত্যুদণ্ড বেঁচে থাকার অধিকারের বিরোধী এবং একটি ‘‘নির্দয়, অমানবিক, অপমানজনক দণ্ড''৷ শুধু কী ভাবে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে, তাই নয়, সেই সঙ্গে ফাঁসির আগের মানসিক বেদনা ও যন্ত্রণা৷ বুধবার ভোরে যাদের জীবনাবসান ঘটল, তারা বহু বছর ধরে দেখেছে, কী ভাবে তাদের মামলা এক আদালত থেকে আরেক আদালতে যাচ্ছে: এ থেকে তারা যে মানসিক কষ্ট পেয়েছে তা বস্তুত নিপীড়নের সামিল৷ তাদের পরিবারবর্গকে যা সহ্য করতে হয়েছে, তা অবর্ণনীয়৷

তাদের অপরাধও মৃত্যুদণ্ড দণ্ডিত হওয়ার মতো গুরুতর কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়৷ জাতিসংঘ এ বিষয়ে সচেতন করে দিয়েছে যে, শুধু দেশদ্রোহ কিংবা হত্যার মতো অপরাধের জন্যই নয়, মাদক চোরাচালানের দরুনও দেশ ও ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যদিও আন্তর্জাতিক আইনে তাকে অনুরূপ গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করা হয় না৷

শাস্তি দেওয়ার যুক্তিই হল সংশোধন, যাতে অপরাধীর স্বভাব শুধরোয়৷ দুই অস্ট্রেলীয় অ্যান্ড্রু চান এবং মিউরান সুকুমারন-কে ইন্দোনেশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় মাদক পাচারের প্রচেষ্টার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় দশ বছর আগে৷ তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে মার্জনা ভিক্ষা করেছে৷ তারা যে নতুনভাবে বাঁচার প্রচেষ্টা শুরু করেছিল, প্রেসিডেন্ট জকো উইডোডো রাজক্ষমার আবেদন নাকচ করার সময় তা বিবেচনাই করেননি৷

এ থেকে দেখা যায় যে, মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দানের মূল উদ্দেশ্য অপরাধীর সংশোধন নয়৷ উইডোডো ইন্দোনেশিয়ার মাদক সংকটের কথা বলেছেন, কিন্তু তিনিও যে সত্যটি অবহেলা করছেন, সেটি হল এই যে, মৃত্যুদণ্ড মাদক সেবন রোধ করতে পারে না৷ মৃত্যুদণ্ডের ফলে ইন্দোনেশিয়ায় মাদক চোরাচালান কমেনি, বরং বেড়েছে৷ আসল সমস্যা হল ব্যাপক দারিদ্র্য, যার মোকাবিলা করা অনেক বেশি শক্ত৷ উইডোডো আসলে এই পন্থায় জাতীয়তাবাদী মনোভাবে উসকানি দিচ্ছেন৷

Lucas Grahame Kommentarbild App

গ্রেহেম লুকাস

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় যুক্তি হল: কোনো বিচার প্রক্রিয়াই নিখুঁত নয়৷ ‘বালিনাইন'-এর মামলাগুলিতেও নাকি বিচারকরা এক লাখ ত্রিশ হাজার ডলার উৎক্রোচের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে বিশ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷ পরে সরকারি কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করেন এই বলে যে, মামলার শুনানি যাই হোক না কেন, শেষমেষ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড৷ এছাড়া ইন্দোনেশীয় বিচার প্রক্রিয়ায় বিদেশিদের পরিবর্তে স্বদেশের নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড পাবার সম্ভাবনাই নাকি বেশি৷ অপরদিকে সেই ইন্দোনেশিয়াই আবার সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকের মুক্তির প্রচেষ্টায় ব্যস্ত৷

ইন্দোশিয়ায় যা ঘটল, তা দীর্ঘমেয়াদি সূত্রে দেশের ভাবমূর্তির হানি ঘটাবে৷ যাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তারা যে সব দেশের নাগরিক, সে সব দেশে এই ঘটনার ব্যাপক রাজনৈতিক ফলশ্রুতি ঘটবে – যেমন অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স তথা নাইজেরিয়া৷

তবে আমরা কিছুটা সান্ত্বনা পেতে পারি এই ভেবে যে, ইন্দোনেশিয়ায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বাড়ছে: যার প্রতিফলন দেখা গেছে হ্যাশআইস্ট্যান্ডফরমার্সি এবং হ্যাশবালিনাইন-এর মতো হ্যাশট্যাগে৷ বুধবার যাদের বধ্যভূমিতে প্রাণ হারাতে হল, তারাই হয়তো বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ড বর্জন আন্দোলনের নতুন প্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন