1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

যত দোষ ফেসবুকের!

বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ রাখার চিন্তা করছে সরকার, জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তবে এটা হাস্যকর এবং অবাস্তব – মন্তব্য অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও তথ্য-প্রযুক্তি বিশেজ্ঞদের৷

চলতি প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে৷ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ রাখার কথা বলেছেন৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা চলাকালীন ফেসবুক বন্ধ রাখা যায় কিনা, এ বিষয়ে ভাবছে সরকার৷'' ইতিমধ্যে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন বলে জানান৷ আগামী বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে৷ শিক্ষামন্ত্রী চাইছেন প্রথমবারের মতো এই পরীক্ষা চলাকালীন ফেসবুক বন্ধ রাখতে বাংলাদেশে৷

তিনি জানান, ‘‘পরীক্ষার সময় ফেসবুকের মাধ্যমে যে বিভ্রান্তি ছড়ায়, আইন করে তা বন্ধ করা যায় কিনা – তা দেখতে বলেছি৷'' তবে মোবাইল ফোন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলে মনে করেন মন্ত্রী৷ এ সব নিয়ে এক বৈঠকে বৃহস্পতিবার শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান প্রশ্ন ফাঁস বা ফেসবুকে বিভ্রান্তি রোধে এ সংক্রান্ত শিক্ষা আইন ও আইসিটি আইনে মামলা, প্রশ্নপত্র ছাপানোর স্থান বিজি প্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মতামত দেন৷

তবে শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক বন্ধের কথায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি৷ তিনি শুক্রবার বলেছেন, ‘‘প্রশ্নপত্র পত্র ফাঁসের খবর বের হলে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটা ‘প্রেস নোট' পাঠিয়ে দিয়ে বলে এটা গুজব৷ কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি৷ জাফর ইকবালের মতো লোক প্রশ্নপত্র ফাঁসে প্রমাণ দেখান৷ আর আমাদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন যে, প্রয়োজন হলে ফেসবুক বন্ধ করে দেবো৷ তারপর হয়ত তিনি বলবেন টুইটার, মোবাইল, বিদ্যুৎ বন্ধ করো দেবো৷ একদিন তিনি বলবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই বন্ধ করে দেবো৷ এটা কোনো সমাধান নয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘সরকারকে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে৷ দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে৷ দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে৷''

তথ্য প্রযুক্তিবিদ সাবির আহমেদ সুমন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী হয়ত প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে তাঁর কঠোর এবং দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছেন ফেসবুক বন্ধ করার কথা বলে৷ তবে পরীক্ষার সময় ফেসবুক বন্ধ রাখা প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ হবে না৷ কারণ ফেসবুক বন্ধ করলে অন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা৷''

তিনি বলেন, ‘‘এবার ফেসবুকের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে তো আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়নি, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ সুতরাং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে হবে৷ গোড়ায় ব্যবস্থা নিতে হবে৷ ফেসবুককে দোষ দিয়ে লাভ নেই৷''

অন্যদিকে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের অভিভাক মো. দৌহিদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রী সেই ফাঁস রোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উদ্ভট সব কথা বলছেন৷ এর আগে তিনি বলেছেন দু'টি পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি না দিয়ে টানা পরীক্ষা নেয়ার কথা৷ আর এবার বললেন ফেসবুক বন্ধ করার কথা৷''

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক সবচেয়ে জনপ্রিয়৷ এর ব্যবহারকারী বাড়ছে দ্রুত গতিতে৷ ২০১২ সালে বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহকারীর সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ৷ আর চলতি বছরের মে মাসে তা বেড়ে দাড়ায় ৭৮ লাখ৷ তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সাবির আহমেদ সুমন মনে করেন, এরই মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে৷ এই ব্যবহারকারীদের ৫০ ভাগের বয়স ১৭ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে৷

বিটিআরসি-র সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৪ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার৷ এর মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার৷ আর মেবাইল ফোনে ফেসবুক ব্যবহারীর সংখ্যাও অনেক বেশি৷

উল্লেখ্য, এবার প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়