1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

যক্ষ্মা প্রতিরোধে ইঁদুরের সহায়তা

চিকিত্সকরা যেখানে হার মেনে যান, সেখানে তারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে৷ তারা হলো ইঁদুর৷ বিশেষ করে যক্ষ্মা রোগ দমনে কাজে লাগতে পারে প্রাণীগুলি৷

default

গবেষকরা যক্ষ্মা রোগ দমনে ইঁদুরকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন

ক্রিস্টফ কক্স বিশেষ ধরনের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করেন: তাঁর ওয়েবসাইটে এই অতিকায় সহকর্মীদের কাঁধে নিয়ে তোলা ছবি দেখা যায়৷ এগুলো হলো এক জাতীয় ধেড়ে ইঁদুর৷ আফ্রিকায় তাদের আদিবাস৷

বেলজিয়ামের একটি বেসামরিক সংস্থা ‘আপোপো'-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টফ কক্স৷ সংস্থাটির পক্ষ থেকে তানজানিয়ার মোরোগোরো-তে একটি গবেষণা প্রকল্প চালাচ্ছেন তিনি৷ গবেষকরা রোগ দমনে ইঁদুরকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন৷ এ ক্ষেত্রে সাফল্যও দেখা যাচ্ছে৷

বিশেষ করে তানজানিয়া ও মোজাম্বিকে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে এই প্রাণী সাহায্য করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এদের ঘ্রাণেন্দ্রিয় অত্যন্ত শক্তিশালী৷ ‘‘ইঁদুররা নিশাচর৷ প্রায় অন্ধ৷

Bildergalerie Tuberkulose Ratten

গবেষক ক্রিস্টফ কক্স

ঘ্রাণশক্তি তাদের একমাত্র ভরসা৷ তারা খাদ্যদ্রব্য মাটির নীচে গর্ত খুঁড়ে জমিয়ে রাখে৷ পরে আবার শুঁকে শুঁকে তা খুঁজে বের করে৷'' বলেন কক্স৷

বহু মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় নয় মিলিয়ন বা নব্বই লক্ষ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল টিবি প্রোগ্রামের মারিও রাভিলিয়োনে বলেন, এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর মারা যায় ১.৬ মিলিয়ন মানুষ৷ আর টিবি রোগে মারা যায় ১.৩ মিলিয়ন লোক৷ তানজানিয়ায় প্রতি বছর ৭৯,০০০ বার যক্ষ্মার সংক্রমণ হয়ে থাকে৷

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যা ধারণা করা হয়েছিল, সারা বিশ্বে তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক শিশু যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়৷ প্রতি বছর ১৫ বছরের নীচে ৯৯৯,৮০০ শিশু টিবির কবলে পড়ে৷

‘আপোপো'-র টিম ইঁদুরগুলিকে টিবি রোগী ও সুস্থ মানুষের লালা শুঁকতে দেন৷ তারা দ্রুতই দুটির মধ্যে পার্থক্য করতে শেখে৷

যাত্রা শুরু করে

২০০৩ সালে একটি প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে এই গবেষণা প্রকল্প৷ এরপর তানজানিয়ার সোকোনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা গবেষণা কাজটিকে এগিয়ে নিয়ে যান৷ বছর পাঁচেক পর তাঁরা প্রমাণ করতে সক্ষম হন, যে ইঁদুররা যক্ষ্মারোগ শনাক্ত করতে পারে৷ এই কাজটি তারা মানুষের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে পারে৷ ল্যাবরেটরিতে একজন টেকনিশিয়ানের পক্ষে কাজটি ক্লান্তিকর ও সময়সাপেক্ষ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজনের দিনে ২৫টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা উচিত নয়৷ তবে এই কাজটি সাত মিনিটেই করতে পারে একটি ইঁদুর৷

এছাড়া মানুষের চোখে এই রোগজীবাণু দেখাও সহজ নয়৷ ‘মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে মাত্র ৫০ শতাংশ জীবাণু ধরা পড়ে৷'' বাকি জীবাণুগুলি চেনার জন্য কাজে লাগতে পারে মূষিকরা৷

আপোপো তানজানিয়ার বৃহত্তম শহর দার এস সালাম-এর ২১টি হাসপাতালের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাজ করছে৷ এই সব হাসপাতাল নিজেরাই টিবি-শনাক্তকরণের পরীক্ষা করে থাকে৷ যেসব নমুনা নেতিবাচক হয়, সেগুলি তারা মোরোগোরোতে পাঠিয়ে দেয়৷

দ্বিতীয় পরীক্ষায় ইঁদুরের সাহায্য

আর দ্বিতীয় পরীক্ষায় মূষিকদের সাহায্য নেওয়া হয়৷ সেখানে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে রোগীকে খুঁজে বের করার জন্য হাসপাতালগুলিকে জানানো হয়৷ ক্রিস্টফ কক্স বলেন, ‘‘আক্রান্তরা যদি তাঁদের অসুস্থতার কথা না জানেন, তাহলে তারা বাড়িতে ফিরে গিয়ে পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবকে সংক্রমিত করতে পারেন৷''

যক্ষ্মা রোগটিকে দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি৷ বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাভিলিয়োনে৷ ‘‘তবে পরীক্ষাটা সহজ হতে হবে৷ এছাড়া স্থানীয় পর্যায়েই এটি করতে হবে৷'' গুরুত্বপূর্ণ হলো গ্রামাঞ্চলের যত বেশি সম্ভব মানুষকে এর আওতায় আনতে হবে৷

তবে ইঁদুর দিয়ে পরীক্ষা করার ব্যাপারে সংশয়ী তিনি৷ এটি এখনও উদ্ভাবনের পর্যায়ে রয়েছে৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার প্রশ্ন এই পরীক্ষা কি সেখানেও করা সম্ভব, যেখানে এর প্রয়োজন খুব বেশি, যেমন প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে!''

দত্তক নেওয়া যেতে পারে

মোরোগোরোতে অবশ্য গবেষকরা তাঁদের এই প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট৷ ‘‘অতিকায় ধেড়ে ইঁদুরগুলি পারিপার্শ্বিকতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে সহজেই, কষ্টসহিষ্ণু ও লালনপালনে খরচ কম৷ সংস্থার ওয়েবসাইটে এইভাবেই প্রচার করা হয়৷ তবে একটি ইঁদুরকে প্রশিক্ষণ দিতে কম পক্ষে নয় মাস লাগে৷ আপোপো তাই ইঁদুরের খরচ চালানোর জন্য অভিনব এক মডেল তৈরি করেছে: এই প্রকল্পকে সহায়তা দিতে হলে প্রতীকী অর্থে একটি ইঁদুর ‘দত্তক' নিতে পারে কেউ৷ পৃষ্ঠপোষক প্রাণীটির প্রশিক্ষণের খরচ বহন করেন৷ সফল হলে তাঁকে জানানো হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন