1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশার বন্ধ্যাকরণ!

ক্ষতিকারক পতঙ্গ মশাকে নানা উপায়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হয়, যেমন রাসায়নিক কীটনাশক দিয়ে কিংবা স্যাঁতসেঁতে স্থানগুলি শুকিয়ে এদের আবাসস্থল ধ্বংস করে৷ এখন গবেষকরা চাইছেন পতঙ্গগুলিকে নির্বীজ করে দমন করতে৷

সূর্যাস্ত হলেই মশারা বের হয়ে আসে৷ তাদের ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে শুধু দুই চিন্তা৷ খাওয়া ও যৌনতা৷ স্ত্রী মশারা সান্ধ্যভোজ হিসাবে রক্ত, বিশেষ করে মানুষের রক্ত পছন্দ করে৷ আর এইভাবে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ সংক্রমণ করে থাকে তারা৷

বিজ্ঞানীরা মশা দমনে নানারকম পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন৷ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ-র গবেষকরা মশকদের বংশবিস্তারের বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন এখন৷ তাঁদের মাথায় এক অভিনব আইডিয়া এসেছে৷ আর তা হলো বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার রোধ করা৷

দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার

পুরুষ ও স্ত্রী মশার মিলনপর্বটা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়৷ আর এর মধ্যেই বংশবিস্তারের কাজটা হয়ে যায়৷ পরে এই বংশধররাই ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও পীতজ্বরের মতো সংক্রামক রোগ ব্যাধি ছড়ায়৷

ল্যাবরেটরিতে তেজষ্ক্রিয়তা দিয়ে পুরুষ মশাকে নির্বীজিত করার পরীক্ষা চালান গবেষকরা৷ স্ত্রী মশা জীবনে একবারই পুরুষ মশার সঙ্গে মিলিত হতে পারে৷ পুরুষ মশারা প্রজনন করতে পারে অনেকবার৷ স্ত্রী মশারাই অসুখ বিস্তার করে থাকে বলে পুরুষ মশাদের নির্বীজ করলে বংশবিস্তার কম হবে, এই আশা গবেষকদের৷ এক ধরনের মাছির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এই পদ্ধতির সাফল্য দেখা গেছে৷

বহু মানুষ মারা যায় ম্যালেরিয়ায়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী বছরে ৭৫০,০০০ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়৷ এর মধ্যে অধিকাংশই আফ্রিকার পাঁচ বছরের নীচে বাচ্চা৷ যাদের কোনো সংক্রমিত মশা কামড় দিয়েছে৷

গবেষকরা মনে করেন মশাকে এইভাবে নিধন করা গেলে কীটনাশকের প্রয়োজনীয়তাও কম হবে৷

লক্ষ্য করা গেছে আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতে মশারা কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে পড়ছে৷ বিষয়টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য দারুণ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

কৃষিখেতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে পতঙ্গবিদ রোশ ডাবির এর ধারণা৷ কীটনাশক শুধু কৃষিখেতে নয়, বাড়িতে ও মশারিতেও ব্যবহার করা হয়৷ ডাবির বলেন, ‘‘বন্ধ্যাকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে কীটনাশক যে বাহুল্য হয়ে যাবে এমন কোনো কথা নেই৷ মশা দমন কর্মসূচিতে এই পদ্ধতি সহায়তা করতে পারে৷''

প্রচুর পরিমাণে বন্ধ্যা মশা ছাড়তে হবে

বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মশা দমন করতে হলে প্রচুর পরিমাণে নির্বীজ মশা প্রকৃতিতে ছাড়তে হবে৷ এতদিন অল্প পরিমাণ মশা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হয়েছে৷ কিন্তু প্রশ্ন হলো বন্ধ্যা পুরুষ মশার প্রতি স্ত্রী মশা আকৃষ্ট হবে কিনা৷ কোটি কোটি বন্ধ্যা পুরুষ মশা বাইরে ছেড়ে দিলেও কোনো লাভ হবে না, যদি স্ত্রী মশারা তাদের প্রত্যাখ্যান করে জননক্ষম বন্য মশাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়৷

এক্ষেত্রে ল্যাবরেটরির মশাদের ‘সেক্স অ্যাপিলটা' কীরকম হবে সেটাই দেখার বিষয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন