1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ম্যালেরিয়া দমনে এবার লেজার প্রযুক্তি

সারা বিশ্বে কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়৷ আক্রান্তের সংখ্যা তো আরো বেশি৷ তবে সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা একটি নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যা এই রোগ দমনে বিপ্লব আনতে পারবে বলে ধারণা৷

বিশ্বব্যাপী বছরে আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়৷ মারা যায় ৬০০,০০০ মানুষ৷ অ্যানোফিলিস প্রজাতির স্ত্রী মশার কামড়ে রোগটি সংক্রমিত হয়৷ এর ফলে প্লাসমোডিয়াম প্যারাসাইট মানুষের রক্তে মিশলে প্রচণ্ড জ্বর, কাঁপুনি, পেটে গোলমাল ইত্যাদি দেখা দেয়৷

সঠিক সময়ে শনাক্ত করা হয় না

রোগটি এত বিস্তৃত হওয়ার কারণ, ঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে এটি শনাক্ত করতে না পারা৷ অনেক অঞ্চলে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরও অভাব রয়েছে৷

টেক্সাসের রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যার মাধ্যমে শুধু দ্রুতই নয়, সঠিক ও সুলভ মূল্যে রোগ শনাক্ত করা যাবে৷

Infografik Malariadiagnose durch Laser

ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইট প্রবেশ করলে ‘হিমোজোইন' নামে এক ধরনের উপাদান দেখা যায় রক্তে

এটিকে বলা হয় ‘ভেপার ন্যানোবাবল্ টেকনোলজি'৷ আর এই কাজটি করা হয় লেজার দিয়ে৷

ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইট প্রবেশ করলে ‘হিমোজোইন' নামে এক ধরনের উপাদান দেখা যায় রক্তে৷ অর্থাৎ রক্তের সুস্থ লোহিত কণিকায় এই পদার্থটি থাকে না৷ এর ফলে রোগটি শনাক্ত করা সহজ হয়৷ এই পদ্ধতির উদ্ভাবক দিমিত্রি লাপোটকো বলেন, ‘‘আমরা এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছি, যার মাধ্যমে কয়েক মুহূর্তে রক্তের নমুনা ছাড়াই ম্যালেরিয়া শনাক্ত করা যায়৷''

দেহের খুব অল্প শতাংশ ‘সেল' বা কোষ আক্রান্ত হলেও ম্যালেরিয়া চিহ্নিত করা সম্ভব৷ অন্তত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে এই ফলাফল পাওয়া গিয়েছে৷

অতি দ্রুত ধরা পড়ে

লেজারের সাহায্যে এক সেকেন্ডের অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ সময়ে সম্ভাব্য সংক্রমিত সেল শনাক্ত করা যায়৷ লেজারের তেজ হিমোজোইন-ক্রিস্টালকে প্রচণ্ড উত্তপ্ত করে৷ এর ফলে ক্রিস্টালের চারপাশে অতিক্ষুদ্র ন্যানোমিটার আকারের বাষ্পীয় বুদবুদ তৈরি হয়৷ এগুলি ফেটে গেলে এক ধরনের ধ্বনি-সংকেত সৃষ্টি করে৷ লেজার সংযুক্ত শ্রবণযন্ত্রের মাধ্যমে এই সংকেত নির্ণয় করা যায়৷ এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই৷ অর্থাৎ সুস্থ সেলকে ম্যালেরিয়া সংক্রমিত বলে ভুল করা হয় না৷

সব জায়গায় নেওয়া যায়

পরীক্ষাটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্রে চালানো যায় বলে সব জায়গায় বহন করে নেওয়া যায়৷ ভবিষ্যতে বছরে ২০০,০০০ পর্যন্ত মানুষের ম্যালেরিয়া নির্ণয়ের কাজ লাগবে যন্ত্রটি৷ ‘‘এই পদ্ধতিটি দ্রুত ও নিশ্চিতভাবে ম্যালেরিয়া শনাক্ত করতে সক্ষম৷ এটি চালানোর জন্য খুব বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না৷'' বলেন বাল্টিমোরের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ম্যালেরিয়া গবেষক ডেভিড সালিভ্যান৷

প্রতিটি পরীক্ষার জন্য খরচ পড়ে মাত্র ৫০ সেন্টের মতো৷ যে কোনো জায়গায় পরীক্ষা করা যায় বলে ল্যাবরেটরি ও কর্মীর খরচও বাঁচে৷ এছাড়া এই পদ্ধতিতে রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না বলে কষ্টকরও নয়৷ ইঁদুরের ওপর সফল পরীক্ষা চালিয়ে ২০১৪ সালের প্রথম থেকে মানুষের ওপরও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে৷

বিপ্লবাত্মক পদক্ষেপ

এটি সফল হলে ম্যালেরিয়া দমনে এক বিপ্লবাত্মক পদক্ষেপ রাখা হবে৷ ম্যালেরিয়া নির্ণয়ে এখনকার পদ্ধতি পুরোপুরি সঠিক নয়, সময় ও ব্যয়সাপেক্ষও৷ আগামী দেড় বছরে মধ্যে প্রথম পরীক্ষাসিরিজ সম্পন্ন হবে৷ এরপর লাপোটকোর যন্ত্রটি কার্যক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে৷

লেজার প্রযুক্তি অনেকের মনে ভীতির সৃষ্টি করতে পারে৷ গবেষক লাপোটকো এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের যন্ত্রটি অত্যন্ত নিরাপদ৷ এর মাধ্যমে মানুষের ত্বক বা রক্তের সেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না৷ মানুষ কোনো ব্যথা বা ভয়ভীতিও অনুভব করবে না৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন