1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ম্যালেরিয়ার টিকা তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য

বিশ্বের অনেক প্রান্তে ম্যালেরিয়া আজও এক বড় সমস্যা৷ মশার প্রকোপ মোকাবিলা থেকে শুরু করে উন্নত ওষুধ তৈরির নানা প্রচেষ্টা চলছে৷ এবার জার্মান বিজ্ঞানীরা ম্যালেরিয়ার টিকা তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন৷

১০ মিলিমিটার বড়, অত্যন্ত রোগা ও শরীর ক্ষুদ্র রোমে ঢাকা৷ লম্বা হুল ফোটালে মানুষ তা টের পায় না৷ এভাবে মশা ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগের সংক্রমণ ঘটায়৷

প্রতি বছর মূলত আফ্রিকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এই রোগে প্রাণ হারান এবং প্রায় ২৫ কোটি মানুষ এর সংক্রমণের শিকার হন৷ বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, কারণ তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে৷ টিকা একটা সমাধান হতে পারে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা আবিষ্কৃত হয়নি৷ ট্যুবিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পেটার ক্রেমসনার বলেন,‘‘ম্যালেরিয়ার টিকা তৈরি করা বেশ কঠিন, কারণ ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইট বেশ জটিল৷ তার জিনোম বড়, প্যারাসাইট হিসেবেও বড়৷ তার উপর সদা পরিবর্তনশীল৷''

তা সত্ত্বেও ট্যুবিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ট্রপিকাল মেডিসিন ঠিক এই লক্ষ্যেই সংগ্রাম চালাচ্ছে৷ জীবন্ত ম্যালেরিয়া প্যাথোজেন দিয়ে নতুন ধরনের এক টিকা প্রক্রিয়া তৈরি করছে তারা৷ গবেষকরা এমন এক প্রক্রিয়া ব্যবহার করছেন, যা আজকের দৃষ্টিভঙ্গিতে মোটেই গতানুগতিক নয়৷ প্রফেসর ক্রেমসনার বলেন, ‘‘নতুন প্রক্রিয়ার বিশেষত্ব হলো, আমরা টিকা তৈরির মৌলিক উৎসে ফিরে যাচ্ছি৷ অর্থাৎ আমরা জীবন্ত প্যারাসাইট নিয়ে সেটিকে ওষুধের মতো বিশুদ্ধ করে তুলে মানুষের শরীরে ইঞ্জেকশন হিসেবে ঢুকিয়ে দিচ্ছি৷ সঙ্গে ম্যালেরিয়া মোকাবিলার একটা ওষুধও থাকছে৷''

এর অর্থ, রোগীর শরীরে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঘটানো হচ্ছে৷ একই সঙ্গে ম্যালেরিয়া মোকাবিলার ওষুধ কিছু সময়ের পর শরীরে মধ্যে সেই প্যাথোজেনকে মেরে ফেলছে৷ প্রাণীর উপর নতুন এই টিকা পরীক্ষা হয়ে গেছে৷ এবার মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা মাপার পালা৷ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ইনস্টিটিউটের ল্যাবে প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদা করে জীবন্ত এই টিকা তৈরি করা হয়৷

গবেষকদের ধারণা, প্রত্যেক রোগীকে তিন বার জীবন্ত প্যাথোজেন টিকা দিলেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে৷ একই ইঞ্জেকশনের মধ্যে ম্যালেরিয়া মোকাবিলার ওষুধও থাকবে৷ এই পরীক্ষায় যে রোগী অংশ নিচ্ছেন, নিয়মিত তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হবে৷ মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখা হবে, ওষুধ জীবন্ত প্যাথোজেনকে ঠিকমতো মেরে ফেলেছে কিনা৷ তবে শরীরকে সুরক্ষা গড়ে তোলার সময় দিতে সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ কাজ করবে না৷ ট্যুবিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড.বেনইয়ামিন মর্ডম্যুলার বলেন, ‘‘ম্যালেরিয়া প্যাথোজেন প্রথমে যকৃতে ঢুকবে এবং সেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম সেটিকে শনাক্ত করবে৷ তারপর প্যাথোজেন লিভার ছেড়ে রক্তে প্রবেশ করলে ম্যালেরিয়ার ওষুধ সেটিকে মেরে ফেলবে৷''

প্যাথোজেন যকৃতের মধ্যে এলে প্রতিরোধ শুরু হয়ে যায়৷ স্বাভাবিক ‘কিলার' কোষ বা লিম্ফোসাইট সংক্রমিত লিভার কোষ খতম করে দেয়৷ সেইসঙ্গে রক্তের মধ্যে এই প্যারাসাইটের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হয়৷ এভাবে শরীর ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শেখে৷ ভবিষ্যতে সংক্রমণ ঘটলেও প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রস্তুত থাকে৷ টিকা পাওয়া রোগীদের শরীরে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ ঘটালেও তাঁরা সুরক্ষিত থাকেন৷ ড. মর্ডম্যুলার বলেন, ‘‘এই সুরক্ষা খুব ভালো কাজ করেছে৷ প্রথম এই পরীক্ষায় ১০০ শতাংশ সাফল্য এসেছে৷ তবে রোগীর সংখ্যা ছিল কম৷

এই টিকার গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, কার্যত কোনো ‘রেজিস্টেন্স' বা বাধা আসে না৷ বিজ্ঞানীরা এখন যত দ্রুত সম্ভব এই টিকা বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করতে চান৷ প্রফেসর ক্রেমসনার বলেন, ‘‘পরের পদক্ষেপ হলো, আরও বড় গ্রুপে এই টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে৷ তারপর ম্যালেরিয়া-অধ্যুষিত এলাকায় যেতে হবে – অর্থাৎ আফ্রিকা, এশিয়া ও অ্যামেরিকা৷''

জার্মান বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, যে নির্ভরযোগ্য টিকা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব হবে৷ তা সত্ত্বেও মশার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে৷ মানুষকে মশারি টাঙিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক