1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ম্যালেরিয়ার জীবাণু দমনে নতুন ধরনের টিকা

বেশিরভাগ ম্যালেরিয়ার টিকাই জীবাণুকে রক্তের লোহিত কণিকায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে৷ সম্প্রতি গবেষকরা এক ধরনের ‘অ্যান্টিবডি’ আবিষ্কার করেছেন, যা ম্যালেরিয়া দমনে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে৷

‘‘তুমি যদি তাকে বাইরে রাখতে না পার, তাহলে তাকে ভেতরে আটকে রাখ৷'' এমনটি মনে করেন অ্যামেরিকার রোড আইল্যান্ড হাসপাতালের গবেষকরা৷ তাঁরা এমন একটি অ্যান্টিবডি আবিষ্কার করেছেন, যা ম্যালেরিয়া উদ্দীপক পিএফএসইএ-১ নামের প্রোটিনকে প্রতিরোধ করতে পারে৷

লোহিত কণিকায় বিস্তৃত হয়ে বের হয়ে আসতে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর প্রয়োজন হয় এই প্রোটিন৷ জীবাণুগুলি রক্তে ছড়িয়ে যাওয়ার ফলে রোগীর জ্বর দেখা দেয়৷

গবেষকরা পিএফএসইএ-১ নিয়ে গবেষণা করার সময় আশ্চর্যজনক আবিষ্কার করেন: এই প্রোটিনকে একটি বিশেষ অ্যান্টিবডি দিয়ে আটকে দিলে জীবাণুগুলির জীবনীশক্তিও হ্রাস পায়, এগুলি আর বৃদ্ধি পেতে পারে না৷

যেন এক জ্বলন্ত বাড়ি

‘‘বলা যায় আমরা তাদের এক জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে দেই৷ এরা কোথাও পালাতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না৷'' বলেন সমীক্ষার পরিচালক জোনাথান কুর্টস৷

সাধারণত একটি মশার কামড়েই রক্তে জীবাণু ঢুকে যায়৷ সেখান থেকে চলে যায় লিভারে৷ এরপর লোহিত কণিকায় ঢুকে বিস্তার লাভ করে৷ একটি জীবাণু থেকে আট কিংবা ২৪টি পর্যন্ত হয়ে যায়৷

লোহিত কণিকা ফেটে যাওয়ার আগের অবস্থাকে ‘শিজোন্ট' বলা হয়৷ এই সম্পর্কে বিজ্ঞানভিত্তিক ম্যাগাজিন সাইন্স-এ বর্ণনা করেছেন গবেষকরা৷ ‘শিজোন্ট' আবার তৈরি করেপিএফএসইএ-১ প্রোটিন৷

জীবাণুরোধে অ্যান্টিবডি

গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি, পিএফএসইএ-১ প্রোটিনের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ম্যালেরিয়ার জীবাণুর বিস্তৃতি রোধ করে৷ এছাড়া এই অ্যান্টিবডির টিকা মারাত্মক ধরনের ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত গবেষণাগারের ইঁদুরগুলির আয়ু বাড়িয়ে দেয়৷ সাধারণত এই ধরনের ম্যালেরিয়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মারণঘাতী হয়ে থাকে৷

জোনাথান কুর্টসের কথায়, ‘‘গতানুগতিকের চেয়ে কিছুটা ভিন্নরকম এই পদ্ধতিতে সরাসরি আমরা মানুষের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছি৷ আংশিক পরীক্ষা ইঁদুরের ওপরও চালানো হলেও আসল উপাদানটা মানবদেহের নমুনা নিয়েই বের করা হয়েছে৷ তাই এই টিকা মানবদেহে কার্যকর হবে বলে আমরা আশা করি৷''

গবেষকরা তাঞ্জানিয়ায় ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৭৮৫ বাচ্চার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান৷ দেখা গিয়েছে কয়েকজন বাচ্চা দুই বছর বয়সে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী শক্তি অর্জন করেছে৷ ম্যালেরিয়ার জীবাণু তাদের শরীরে থাকলেও অসুস্থ হয়নি এই শিশুরা৷ অর্থাৎ কিছু মানুষ সহজাতভাবেই এই জীবাণু প্রতিরোধী উপাদান শরীরে বহন করে৷

‘‘আমরা অতি উন্নত মলিকিউল বায়োলজির সাহায্যে জীবাণুর জিন ও প্রোটিন শনাক্ত করতে সক্ষম হই৷ এগুলি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী বাচ্চাদের অ্যান্টিবডিতে শনাক্ত করা গেলেও অসুস্থ বাচ্চাদের অ্যান্টিবডিতে দেখা যায়নি৷'' বলেন গবেষক কুর্টস৷

একই ধরনের ফলাফল

এরপর আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গিয়েছে৷ আর একটি পরীক্ষা চালানো হয় কেনিয়ার তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ওপর৷ এতেও দেখা যায়, যাদের শরীরে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি রয়েছে, তাদের রক্তে ম্যালেরিয়ার জীবাণুর অস্তিত্বও অনেক কম৷

‘‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য বানরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো৷ এরপর মানুষের ওপর আরো পরীক্ষা চালানো হবে৷'' জানান কুর্টস৷ এই অভিজ্ঞতা কার্যকর টিকা তৈরির ব্যাপারে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে৷

হামবুর্গ শহরের ব্যার্নহার্ড-নখ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকাল মিডিসিন-এর ম্যালেরিয়া গবেষক টোমাস ইয়াকবস গবেষণার এই ফলাফলকে অত্যন্ত ‘উত্তেজনপূর্ণ' ও ‘বিশ্বাসযোগ্য' বলে উল্লেখ করেন৷ তবে বাস্তবক্ষেত্রে এই টিকা কতটা কার্যকর হবে,সেটা এখন দেখার বিষয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন