1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

ম্যার্কেলের মহড়া নিতে এসিপিডির নির্বাচনি পরিকল্পনা

সংসদীয় নির্বাচনের সাত সপ্তাহ আগে জার্মানির সামাজিক গণতন্ত্রী দল তাদের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী মার্টিন শুলৎসকে গোটা জার্মানি সফরে পাঠাচ্ছে৷ জরিপে এসপিডি দল সিডিইউ-সিএসইউ দলের চেয়ে বেশ কিছুটা পিছিয়ে৷

সামাজিক গণতন্ত্রীরা তাদের নির্বাচনি প্রচার অভিযানের যে পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে দলের নীতিসমূহের উপর জোর দেওয়া হবে; দ্বিতীয় স্থানে থাকবেন চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী মার্টিন শুলৎস৷ এসপিডি এই প্রচার অভিযানে মোট দু'কোটি ৪০ লক্ষ ইউরো ব্যয় করতে চলেছে৷

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে সামাজিক গণতন্ত্রীরা খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্রীদের সহযোগী৷ কিন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে দু'দল পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী – কাজেই এসপিডি দল তাদের নির্বাচনি প্রচার অভিযানে নিজেদের স্বাতন্ত্র্যের উপরেই বেশি জোর দেবে৷ এসপিডি দলের মহাসচিব হুব্যার্টুস হাইল মঙ্গলবার পাঁচটি নির্বাচনি পোস্টারের কথা বলেন, যেগুলিতে পরিবারবর্গের জন্য সুযোগসুবিধা, অবৈতনিক শিক্ষা, পর্যাপ্ত অবসরভাতা, প্রযুক্তিগত নবায়ন ও নারী-পুরুষের সমান পারিশ্রমিকের মতো সামাজিক গণতন্ত্রীদের বুনিয়াদি নীতিগুলিকে তুলে ধরা হবে৷

একটি পোস্টারে কারখানার এক নারীশ্রমিকের ছবির নীচে লেখা রয়েছে: ‘যে ১০০ শতাংশ কাজ করে, সে ২১ শতাংশ কম আয় করতে পারে না৷' জার্মানিতে মহিলারা যে একই কাজের জন্য পুরুষদের চেয়ে গড়ে ২১ শতাংশ কম রোজগার করে থাকেন – তারই প্রতি ইঙ্গিত৷

এসপিডি-র প্ল্যাকার্ডগুলি থেকে অভিবাসন, উদ্বাস্তু বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলি অনুপস্থিত থাকছে বটে, কিন্তু জার্মানির ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সব প্রসঙ্গই নির্বাচনি অভিযানে আলোচিত হবে, বলে হাইল সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন৷ এসপিডি দল প্রতিদ্বন্দ্বিকে যথেষ্ট আক্রমণ না করে, মানুষজনকে খুশি রাখার প্রচেষ্ট করছে, এই অভিযোগের উত্তরে হাইল বলেন যে, এসপিডি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলির মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে৷ ‘‘আমরা এমনভাবে প্রচার চালাব না যাতে লোকে ভয় পান অথবা তাদের মেজাজ খারাপ হয়'', বলেন হাইল৷

রাজনৈতিক পুনরুত্থান?

মার্টিন শুলৎস

মার্টিন শুলৎস

মঙ্গলবার যে নির্বাচনি প্রচার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, তার কেন্দ্রবিন্দু হবে দলীয় নেতা মার্টিন শুলৎস-এর একটি দেশব্যাপি সফর – যা আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হবে৷ শুলৎস প্রায় ২০,০০০ কিলোমিটার সফর করে ৬০টি স্থানে ভাষণ দেবার পরিকল্পনা করছেন৷ এসপিডি দল বর্তমানে রক্ষণশীল দলগুলির চেয়ে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পিছিয়ে আছে, বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে৷

ইউরোপীয় সংসদের সাবেক সভাপতি শুলৎস যখন এ বছরের সূচনায়  সিগমার গাব্রিয়েলের পরিবর্তে দলীয় সভাপতি ও যুগপৎ চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী হন, তখন স্বল্পকালের জন্য জরিপে এসপিডি দলের জনসমর্থন লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে যায় – সাংবাদিকরা যার নাম দেন ‘শুলৎস এফেক্ট'৷ শুলৎসের দেশ জুড়ে সফর ও বক্তৃতার মাধ্যমে হয়ত সেই ‘শুলৎস প্রভাব'-এর পুনরাবৃত্তি করার আশা করছে এসপিডি দল৷

‘‘নির্বাচনি প্রচার অভিযান এবার বাস্তবিক চালু হচ্ছে'', বলেছেন দলের মহাসচিব হুব্যার্টুস হাইল: ‘‘শেষ দৌড়টাই গুরুত্বপূর্ণ আর আমরা তার জন্য ভালোমতো প্রস্তুত৷''

ম্যার্কেলের ছায়া?

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

আঙ্গেলা ম্যার্কেল

ইতিহাস থেকে দেখা যাচ্ছে, ম্যার্কেলের সিডিইউ দলের সঙ্গে জোট সরকারে সংশ্লিষ্ট দলগুলির তার পরের নির্বাচনেই সাধারণত ভরাডুবি হয়ে থাকে – ২০১৩ সালে মুক্ত গণতন্ত্রী এফডিপি দলের যা হয়েছিল৷ এফডিপি দল সেবার পাঁচ শতাংশ ন্যূনতম ভোটের বেড়া পার হতে পারেনি৷ এবার এসপিডি দলেরও সেই অবস্থা হতে পারে, কেননা এফডিপি এখন জরিপে ৯শতাংশ ভোটে; এমনকি সবুজদের সঙ্গেও সিডিইউ-সিএসইউ দলের জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন কেউ কেউ৷ অপরদিকে অভিবাসন বিরোধী ও জাতীয়তাবাদী এএফডি (‘জার্মানির জন্য বিকল্প') দল প্রায় সব দলের কাছ থেকেই সমর্থক ভাঙিয়েছে – কাজেই এসপিডি-কে সে ব্যাপারটারও মোকাবিলা করতে হবে৷

সামাজিক গণতন্ত্রীরা এবার নির্বাচনি প্রচারে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে৷ সিডিইউ দল দু'কোটি ইউরো মতন খরচা করছে; ছোট ছোট দলগুলির ব্যয় ২০ থেকে ৩০ লাখ৷

এসি/ডিজি (ডিপিএ, এএফপি, রয়টার্স)

জার্মানির সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়