1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

ম্যার্কেলকে আবার চ্যান্সেলর দেখতে চান জার্মানরা

একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে যে, চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সিডিইউ দল তাদের জনপ্রিয়তা ফিরে পেতে শুরু করেছে৷ অপরদিকে এসপিডি দল ও তাদের নতুন নেতা মার্টিন শুলৎসের সমর্থন কমতির দিকে৷

মধ্যপ্রাচ্যে একটানা রাজনৈতিক অস্থিরতা৷ প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ানের নেতৃত্বে স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে তুরস্ক৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃশ্যত দিনের পর দিন পশ্চিমের যৌথ মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন৷ এই পরিস্থিতিতে জার্মানরা আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে চ্যান্সেলর হিসেবে পেয়ে দৃশ্যত খুশি৷  ইনফ্রাটেস্ট-ডিমাপ জরিপ সংস্থা ও জার্মানির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরডি-র সাম্প্রতিক একটি  জরিপে এ কথা জানা গিয়েছে৷

জরিপ অনুযায়ী, ম্যার্কেলের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং' বা অনুমোদনের অনুপাত ২০১৫ সালের হেমন্তে উদ্বাস্তু সংকট শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ প্রধানত সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আগত প্রায় নয় লাখ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীকে জার্মানিতে স্বাগত জানানোর পর ম্যার্কেলের জনপ্রিয়তা অতলে নেমেছিল৷ কিন্তু এখন জার্মানদের ৬৪ শতাংশ চ্যান্সেলর হিসেবে ম্যার্কেলের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট, যার অর্থ, ম্যার্কেল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ৷ এ সপ্তাহের সূচনায় ১,৫০০ জন বাছাই করা নাগরিককে প্রশ্ন করে এই সিদ্ধান্তে আসা হয়৷ 

আঙ্গেলা ম্যার্কেল: সিডিইউ দলের সাফল্যের চাবিকাঠি

সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের বদলে যদি তাদের আজ ভোট দিতে হয়, তবে তারা কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন – এ প্রশ্নের উত্তরে ৩৮ শতাংশ জার্মান বলেছেন, তারা সিডিইউ বা তার বাভেরীয় সংস্করণ সিএসইউ দলকে ভোট দেবেন৷ সে তুলনায় এসপিডি দলের সমর্থন ২৪ শতাংশ ছাড়াতে পারেনি৷ এক্ষেত্রে মার্টিন শুলৎসের তুলনায় ম্যার্কেলের জনপ্রিয়তা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা৷ আরেকটি বিকাশধারায় উদারপন্থি এফডিপি দলের জনসমর্থন বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে – যদিও মুক্ত গণতন্ত্রীরা গত সাড়ে তিন বছর ধরে জার্মান সংসদে অনুপস্থিত৷

অভিবাসনবিরোধী দলগুলি জনপ্রিয় নয়

জরিপে বর্তমান দুই বিরোধী দল, বাম ও সবুজদের জনসমর্থন যথাক্রমে আট ও সাত শতাংশ৷ এর একটা কারণ সম্ভবত এই যে, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সময় ভোটাররা সাধারণত ক্ষমতাসীন সরকারের উপরেই নির্ভর করে থাকেন৷

জার্মানির জন্য বিকল্প, অর্থাৎ এএফডি আদতে একটি অভিবাসন বিরোধী ‘পপুলিস্ট' দল৷ এই নতুন জরিপে তারা নয় শতাংশ সমর্থন পেয়েছে৷ অর্থাৎ এএফডি যে বুন্ডেসটাগে কিছু আসন পাবে, তা নিশ্চয় করে বলা যায়, যদিও তাদের জনপ্রিয়তা ইউরোপের অন্যান্য পপুলিস্ট দল – যেমন ফ্রান্সের ফ্রঁ নাসিনাল বা ন্যাশনাল ফ্রন্টের তুলনায় অনেক কম৷

 

এসপিডি-র ওঠানামা

ইউরোপীয় সংসদের সাবেক অধ্যক্ষ মার্টিন শুলৎস এ বছরের গোড়ায় কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই এসিপিডি দলের চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করে৷ গত মার্চে একটি দলীয় সম্মেলনে তিনি প্রতিনিধিদের ১০০ শতাংশ সমর্থন পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেন৷ শুলৎস দলপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর দশ হাজারের বেশি নতুন সদস্য এসপিডি-তে যোগদান করেছেন, বলে প্রকাশ৷ পাশাপাশি এসপিডি দলের জনসমর্থনও বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে ম্যার্কেলের সিডিইউ দলকে ছাড়িয়ে যায়৷

কিন্তু শুলৎসের জনপ্রিয়তা হঠাৎই পড়তে শুরু করে৷ অপরদিকে ম্যার্কেল ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও ইটালিতে জি-সেভেন শীর্ষবৈঠক উপলক্ষ্যে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ আজ এসপিডি দলের জনসমর্থন সিডিইউ দলের চেয়ে ১৪ শতাংশ পিছিয়ে; জার্মানদের মাত্র ৩৬ শতাংশের মতে শুলৎস প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছেন৷

ট্রাম্প ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন সংশয়

জরিপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জার্মানদের মনোভাব সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়েছিল৷ উত্তরদাতাদের মাত্র পাঁচ শতাংশ বলেছেন যে, তাঁরা নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর আস্থা রাখেন৷ মাত্র ২১ শতাংশের মতে, দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আস্থাভাজন – যদিও অতীতে দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে জার্মানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে বিবেচনা করা হয়ে এসেছে৷ প্রসঙ্গত, ঐ একই পরিমাণ জার্মান, অর্থাৎ ২১ শতাংশ রাশিয়াকে আস্থাভাজন বলে বিবেচনা করেন৷ সেক্ষেত্রে এমানুয়েল মাক্রোঁ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর এই জরিপে উত্তরদাতাদের ৯৪ শতাংশ বলেছেন যে, তারা ফ্রান্সের উপর আস্থা রাখেন৷

ইয়েন্স থুরাও/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়