1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ম্যামথ’রা বিলুপ্ত হল কি করে?

প্রাগৈতিহাসিক সুবিশাল লোমশ ও দাঁতাল হস্তি ম্যামথরা নাকি প্রায় ১০,০০০ বছর আগে মানুষের অতিরিক্ত শিকারের ফলে লোপ পায়৷ কিন্তু এ’অভিযোগ সত্য না’ও হতে পারে, বলছেন বিজ্ঞানীরা৷

default

ম্যামথ নামধারী ঐ দানবীয় দাঁতালদের ডাইনোসরদের পর্যায়ে ফেলার কোনো উপায় নেই৷ ম্যামথরা ‘প্রাক-ঐতিহাসিক' হলেও, বস্তুত মানুষরা অক্ষর এবং লিপি আবিষ্কার করার অনেক পর অবধি তারা বেঁচে ছিল৷ শেষ তুষার যুগের আগে ইউরেশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে ম্যামথদের বড় বড় দল ঘুরে বেড়াতো৷ তার অনেক পরেও তাদের একটি দল সুমেরু সাগরের একটি দ্বীপে বেঁচে ছিল৷ দ্বীপটির নাম ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ড৷ আজ সেটি রুশ মালিকানায়৷

রেডিওকার্বন ডেটিং করে দেখা গেছে যে শেষ ম্যামথরা সম্ভবত খ্রীষ্টজন্মের ১,৭০০ বছর আগেও ঐ ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ডে বেঁচে ছিল৷ মানবেতিহাস তার অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে৷

দোষ কার বা কিসের?

এখন প্রশ্ন ওঠে, ম্যামথরা হঠাৎ লোপ পেল কেন? আদৎ উত্তর ছিল, মানুষের শিকারের ফলে৷ পরে তার সঙ্গে যুক্ত হয়, ইউরোপ এবং এশিয়ার অংশবিশেষে জঙ্গল বাড়তে থাকার ফলে নাকি তৃণভোজী ম্যামথরা স্রেফ না খেতে পেয়ে মরে৷

In Kleinwelka bei Bautzen im Saurierpark von Franz Gruß entsteht ein neues Bild der Evolutionsgeschichte.

সত্যিই কি মানুষের অতিরিক্ত শিকারের ফলে লোপ পায় ম্যামথ?

তার পরের যুক্তি হল, ম্যামথরা মানুষের নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হয়েছে৷ তাদের লোম দেখলেই বোঝা যায় যে, তারা তুষারের জীব৷ তুষার যুগের অন্ত ঘটা'ই তাদেরও অন্ত ঘটায়৷

সেই তুষারদ্বীপ

বিজ্ঞানীদের মনোযোগ গিয়ে পরে ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ডের ওপর৷ দ্বীপটি প্রায় ৯,০০০ বছর আগে অবধি একটি প্রাকৃতিক তুষারসেতুর মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল৷ ১২,০০০ থেকে ৯,০০০ বছরের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সেই সেতুটি উধাও হয় এবং দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ এবং ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ডে মানুষের পদার্পণ ঘটে ম্যামথরা বিলুপ্ত হবার প্রায় ১০০ বছর পরে৷

তত্ত্বের বৈচিত্র্য

তাহলে বাকি থাকে তিনটি সম্ভাবনা: হয় ঐ শেষ ম্যামথরা কোনো নতুন রোগজীবাণু অথবা ভাইরাসের শিকার হয়েছে, নয়তো তারা কোনো একটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছে৷ নয়তো - এবং এ'টি ছিল তৃতীয় যুক্তি - তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের জিন-বৈচিত্র্যও কমে গেছে এবং তা' থেকেই তাদের বিলোপ ঘটেছে৷

কিন্তু সুইডেনের স্টকহোল্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ম্যামথের হাড় থেকে ডিএনএ নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, শেষ পর্যায়েও তাদের জিন-বৈচিত্র্য কিছুমাত্রায় কমেনি৷

কাজেই ম্যামথদের বিলুপ্তির রহস্য তুষারাচ্ছন্নই থেকে যাচ্ছে৷

প্রতিবেদক: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়