1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

মৌমাছি, মধুচাষ এবং পরিবেশ

কৃষিকাজে যথেচ্ছ কীটনাশক ব্যবহারের ফলেই ইউরোপ জুড়ে মৌমাছিদের বংশলোপ হচ্ছে, এমন একটা কথা বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে৷ বাভারিয়ার মধুচাষি আলব্রেশ্ট পাউশ-এর সন্দেহও সেদিকে৷

বাভেরিয়ার ছোট্ট গ্রাম শায়ার্ন৷ এখানেই আলব্রেশ্ট পাউশ'এর ‘বিনেনহোফ' বা মধুর চাষ৷ ইন্টেল কোম্পানিতে ১৮ বছর ম্যানেজার ছিলেন আলব্রেশ্ট, পরে মৌমাছি পোশাকে নেশা থেকে পেশা বানান৷ আজ তিনি অর্গানিক মধুচাষি, দশ বছর যাবৎ মধু বেচে সংসার চালাচ্ছেন৷ মধুর চাকগুলো পরীক্ষা করে দেখার আগে অ্যাশ গাছের কাঠের ধোঁয়া দেন আলব্রেশ্ট৷ ওতে মৌমাছিরা ঝিমিয়ে থাকে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে আরো কিছু কীটনাশক নিষিদ্ধ করেছে, তাতে আলব্রেশ্ট খুশি৷ মাত্র গত ডিসেম্বরে, তাও দু'বছরের জন্য, কিন্তু তাই বা কম কি? পাউশ বলেন, ‘‘ইইউ-এর নিষেধাজ্ঞাটা খুবই ভালো হয়েছে বলে মনে হয়েছে আমার৷ সব মিলিয়ে তিন ধরনের নিয়োনিকোটিনয়েড নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ কাজেই মৌমাছিদের রহস্যজনক মৃত্যুর একটা কারণ অন্তত কমলো৷''

অজ্ঞাত আততায়ী

গত তিন বছর ধরে আলব্রেশ্ট দেখছেন, তাঁর মৌমাছিরা আগের চেয়ে বেশি তাড়াতাড়ি মরে যাচ্ছে৷ তার অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন ভারোয়া প্যারাসাইট৷ কিন্তু আলব্রেশ্ট ও তাঁর মধুচাষি সতীর্থদের সন্দেহ আধুনিক কীটনাশকগুলির উপর৷ এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে কীটনাশক মাখানো ভুট্টার দানা৷ নিয়োনিকোটিনয়েড হল এক ধরনের স্নায়ুর বিষ, যা সব কীটপতঙ্গের জন্যই মারাত্মক৷ মৌমাছিদের জন্যেও কি?

গ্রিনপিস পরিবেশ সংগঠনের ডিয়র্ক সিমারমান নানা বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদাহরণ দিলেন, যা থেকে দেখা গেছে যে, মৌমাছিদের উপর কীটনাশকের প্রভাব পড়ে – তা সব সময়ে মারাত্মক না হলেও৷ সিমারমান বললেন, ‘‘কীটনাশকের কারণে মৌমাছিদের আচার-ব্যবহার, শিক্ষা, দিকনির্ণয়ের ক্ষমতা, মধুসংগ্রহ, সব কিছু প্রভাবিত হয়, এমনকি তাদের শারীরিক বৃদ্ধিও৷ মৌমাছির মতো একটি জটিল, আশ্চর্য ক্ষমতাসম্পন্ন জীবের পক্ষে তা শেষমেষ মারাত্মক হয়, মৌমাছি সরাসরি সে বিষে না মরলেও৷''

ফসলের ক্ষতি রুখতে কীটনাশক – কিন্তু মৌমাছিরা?

কীটনাশকরাই যে সর্বনাশের মূল, মাক্স ভাইশেনরিডার তা পুরোপুরি বিশ্বাস করেন না৷ তিনি বাভেরিয়ার খামারচাষি, আলব্রেশ্ট পাউশ-এর মধুর চাকগুলোর কাছেই তাঁর খামার৷ তিনি হপ্স, রেপসিড ইত্যাদির চাষ করে থাকেন৷ তাঁর ফসলের ক্ষতি করে যে সব পোকামাকড়, তাদের সামলাতে কীটনাশকের দরকার৷ ইইউ-র নির্দেশিকা তড়িঘড়ি করে আনা হয়েছে বলে তাঁর ধারনা৷ কাজেই তাঁর দাবি, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি কিছু নিষিদ্ধ করে, তাহলে তার কারণ স্পষ্ট ও বোধগম্য হওয়া উচিত৷ এ ভাবে নয়৷ পরীক্ষাগারের ফলাফলের সঙ্গে বাস্তবে কী ঘটছে, বছরের পর বছর মৌমাছি পর্যবেক্ষণ থেকে যা জানা গেছে, তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই৷ এ সব রিপোর্ট ঠিক না ভুল? সেটাই হল সমস্যা৷''

‘‘মোর দ্যান হানি'', ‘মধুর চেয়ে বেশি', এই নামের একটি তথ্যচিত্র থেকেই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত৷ তথ্যচিত্রের বিষয় মৌমাছিদের মৃত্যু৷ ছবিতে বোঝা যায়, সারা বিশ্ব জুড়ে মৌমাছিরা ঝাঁকে ঝাঁকে মরছে৷

সব মহাদেশেই মৌমাছিরা বিপন্ন, যদিও প্রকৃতিতে তাদের কাজ অসীম গুরুত্বপূর্ণ৷ ৮০ শতাংশ উদ্ভিদের পরাগ ছড়ায় এই মৌমাছিরা৷ তারা যে কাজটা করে, সেটা যদি যন্ত্রের সাহায্যে করতে হতো, তবে তার বাৎসরিক মূল্য দাঁড়াত আনুমানিক ২৬ হাজার কোটি ইউরো৷

নিষেধাজ্ঞার ভালো-মন্দ

খামারচাষি ভাইশেনরিডার নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বাস করেন না৷ নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থানীয় রেপসিড অথবা হপ্স চাষিদের রুজিরুটি নিয়ে টান পড়বে বলে তাঁর ধারণা৷ চাষিরা চান বা নাই চান, তারা কীটনাশকের উপর নির্ভরশীল৷ ভাইশেনরিডার নিজেও তার ব্যতিক্রম নন৷ তিনি বলেন, ‘‘এখনই আমাদের কীটনাশক ব্যবহারে কড়াকড়ি আছে৷ নানা কড়া শর্তের বেড়াজালে এই সব কীটনাশকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে৷ তার মধ্যে মৌমাছিদের সুরক্ষাও আছে৷ কাছে ফুলের গাছ থাকলে কীটনাশক স্প্রে করা চলবে না, যদি সে গাছে ফুল ধরে থাকে আর সে ফুল ফুটে থাকে৷''

তবুও এটা ঠিক যে ইতিমধ্যে প্রায় সব ধরনের মধুতেই কীটনাশকের রেশ পাওয়া গেছে৷ কাজেই অর্গানিক মধুচাষি আলব্রেশ্ট পাউশ ইইউ-র নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে৷ তাঁর মতে, এর এক প্রতীকি দিকও রয়েছে৷ পাউশ বলেন, ‘‘এই নিষেধাজ্ঞা সারা বিশ্বে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করবে৷ ইউরোপের জন্যও তা মঙ্গলজনক, কেননা এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য আসবে৷ কাজেই ক্যানাডা অথবা অ্যামেরিকার চাষিরাও এদিকে তাকিয়ে রয়েছেন৷''

অ্যামেরিকা অথবা ইউরোপ – আলব্রেশ্ট পাউশ-এর আশা হল, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই একক পদক্ষেপের ফলে কীটনাশক নিয়ে আলোচনা শুরু হবে৷ হয়তো মানুষজন ভাবতে শুরু করবে, মৌমাছিরা তাদের জন্য কী করে, আর তাদেরই বা মৌমাছিদের জন্য কী করা উচিত?

ইন্টারনেট লিংক