1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মোদী সরকার নিয়ে মমতার অবস্থান বদল, জল্পনা

মোদী সরকার প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অবস্থান নাকি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়েছেন – সোমবার মোদী-মমতার বৈঠকের পর এমন কথাই শোনা যাচ্ছে৷ এ দিন সংসদ ভবনে মমতার সঙ্গে ছিল একটি বড় মাপের প্রতিনিধিদলও৷

নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ৯-১০ মাসের মধ্যে তাঁর মুখোমুখি হননি মমতা, এড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সব রকমের সৌজন্য সাক্ষাৎ৷ প্রধানমন্ত্রীর ডাকা রাজ্য-মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকেও যোগ দেননি তিনি৷ শুধু তাই নয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া, সংক্ষেপে নীতি আয়োগ গঠনের বৈঠকে গরহাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নীতি আয়োগ গঠন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থি বলে সমালোচনা করতেও ছাড়েনি তিনি৷ এমনকি সংসদের চলতি অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের ওপর সংশোধনি আনতে তৃণমূলের চিরবৈরি সিপিএম-এর হাত ধরতেও কসুর করেনি তৃণমূল৷ কী এমন ঘটলো যাতে মমতার এই পরিবর্তন? রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে তাই আজ জল্পনার অন্ত নেই৷

Manmohan Singh Indien Ministerpräsident und Sheikh Hasina

হাসিনা-মনমোহন শেষ বৈঠকেও তিস্তা নিয়ে কিছু হয়নি!

মমতা মুখে অবশ্য বললেন, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাথায় ঋণের বোঝা লাঘব করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতেই এই বৈঠক৷ তিনি বলেন, গত ৩৪ বছরের পূর্বতন বাম জমানায় সুদে আসলে হিমালয় প্রমাণ ঋণ জমে গেছে রাজ্য সরকারের ঘাড়ে, যা শোধ করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার৷ তাই কেন্দ্রীয় সরকার যেন রাজ্য সরকারকে তা মেটানোর দায় থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেন৷ এ জন্য মোদীর সহযোগিতা চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধায়৷ আর রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷

এরপরেও বিশ্লেষকরা এই বৈঠকের পেছনে রাজনৈতিক গন্ধ পাচ্ছেন৷ মমতা-মোদীর একে অপরের প্রতি অবস্থান বদলের নেপথ্য কারণ হিসেবে যেটা দেখা হচ্ছে, তা হলো সারদা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় তদন্থ ব্যুরো সিবিআই তদন্তে রাজ্যের শাসকদলের মন্ত্রী থেকে হোমড়া-চোমড়ারা যেভাবে ফেঁসে যাচ্ছেন, তাতে শেষ পর্যন্ত এই জল কোথায় গড়ায় – তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন ঘোর অস্বস্তিতে৷

গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো তৃণমূলের একদা স্তম্ভ মুকুল রায় সিবিআই জেরার মুখে রাজসাক্ষী হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কিনা – তা নিয়েও শঙ্কার শেষ নেই৷ জেরার পর মুকুল রায়ের শরীরী ভাষাকে সেভাবেই অনেকে ব্যাখ্যা করেছেন৷ এখন মুকুল রায় মমতার চক্ষুশূল৷ তাহলে এ পরিস্থিতির সামাল দিতেই কি মমতা মোদীর সহযোগিতা চান? প্রশ্নটা কোটি টাকার৷ মুকুল রায়ের ডানা ছাঁটা চলছে৷ তাই ভবিষ্যতে মুকুল রায়কে যাতে বিজেপি প্রশ্রয় না দেয়, সেই পথ বন্ধ করতে মমতা তাঁর চেষ্টার কার্পণ্য একেবারেই করছেন না, ধারণা এমনটাই৷

অন্যদিকে মোদীরও দরকার মমতাকে৷ বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা ও সদিচ্ছা বাড়াতে মোদী চান ঢাকার সঙ্গে যে দুটি বিষয় এখনো ঝুলে আছে, তার গ্রহণযোগ্য সমাধান করতে৷ এ দুটি বিষয় হলো স্থলসীমা চুক্তি এবং তিস্তার জল বা পানি বণ্টন চুক্তির জট ছাড়ানো৷ বলা বাহুল্য, এই দুটি চুক্তির বাস্তবায়নে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সমর্থন জরুরি৷ কারণ সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মোদী সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতে বিজেপির নেই৷ সেক্ষেত্রে মমতার তৃণমূলের সমর্থন দরকার৷

উল্লেখ্য, শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী৷ তার আগে সংসদের শিলমোহর নিয়ে ঢাকাকে মোদী সরকারের দেয়া বড় উপহার হবে ঐ দুটি চুক্তির বাস্তবায়ন৷ এছাড়া জমি অধিগ্রহণ বিলের মতো অন্যান্য বিল পাশ করাতেও তৃণমূলকে পাশে পেতে চান তিনি৷ এক কথায় রাজনীতির সেই ‘গিভ অ্যান্ড টেক পলিসিটা' এবার নিয়েছেন মোদী, যেটা কখনোই একতরফা হয় না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়