1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মোদী সরকারের দু’বছরে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

মোদী সরকারের ‘আচ্ছে দিন'-এর প্রতিশ্রুতি এখনও মরীচিকা৷ ‘সর্বাধিক প্রশাসন, সর্বনিম্ন সরকার' যেন স্লোগানই রয়ে গেল৷ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি? সেও চোখে পড়ার মতো নয়৷ এর মাঝেই চলছে সরকারের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনের তোড়জোর৷

এহ বাহ্য হালের বিধানসভা ভোটে আসামে বিজেপি সফল৷ এ সাফল্যকে সামনে রেখে মোদী সরকারের দ্বিতীয় বর্ষ পূর্তি পালনে তৈরি৷ দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে জোরেসোরেই চলছে তার প্রস্তুতি৷ পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে চলেছে মোদী সরকারের দু’বছরের পোস্টমর্টেম৷

মোদী সরকারের দু’বছর পার হবার পর দেশের চালচিত্রে কী রং ধরেছে? ‘অচ্ছে দিন'-এর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ কি চোখে পড়ছে? এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে৷ অর্থনীতিবিদদের মতে, জাতীয় অর্থনীতি এখনও ইতিবাচক স্তরে পৌঁছাতে পারেনি৷ শিল্প ও বুনিয়াদী উত্পাদন আশানুরূপ হয়নি৷ কর্মসংস্থান বাড়েনি৷ বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি৷ আর রপ্তানি? নেতিবাচক গন্ডি ছাড়াতে পারেনি৷ তারসঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশাসনিক মন্থরতা৷ সব মিলিয়ে দেশি-বিদেশি লগ্নিকারীদের মনোবল নুয়ে পড়েছে৷

তবে হ্যাঁ, ইতিবাচক কিছুই হয়নি-এমনটা বলা বোধহয় ঠিক হবে না৷ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও গতি এসেছে৷ রাস্তাঘাট, হাইওয়ে, বন্দর, বিদ্যুত ও কয়লা ক্ষেত্রে অক্সিজেন জুগিয়ে যাচ্ছে মোদী সরকার৷ সাবেক কংগ্রেস জমানায় এই খাতের ‘শ্বাসকষ্ট' দেখা দিয়েছিল৷ কয়লা খনি নিলাম পদ্ধতিকে করা হয়েছে স্বচ্ছ৷ আমলাতান্ত্রিক জট ছাড়িয়ে পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ চলেছে৷

মোদী সরকারের বর্ষপূর্তির প্রস্তুতি

মোদী সরকারের দু বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি

ভরতুকির ক্ষেত্রেও সংস্কার প্রক্রিয়ার পরিণামে রান্নার গ্যাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তরে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে সমাজের নিম্নবিত্তরা৷ সেটা সম্প্রসারিত করা হচ্ছে খাদ্য, কেরোসিন, সারের ক্ষেত্রে৷ ডিজেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয়েছে৷ দাম হবে বাজার অনুসারে৷ হাইড্রো-কার্বন অনুসন্ধান, খনন ও উত্তোলনের লাইসেন্সিং নীতিকে করা হয়েছে আরও উদার যাতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ বিনিয়োগ লাভজনক হয়ে ওঠে৷ অন্যদিকে, ‘মেক ইন্ডিয়া,স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া' ডিজিটাল ইন্ডিয়া শ্লোগানের বাস্তবায়ন গত দু’বছরে তেমন অনুভূত হয়নি৷

রাজনৈতিক দিক থেকে দিল্লি ও বিহারের নির্বাচনি ভরাডুবির পর হালের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের হাত থেকে বিজেপি ছিনিয়ে নিতে পেরেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মসনদ৷ পশ্চিমবঙ্গে ছোট একটা জায়গা করে নিয়েছে তিনটি আসনে জিতে, আগে সেটাও ছিল না৷ এটাই বিজেপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্য৷

সামনে উত্তর প্রদেশ নির্বাচন৷ কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের ডাক দিয়ে থাবা বসাতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি৷ পাল্টা স্লোগানে কংগ্রেস বলছে, ‘বিজেপির দুই সাল, দেশের শোচনীয় হাল'৷ অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, দাদরি গোমাংস কান্ড, গেরুয়া রাজনীতি, হায়দ্রাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলিত ছাত্র রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যা, দিল্লির জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ, আদালতে সাংবাদিকদের মারধর ইত্যাদি৷ এ সবই হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নাকের ডগায় অথচ উনি নির্বিকার৷

মোদী সরকারের দু’বছরের শাসনকাল সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশিষ্ট অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল্যায়ন জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ‘‘ক্ষমতায় আসার আগে মোদীর প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার চোখে পড়ছে না৷ বিকাশের জোয়ার আসেনি৷ যে পরিমাণ বিদেশি লগ্নি আসার কথা ছিল, তা আসেনি৷ তবে সবচেয়ে উদ্বেগের কারণ হলো, শিক্ষা ক্ষেত্রে গৈরিকীকরণ৷

তবে এ কথা ঠিক, হাজার প্ররোচনা সত্ত্বেও পররাষ্ট্রনীতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী যথেষ্ট সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন৷ যুক্তরাষ্ট্র, চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছেন৷ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করতে মোদী যে আগ্রহী স্থলসীমা চুক্তি তারই প্রমাণ৷

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্বেও তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ-সহযোগিতার কারণে৷ অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক খারাপ হতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি৷ মোটামুটি একটা রাজনৈতি স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পেরেছেন৷ সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে না পারলেও বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলাও হতে দেননি তিনি৷ ডয়চে ভেলের কাছে এমন মতই ব্যক্ত করলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়