মোদী সরকারের গঙ্গা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প | বিশ্ব | DW | 27.07.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মোদী সরকারের গঙ্গা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প

এক রিপোর্ট বলছে, আগামী ২০ বছরে গঙ্গা নদী-ভিত্তিক প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার মৃত্যু হতে পারে যদি না গঙ্গার জলপ্রবাহ অবাধ ও দূষণমুক্ত করা হয়৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর গঙ্গা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প সেই লক্ষ্যে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ৷

Sadhu lässt die Haare fliegen

ফাইল ফটো

তবে নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেগা প্রকল্পে অতীতের ভুলভ্রান্তি পরিহার করা জরুরি৷

ভারতবর্ষ নদীমাতৃক দেশ৷ গোটা উত্তর ও পূর্ব ভারতের বৃহত্তর জনজীবন শস্য শ্যামল হয়ে উঠেছে এই গঙ্গা নদীকে ঘিরে৷ কিন্তু অকৃতজ্ঞের মতো গঙ্গার সঞ্জীবন শক্তিকে একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে৷ প্লাস্টিকের আবর্জনা, গঙ্গার দু পাড়ের কলকারখানার দূষিত নোংরা পানি, পুজার ফুল বেলপাতা আর অর্ধদগ্ধ শব ও শবদাহের পোড়া কাঠ আর শ্মশানের পড়ে থাকা আবর্জনা ফেলে গঙ্গাকে মেরে ফেলা হচ্ছে

এবার নরেন্দ্র মোদী তীর্থ শহর বারাণসী থেকে সংসদে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন৷ তাই ভোটের আগে এবং পরে বারাণসী তথা গঙ্গা নদীর পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ সেই প্রতিশ্রুতি পালনে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর সরকারের প্রথম বাজেটে বরাদ্দ করেন ৬,৩০০ কোটি টাকা৷

কি আছে এই মেগা গঙ্গা প্রকল্পে?

এই প্রকল্পে ২,০৩৭ কোটি টাকা খরচ করা হবে নদীর পুনরুজ্জীবনে আর ৪,২০০ কোটি টাকা আগামী পাঁচ বছরে নদীর নাব্যতা বাড়িয়ে নৌ-চলাচলের জন্য বিশেষ করিডর গড়ে তোলার কাজে খরচ করা হবে৷ আর ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে গঙ্গাঘাটগুলির সংস্কার এবং নদী তীরের সৌন্দর্যায়নে৷

পাশাপাশি গঙ্গা নদীকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে নানারকম কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে৷ যেমন, গঙ্গায় নৌকা বিহারের জন্য কাশ্মীরের ধাঁচে শিকারা, ভাসমান হোটেল ইত্যাদি নির্মাণ করা হবে৷ বারাণসী ও হুগলির মধ্যে গঙ্গাপথের নাব্যতা বাড়াতে প্রতি ১০০ কিলোমিটার অন্তর একটি সেতু নির্মিত হবে৷

এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করতে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নদী বিশেষজ্ঞ, এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছিল৷ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব বহিরাঙ্গিক প্রসাধনী বিকাশে কি প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে? গঙ্গা নদী কি তার জীবন ফিরে পাবে? অতীতেও ‘অ্যাকশন প্ল্যান' ‘গঙ্গা বাঁচাও গণআন্দোলন' হয়েছিল৷ কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই৷ বর্তমান গঙ্গা প্রকল্পে অতীতের সেইসব ভুলভ্রান্তি তাই প্রথমে পরিহার করতে হবে৷ তা না হলে নদীর ভঙ্গুর ইকো-সিস্টেম আরো ভেঙে পড়বে৷

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গঙ্গার দুই তীরের শতাধিক শহরে অবস্থিত কলকারখানা ও গৃহস্থ বাড়ি থেকে দৈনিক ৩০০ কোটি লিটার নোংরা, বর্জ্য পদার্থ ও বিষাক্ত নিকাশি জল গঙ্গায় ফেলা হয়৷ ভারতের বিশিষ্ট নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্র ডয়চে ভেলেকে জানান, কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ এবং বিষাক্ত রাসায়নিক নদীতে যাতে বিনা ট্রিটমেন্টে ফেলা না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে৷ এরই সঙ্গে জাগিয়ে তুলতে হবে জনমানসে সচেতনতা৷ তারজন্য চাই একটা প্লাটফর্ম বা মঞ্চ৷

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মতে, গঙ্গা পাড়ের শ্মশানে বছরে ৩৩ হাজার মরা পোড়ানো হয়৷ তারজন্য জ্বালাতে হয় ১৬ হাজার টন কাঠ৷ তা থেকে বের হয় ৭০০ টন ছাই ও অন্যান্য আবর্জনা৷ এরথেকেও বড় সমস্যা বাঁধ নির্মাণ৷ গঙ্গার ওপর ৬০০ বাঁধের নির্মাণ হয় সম্পূর্ণ হয়েছে, না হয় নির্মীয়মান অবস্থায় আছে৷ তাই প্রথমে দরকার যথেচ্ছ বাঁধ নির্মাণে কড়াকড়ি৷ বাঁধ নির্মাণের ফলে গঙ্গার জলপ্রবাহ আটকে টানেলে প্রবাহিত করা হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে৷

Kanpur Ganga Umweltverschmutzung

শ্মশানের পড়ে থাকা আবর্জনা ফেলে গঙ্গাকে মেরে ফেলা হচ্ছে (ফাইল ফটো)

এতে স্থানীয় মানুষজনদের জীবিকাই যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই নয়, জীববৈচিত্র্য ও পারিপার্শিক ইকো-সিস্টেম বিপন্ন হয়ে পড়ে৷ এটাকে আগে মাথায় রাখতে হবে৷ নাহলে মোদীর মেগা গঙ্গা প্রকল্প অতীতের মতোই সাফল্যের মুখ দেখবে না৷ তাই করণীয় হলো মেকি শ্লোগান, মিছিলের বদলে সত্যিকারের সচেতনতা৷ না হলে প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে কেউ রক্ষা পাবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন