1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

মোদী ঝড়ে মাথা নোয়ালো কংগ্রেস

গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিল মোদীর নিজস্ব ‘ক্যারিসমা' আজও অম্লান৷ এখন পর্যন্ত গুজরাটের ১৮২টি আসনের মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে গেছে ৯৯ আর কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন৷ হিমাচল প্রদেশও ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি৷

গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন হলেও গোটা দেশ এই নির্বাচনি ফলাফলের দিকে সাগ্রহে তাকিয়েছিল৷ কেন? নোটবন্দি, কর ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন জনসাধারণ বেজায় খাপ্পা৷ বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে মোদী বিরোধিতায় আসরে নেমেছিল কোমর বেঁধে৷ তা দেখে বিজেপি শিবিরে ভেতরে ভেতরে যে একটা কম্পন শুরু হয়েছিল, তাতে সন্দেহ নেই৷

কথাটা আংশিক হলেও সত্যি৷ গত ২২ বছরের মধ্যে বিজেপি এবার পেয়েছে সবথেকে কম আসন৷ কংগ্রেসের নতুন সভাপতি রাহুল গান্ধী মোদী সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করতে গুজরাট চষে বেড়িয়েছেন৷ প্রতিটি নির্বাচনি জনসভায় মোদীকে দাঁড় করিয়েছেন কাঠগোড়ায়৷ বোঝাতে চেষ্টা করেছেন আমজনতার দুঃখ কষ্টের আসল কারণ মোদী সরকার৷ পাশাপাশি রাজ্যের পাতিদার সম্প্রদায় হার্দিক প্যাটেলের নেতৃত্বে রাজ্যে যথেষ্ট ধুলো উড়িয়েছিল৷ ফলে একমাত্র সৌরাষ্ট্র অঞ্চলেই তারা মোটামুটি ছাপ রাখতে পেরেছে৷

নির্বাচনে জেতার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি বক্তব্য রেখেছেন টেলিভিশনে৷ 

তবে এবারের নির্বাচনি প্রচারের মান নিয়ে দেখা দিয়েছিল বিতর্ক৷ কংগ্রেস নেতা মনিশংকর আইয়ারের মন্তব্য মোদী ‘নীচ' চলতি অর্থে যার মানে ছোটলোক৷ অন্যদিকে মোদী স্বয়ং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং অন্যানদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ তোলেন৷ দু'টোই ন্যক্কারজনক৷ এই নিয়ে অনেকের অনুমান ছিল দুই রাজ্যের নির্বাচনি ফলাফলে হয়ত তার প্রতিফলন পড়তে পারে৷ কিন্তু সব আশংকা নস্যাত করে দিয়ে মোদী তাঁর আপন রাজ্য গুজরাটে এই নিয়ে টানা ছয়বার সরকার গড়তে চলেছেন৷ মোদীবিরোধী প্রচার তাঁর জনপ্রিয়তায় তেমন কোনো আঁচড় লাগাতে পারেনি৷

হিমাচল প্রদেশে ছিল কংগ্রেসের রাজত্ব৷ সেখানেও মোদীর ‘ম্যাজিক' আর অমিত শাহের ভোট রণনীতিতে একেবারে কূপকাত কংগ্রেস৷ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা বিজেপির৷ এই হারের পর কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তাঁর টিউটার অ্যাকাউন্টে নিজের হার শিকার করেছেন৷


রাজ্যের ৬৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪৪টি আসন আর কংগ্রেস পেয়েছে ২১টি আসন৷ উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও অনেকে ভেবেছিলেন বিজেপি সরকারর নোটবন্দি নীতি, করনীতি এবং তাৎক্ষণিক তালাক রদ করার সিদ্ধান্ত মানুষ মেনে নেবে না৷

তালাক প্রথা রদ করার নীতিত মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাংক হাতছাড়া হয়ে যাবে বিজেপির৷ কিন্তু হলো একেবারে বিপরীত৷ বিপুল সংখ্যাধিক্যে জিতে এলো মোদী তথা বিজেপি৷ পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, মোদীর গেরুয়া ঝড় যেভাবে একের পর এক রাজ্য দখল করছে৷ তাতে আর মাত্র ১০টি রাজ্য নিতে পারেই বিজপি হয়ে উঠবে দেশে একম অদ্বিতীয়ম৷ ঐ ১০টি রাজ্য সিপিএম-শাসিত কেরালা ও ত্রিপুরা, এআইএডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ু, তৃণমূল কংগ্রেস-শাসিত পশ্চিমবঙ্গ, বিজেডি শাসিত ওড়িষা, টিআরএস-এর তেলেঙ্গানা, আম আদমি পার্টি শাসিত দিল্লি, কংগ্রেস শাসিত মেঘালয় ও মিজোরাম এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টের নাগাল্যান্ড, অন্ধ্রপ্রদেশের টিডিপি এবং জেডি (ইউ) শাসিত বিহার কেন্দ্রে বিজেপি সরকারে জোটসঙ্গি৷

গৈরিক পার্টির মতে, মোদী সরকারের নীতি যে জনগণের সংখ্যাগরিষ্ট অংশ অনুমোদন করেছে গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশের নির্বাচনি ফালাফলই তার প্রমাণ৷ মোদীর বিকাশ নীতির জয়৷ মোদী সরকারের আস্থা ভোট৷ ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ'৷ এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে ১০১৮ সালে কেন্দ্রের শেষ পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বাজেট সম্ভবত দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়