1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মোদী-ওবামার শীর্ষ বৈঠকের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ভারত সফরের বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে যোগ-বিয়োগের অঙ্ক কষা হচ্ছে৷ মোদী কী দিলেন, কী পেলেন – তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই৷ তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিশ্ব রাজনীতিতে কিছুই একতরফা নয়৷

সব সময় ‘টু-ওয়ে ট্র্যাফিক'৷ তবে হ্যাঁ, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, যত গর্জে তত বর্ষে না৷ যেমন প্রথমেই মনে পড়ছে ২০০৮ সালে সই হওয়া ভারত-মার্কিন বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি৷ অনেক গালভরা কথার ফানুস উড়িয়ে সেই চুক্তি সই হবার পর আজ প্রায় সাত বছর হতে চললো৷ কিন্তু তার সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, ঐকমত্যের অভাবে সে চুক্তি বন্দি হয়ে আছে হিমঘরে৷ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়েও অনেক আশার বাণী শোনানো হয়েছিল অতীতে, মূলত বিল ক্লিন্টন এবং জর্জ বুশের ভারত সফরে৷ কিন্তু তার বাস্তবায়ন আশানুরূপ হয়নি মোটেও৷ তাই স্রেফ প্রতিশ্রুতিতে কাজ হবে না, যতক্ষণ না তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি৷

তবে বারাক ওবামার দিল্লি সফরকে আমি অন্যদের মতো প্রতীকী মনে করি না৷ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দু'দেশের কৌশলগত সম্পর্কের অভিঘাত এশিয়ায় তথা বিশ্বে পড়বে সন্দেহ নেই৷ ওবামার এবারের দিল্লি সফরে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির জট খুলেছে, যেটা ঝুলে ছিল পরমাণু দায়বদ্ধতা শর্তের জটিলতায়৷ দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে ভারত অবস্থান অটুট রেখে৷ ভারতের দাবি ছিল পরমাণু দুর্ঘটনা ঘটলে পরমাণু সরঞ্জাম সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে৷

Indien Barack Obama in Neu Delhi 25.01.2015

দু’জনের ব্যক্তিগত রসায়ন...

ওবামার বর্তমান সফরে স্থির হয় যে, এজন্য বিমা কোম্পানি তার দায় নেবে৷ মোদী সরকারের পক্ষে বেসরকারি পরমাণু চুক্তি কার্যকর করার পথে এটা একটা সদর্থক পদক্ষেপ৷ তবে এর পরেও শেষ কথা বলার সময় এখনো আসেনি৷ কিছু প্রক্রিয়াকরণ বাকি আছে, যেটা স্থির করবে পরমাণু সরঞ্জাম সরবরাহকারী কোম্পানি এবং ভারতের পরমাণু শক্তি সংস্থা৷ তারপরই হবে তা রূপায়ণের কাজ৷

ওয়াশিংটনের চোখে এক সময়ে যে মোদী ব্রাত্য ছিল, হালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ সেই মোদীকে আজ ওবামার নয়নের মনি করে তুলেছে৷ মোদী-ওবামার শরীরী ভাষা বলছে দুই নেতার ‘কেমিস্ট্রি' ভালো, যেমন, কূটনৈতিক প্রোটোকলের বাইরে গিয়ে ঘন ঘন আলিঙ্গন, করমর্দন, কাঁধে হাত রেখে কথা বলা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্রেফ বারাক বলে সম্বোধন করা যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী৷ তবে হ্যাঁ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সরকারি নীতির মধ্যে বিস্তর ফারাক৷ তবু বলবো, মার্কিন সমর্থন বিনা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের জমি শক্ত হবার নয়৷ মার্কিন সমর্থনেই ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার অবসান হয়৷ দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্যপদ যদি ভারত শেষ পর্যন্ত পায়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে অস্বীকার করা যাবে না৷ অবশ্য সেকথা বলার সময় এখনো আসেনি৷ পাশাপাশি রাশিয়ার কথাও মাথায় রাখতে হবে মোদীর৷ ভারতের প্রতিরক্ষার মৌলিক কাঠামো গড়ে উঠেছে মূলত রাশিয়ার সমরাস্ত্র প্রযুক্তির ভিত্তিতে৷ ওবামার দিল্লি আসার কিছু দিন আগে ঘুরে গেলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুটিন৷ তার পর পরই এলেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী৷ সেই বস্তাপচা কথা, ভারত-রাশিয়ার মৈত্রি অবিচ্ছেদ্য, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ৷ কাজেই ভারতকে ট্রাপিজের খেলার মতো সাবধানে পা ফেলতে হবে৷

Indien Barack Obama in Neu Delhi 25.01.2015

...নাকি খুব ভালো!

মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনি রাতারাতি ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রোথিত করা সম্ভব নয়৷ এছাড়াও আছে চীনের প্রভাব প্রতিপত্তির মোকাবিলা প্রশ্ন৷ রাশিয়া-চীন-পাকিস্তান অক্ষরেখায় ভারতের অবস্থানকে মজবুত করতে মার্কিন সহযোগিতার দাম আছে৷ অন্যদিকে, ভাতের বিশাল বাজার এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র যে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, সেটা যে কথার কথা নয়, ওবামার সফরের পর তা হলফ করে বলা যায়৷ সন্ত্রাস নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি কথাও খরচ করেননি ওবামা, অন্তত সরকারিভাবে, সেটা অবশ্যই দিল্লির মাথা ব্যথার কারণ৷ কাজেই ওবামার সফরের নীট ফল তখনই পরিমাপ করা সম্ভব হবে যখন এর বাস্তব সুফল চোখে পড়বে৷ রূপায়নযোগ্যতাই হবে মোদী-ওবামা শীর্ষ বৈঠকের সাফল্যের আসল চাবিকাঠি৷ আর তার জন্য আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয় আমার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়