1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মোদী ইস্যুতে এবার বিজেপি জোটে ভাঙন

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আগামী নির্বাচনে এক নম্বর জায়গা দেয়া নিয়ে বিজেপির বর্ষিয়ান নেতা এল.কে আডবানির সঙ্গে সংঘাত কাটতে না কাটতেই, দলের সামনে আরেক সমস্যা৷

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক দল জেডি (ইউ) জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে৷

আডবানি-মোদী ইস্যুতে বিজেপি দ্বিধাবিভক্ত৷ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এক নম্বর করে আগামী সাধারণ নির্বাচনে নামার দলীয় সিদ্ধান্তে দলের প্রবীণতম নেতা লালকৃষ্ণ আডবানির ইস্তফা-বিতর্কের জট ছাড়ানোর পরই, ঐ একই ইস্যুতে সংযুক্ত জনতা দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আতাঁত (এনডিএ) থেকে বেরিয়ে যাবার হুমকি দিয়েছে৷ বলেছে, মোদীকে নির্বাচনী প্রচারে সামনে রাখলে সংযুক্ত জনতা দলের পক্ষে বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে নামা সম্ভব হবে না৷

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিহারের শাসক দল সংযুক্ত জনতা দলের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার দলের কর্মসমিতির বৈঠক ডেকেছেন এই সপ্তাহের শেষে৷ নীতীশের মোদী বিরোধিতার কারণ কী? রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে তাঁর জোট সরকার থাকা সত্ত্বেও হালে বিহারের মহারাজগঞ্জ সংসদীয় কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে বিজেপি নীতীশের দলকে সমর্থন করেনি এমনটাই ধারণা৷ ফলে সংযুক্ত জনতাদল প্রার্থী হেরে যায় লালুপ্রসাদের আরজেডি দলের কাছে৷

তাই নীতীশ কুমারের সামনে বিকল্প এখন দুটি৷ এনডিএ ছাড়লে রাজ্যে উচ্চবর্ণের ভোট হাতছাড়া হতে পারে৷ না ছাড়লে মুসলিম ভোট হারাবার আশঙ্কা৷ সর্বোপরি নীতীশ কুমারের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি নষ্ট হবার ভয়৷ তবে বিহারে ক্ষমতা হারাবার ভয় নেই৷ কারণ ২৪৩টি আসনের বিধানসভায় সংযুক্ত জনতা দলের বিধায়ক ১১৮জন৷ চারজন নির্দল বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে পারলে মেয়াদ পূর্ণ করতে অসুবিধা হবার কথা নয় নীতীশ কুমারের৷

এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাবি উঠেছে ফেডারেল ফ্রন্ট নামে অ-কংগ্রেস, অ-বিজেপি আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে তৃতীয় বিকল্প গঠনের৷ ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ তাতে সাড়া দিয়েছেন ওড়িষার বিজু জনতা দলের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এবং সংযুক্ত জনতা দলের নীতীশ কুমার উভয়েই৷ তাঁদের মতে, দুর্নীতিতে জেরবার এবং প্রশাসনিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত কেন্দ্রের কংগ্রেস-জোট সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষ বীতশ্রদ্ধ৷ অন্যদিকে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গেও মানুষ আপোষ করতে রাজি নয়৷ তাই এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে এই ফেডারেল ফ্রন্ট করা জরুরি৷ ২০১৪ সালের সংসদীয় নির্বাচনের পর যাতে তারা সরকার গঠন করতে পারে৷

ফেডারেল ফ্রন্ট গঠন করা আদৌ সম্ভব কিনা – তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে৷ বামদলের মতে এই প্রস্তাব অবাস্তব৷ আগে অনেকবার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু কোনোবারেই তা সফল হয়নি৷ এবারেও যে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷ তাঁদের মতে, আঞ্চলিক দলগুলির অ্যাজেন্ডা পৃথক৷ অতীতে কেন্দ্রের মনমোহন সিং সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবে বলে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কথা দিয়েও মুলায়েম সিং-এর সমাজবাদী পার্টি তা রাখেনি৷ এছাড়া, দক্ষিণের জয়ললিতার পার্টির মতিগতি দু'দিনেই পাল্টে যেতে পারে৷ তার ওপর মায়াবতির বহুজন সমাজ পার্টির ওপর ভরসা রাখাও কঠিন৷ কেন্দ্রকে পাশে রাখতে হবে নানা কারণে৷ দেখা দিতে পারে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সংঘাত৷ সেক্ষেত্রে স্থায়ী সরকার গঠন দূর অস্ত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়