1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

মোদীর সর্ষের মধ্যেই ভূত

ভারতের কালো টাকার ভূত তাড়াতে গিয়ে নতুন এক কালো অর্থনীতির জন্ম হচ্ছে, যার সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার যোগসাজশ বেশ স্পষ্ট! কারণ এরই মধ্যে দেশের সর্বত্র নাকি লক্ষ কোটি টাকার নতুন নোটের মজুত ধরা পড়ছে৷

বাজার থেকে কালো টাকা সাফ করার জন্য বড় অঙ্কের পুরনো নোট বাতিল করার নিদান দিল কেন্দ্র সরকার৷ পরে সীমিত অঙ্কের পুরনো নোট ব্যাংক থেকে বদলে নেওয়ার ‌জন্য সময় দেওয়া হলো কিছুদিন৷ তারপর বাকি নোট সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য আরও কিছুদিন সময় বরাদ্দ হয়েছে৷ কিন্তু সর্ষের মধ্যেই ভূত!‌ দেশের সর্বত্র লক্ষ কোটি টাকার নতুন নোটের মজুত ধরা পড়ছে৷ পুরনো নোট বাতিল হওয়ার পর এক মাসও গেল না, এরই মধ্যে৷ অত পরিমাণ নতুন নোট ব্যাংকের যোগসাজশ ছাড়া জোগাড় করা সম্ভব নয়৷ যে কারণে বুধবার থেকে ব্যাংকে ব্যাংকে হানা দিতে শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেশ কিছু আমলা, ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েও নতুন ২০০০ টাকার নোটের বড় মজুতের খোঁজ পাচ্ছে তারা৷ তার সূত্র ধরেই ব্যাংকে হানা দেওয়া হচ্ছে, গ্রেপ্তার হচ্ছেন এই অবৈধ নোট বদলের সঙ্গে জড়িত আধিকারিকরা৷

এরই মধ্যে, মঙ্গলবার কলকাতার পূর্ব উপকণ্ঠে একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার হলো রানিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের কয়েকজন কয়লা মাফিয়া এবং স্থানীয় এক বিজেপি নেতা৷ মনীশ শর্মা নামে ওই নবীন নেতা গত বিধানসভা ভোটেই রানিগঞ্জ থেকে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়েছিল৷ এদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৩ লক্ষ টাকা, সব নতুন ২০০০ টাকার নোটে৷ যদিও গ্রেপ্তারির পরই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব তড়িঘনি বিবৃতি দিয়ে মনীশ শর্মার সঙ্গে দলের সম্পর্ক অস্বীকার করেছে৷ দাবি করা হয়েছে যে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়েই মনীশকে দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল৷ কিন্তু ঘটনা হলো, রানিগঞ্জে এখনও সে বিজেপি নেতা হিসেবেই পরিচিত৷ এবং ৩৩ লক্ষ টাকার নতুন নোট তার সঙ্গী কয়লা মাফিয়াদের কাছে কীভাবে এলো, কোন প্রভাব খাটিয়ে, বা ব্যাংককর্মীদের সঙ্গে কোন গোপন যোগসাজশ খাটিয়ে, তা এখনও পরিষ্কার নয়৷

এখানেই শেষ নয়, ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টিভি ভাষণে বড় অঙ্কের পুরনো নোট বাতিল করার ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্য বিজেপি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক কোটি টাকা জমা করেছিল বলে জানা যায়৷ বিজেপি-‌পন্থিদের দাবি ছিল, যেহেতু তাদের সব টাকাই বৈধ, নিয়ম মেনেই ব্যাংকে জমা করা হয়৷ ঘোষণার দিন টাকা জমা করাটা নেহাতই কাকতালীয়৷ কিন্তু এবার আরও বড় বিনিয়োগের খবর, যা তুলে ধরেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ পুরনো নোট বাতিল হওয়ার আগে কোটি কোটি টাকা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জায়গায় জমি কিনেছিল বিজেপি৷ জমানো পুঁজির এমন সুপরিকল্পিত ব্যবহার এবং তার পরেই মোদী সরকারের কালো টাকা সাফাই অভিযানও কাকতালীয় কিনা, সে প্রশ্নও উঠছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়