1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মোদী সরকারের প্রশংসা মুখে নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দুদেশের সম্পর্কের নয়াবিন্যাস ঘটানোর বার্তা দিতে নতুন দিল্লি সফরে এসেছেন৷ বৃহস্পতিবার পঞ্চম ভারত-মার্কিন কৌশলগত সহযোগিতা সংলাপে যোগ দেবেন তিনি৷

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই হবে দুদেশের মধ্যে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক৷ ‘সবার সাথে, সবার বিকাশ' মোদীর এই নির্বাচনি মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড় আনতে ওবামা সরকারের বার্তা নিয়ে দিল্লিতে পা রাখলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি৷ বৃহস্পতিবার ৩১ জুলাই তিনি তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষ সুষমা স্বরাজের সঙ্গে মিলিত হবেন পঞ্চম ভারত-মার্কিন কৌশলগত সহযোগিতা সংলাপে৷ কেরির সঙ্গে এসেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি প্রিৎজকার এবং অন্যান্যরা৷

অ্যাজেন্ডার শীর্ষে আছে পরমাণু বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, বাজার উদারকরণ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভিসা নিয়ম শিথিল করা ইত্যাদি৷

ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে কেরি বলেছেন নতুন মোদী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নয়াবিন্যাস হবে একবিংশ শতাব্দিতে দৃষ্টান্তমূলক৷ মোদীর অসাধারণ সামাজিক তথা রাজনৈতিক দর্শন হবে নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঞ্জীবনি শক্তি৷ অন্যতম বিশ্ব শক্তি হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে৷ ভারতের দ্রুত আর্থিক বিকাশে যুক্তরাষ্ট্র সব কিছু দিয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে, বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী৷

পাশাপাশি দুদেশের মধ্যে কিছু কণ্টকিত ইস্যু আছে যেটা চলে আসছে সাবেক মনমোহন সিং সরকারের আমল থেকে৷ যেমন বেসামরিক পরমাণু বাণিজ্য আইনে পরমাণু দায়বদ্ধতা অনুচ্ছেদ৷ তাতে আছে পরমাণু রিঅ্যাক্টর বা সাজসরঞ্জামে কোনো ত্রুটি থাকার কারণে যদি কোনো অঘটন হয় তারজন্য দায়ী থাকবে সরবরাহকারী কোম্পানি৷ মার্কিন কোম্পানিগুলি এই শর্ত মেনে নিতে রাজি নয়৷ যদিও দীর্ঘ আলোচনার পর ফ্রান্স ও রাশিয়া তা মেনে নিয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রকেও তা মেনে নেবার জন্য চাপ দেয়া হবে৷

খাদ্য সুরক্ষার প্রশ্নে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নতুন চুক্তিতে সই করা থেকে ভারত সরে এসেছে, এই কারণে যে গণবণ্টনের জন্য শস্য মজুত করা এবং সেই লক্ষ্যে খাদ্যে ভরতুকি নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নতুন চুক্তিতে স্থায়ী সমাধান নেই৷ সেটা না থাকা পর্যন্ত ভারত তাতে সই করবে না এবং এরজন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়া উচিত নয় বলে মনে করে ভারত৷ ভারতের এই অবস্থানকে একগুঁয়েমি বলে অভিহিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ভারত৷ শুধু তাই নয়, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার সংস্কারেও বাধা দিচ্ছে ভারত৷ কৌশলগত সংলাপ প্রসঙ্গে এইসব ইস্যুগুলিও উঠবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল৷ সেদিক থেকে মোদী সরকারের বিদেশ নীতিতে একদিকে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলা বা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, এই দুইয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখার প্রশ্ন আছে৷ আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর এই অঞ্চলে সন্ত্রাস মোকাবিলার এক নতুন যৌথ কৌশল তৈরি করতে দিল্লি চাপ দেবে ওয়াশিংটনকে৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা এক গুরুত্বপূর্ণ দিক৷

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন৷ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন সমরাস্ত্র বিক্রির প্রসঙ্গ উঠতে পারে৷ যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ক্ষেপণাস্ত্র, জঙ্গি হেলিকপ্টার এবং হাল্কা কামান বিক্রি করতে আগ্রহী৷ সেজন্য কেরির সফরের পরই ভারতে আসছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হাগেল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়