1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘‘মোদীর ‘ক্লিন ইন্ডিয়া ক্যাম্পেন’ কার্যকর হওয়া উচিত’’

নতুন ভারত গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতবর্ষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন৷ এর অর্থ হলো, ঘরের শৌচাগার থেকে শুরু করে বড়-ছোট সব রাস্তাঘাট হবে স্বাস্থ্যকর আর জঞ্জালমুক্ত৷

সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে বক্তৃতায় থেমে না গিয়ে নিজেই ঝাড়ু হাতে মাঠে নেমেছিলেন মোদী৷ সম্প্রতি লাখো স্কুল শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ এই পরিচ্ছন্ন অভিযানে যোগ দেয়৷ পাঁচ বছরের এই কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্লিন ইন্ডিয়া ক্যাম্পেন' বা ‘পরিচ্ছন্ন ভারত অভিযান', যা ২রা অক্টোবর ভারতের কিংবদন্তি নেতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসে শুরু করা হয়৷ যেহেতু সেদিন রাষ্ট্রীয় ছুটি থাকে, তাই দেশটির ৪০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কয়েক লাখ শিক্ষার্থী ঝাড়ু নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে৷

মোদী তাঁর সরকারের কাজকর্মের মধ্যে জনস্বাস্থ্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ বিশেষ করে প্রতিটি স্কুলে শৌচাগার স্খাপনের বিষয়টিতে জোড় দিয়েছেন তিনি৷ নতুন দিল্লি ভিত্তিক সুলভ ইন্টারন্যাশনাল স্যোশাল সার্ভিস অর্গানাইজেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা বিন্দেশ্বর পাঠক ডয়চে ভেলেকে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘এই প্রচারণা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেই আমি মনে করি৷ তবে এটাকে কার্যকর করতে আরো দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে৷''

Dr. Bindeshwar Pathak Porträt

সুলভ ইন্টারন্যাশনাল স্যোশাল সার্ভিস অর্গানাইজেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা বিন্দেশ্বর পাঠক

ডয়চে ভেলে: নরেদ্র মোদীর ‘পরিচ্ছন্ন ভারত অভিযান'-এর মূল লক্ষ্য কি?

বিন্দেশ্বর পাঠক: এই অভিযানের মূল প্রেরণা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ৷ মহাত্মা গান্ধী ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে প্রথম গুরুত্ব দিয়েছিলেন পরিচ্ছন্নতাকে৷ স্বাধীনতা অর্জন কিন্তু ছিল এর পরের প্রাধান্য৷ অথচ গান্ধীজী নিহত হওয়ার পর থেকে এই অভিযান বন্ধ হয়ে যায়৷

ভারতের কিছু মানুষ নিজস্ব পরিচ্ছন্নতার কথা ভাবলেও জনস্বাস্থ্যের পরিচ্ছন্নতার কথা ভাবে না৷ রাস্তা ঘাটে, বাড়ির সামনে, রাস্তার উপর যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলে, রাস্তায় স্তূপ করে রাখে৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী মানুষের এই আচরণে পরিবর্তন আনার কথা ভেবেছেন আর সে কারণেই এই অভিযান, যার শুরুটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছে৷ নিজ হাতে তার ঝাড়ু তুলে নেয়া দেশের বেশিরভাগ মানুষকেই অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে৷

ভারতের পরিচ্ছন্নতা সমস্যা কতটা ভয়াবহ, বিশেষ করে শহরগুলোতে?

শহরগুলোর অবস্থা বেশ খারাপ৷ কারণ দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ এখনো খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে৷ এখনও অনেক জায়গায় মানুষের মল পরিষ্কার করে অচ্ছুত শ্রেণির মানুষ৷

Müll am Strand Bombay

রাস্তার উপর যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলে, রাস্তায় স্তূপ করে রাখে

গণশৌচারগারগুলোর অবস্থা খুবই ভয়াবহ, এমনকি সরকারি ভবনগুলোতেও শৌচাগার ভীষণ নোংরা৷ এছাড়া এসব জায়গায় যেখানে সেখানে ময়লা পড়ে থাকে৷ ফলে মোদীর এই প্রচারাভিযানের ফলে মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হবে৷

ভারতে আবর্জনা সমস্যার পেছনে মূল কারণটা কি?

বেশ কিছু কারণ রয়েছে৷ এর মধ্যে প্রথম হলো – ভারতের কর্তৃপক্ষের পরিচ্ছন্নতার দিকে কোনো নজর নেই৷ দ্বিতীয়ত পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য স্থানীয় কর্মকর্তাদের যথেষ্ট অর্থ দেয়া হয় না৷ এর আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে এ ব্যাপারে ট্যাক্স নেয়ার প্রচলন থাকলেও, পরে তা উঠিয়ে দেয়ায় এ ব্যাপারে অর্থ খরচ করতে চায় না কর্তৃপক্ষ৷

প্রচারাভিয়ানের বর্তমান অবস্থা কী?

ব্যাপারটা হলো নরেন্দ্র মোদী নিজ হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়ে জনগণকে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, খোলা জায়গা বা ‘পাবলিক প্লেস' পরিষ্কার রাখা প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব৷ এর আগে কোনো সরকারি কর্মকর্তা এ ধরনের উদ্যোগ নেননি৷ কিন্তু সেই কর্মকর্তারাও বাধ্য হয়েছেন ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামতে৷ এমনকি প্রথমবারের মতো নিজেদের অফিস নিজেরাই পরিষ্কার করেছেন তারা৷ এই কর্মকর্তাদের কিছু জোর করতে হয়নি৷ যখন তাঁরা দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এ কাজে নেমেছেন তখন তাঁরাও স্বেচ্ছায় এ কাজে নেমে পড়েছেন৷

আপনার কি মনে হয় এই অভিযানের ফলে আসলেই বর্তমান সমস্যাগুলোর সমাধান হবে?

এটা কেবল একটি প্রচারাভিযান এবং এটা এখানেই শেষ নয়৷ এখন প্রয়োজন এটাকে কার্যে পরিণত করা৷ কর্তৃপক্ষকেই এ ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে৷ পাবলিক প্লেস যাতে সবাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে সেটা দেখার এবং আর্বজনা ঠিকভাবে সরানো হচ্ছে এবং পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কিনা – এ সব তাদেরই তত্ত্বাবধান করতে হবে৷ আবর্জনা রিসাইক্লিং-এর ব্যাপারটাও গুরুত্বের সাথে তত্ত্বাবধান করা দরকার তাদের৷

২০১৯ সালে হবে মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী৷ সে দিনটি সামনে রেখে পাঁচ বছরব্যাপী এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়