1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মেয়েরা অধিকার নিয়ে সচেতন হচ্ছে

বাংলাদেশে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কিশোরীরা দিন দিন অধিকার সচেতন হয়ে উঠছে৷ অধিকার আদায়েও তারা সক্রিয় হচ্ছে৷ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এক্ষেত্রে মেয়েদের সহায়তা করছে৷

রংপুরের সায়মা আক্তারকে (১৬) তার বাবা ১১ বছর বয়সে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেয়৷ নিরাপত্তার নামে তাকে এক বৃদ্ধের সঙ্গে তখন বিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন তার বাবা৷ এর আগেও সায়মার বয়স যখন পাঁচ বছর ছিল, তখন থেকেই তাকে পর্দা প্রথায় অভ্যস্ত করা হয়, পরিয়ে দেয়া হয় বোরকা৷ কিছুটা ভীত আর দ্বিধান্বিত সায়মা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ করেছে৷

ইউনিসেফের অর্থায়নে ‘কিশোর অভিযান' নামের একটি সংগঠন ঐ এলাকায় কিশোর-কিশোরীদের লিঙ্গবৈষম্য, জেন্ডার, বাল্যবিবাহ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও শিশু শ্রমসহ আরো কিছু বিষয়ের উপর শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে৷ তাই সায়মা এখন জানে তার অধিকার সম্পর্কে৷ জেন্ডার নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধ্যান ধারণা পরিবর্তন করে দিতে চায় সে৷

কিশোর অভিযান সংস্থাটি ‘ইন্টারএ্যাকটিভ পপুলার থিয়েটার' পদ্ধতিতে নারীদের অধিকার সচেতন করার কাজ করছে৷ জনপ্রিয় লোককথা, ঐতিহ্যবাহী গান, নাচ আর নাটকের মাধ্যমে তারা স্থানীয় পর্যায়ের নানা বিষয় সেখানকার মানুষের কাছে তুলে ধরছে৷ এছাড়া সমাজের নীতি নির্ধারক এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেও তা তুলে ধরা হচ্ছে৷

রংপুরের ‘সেন্টার ফর ম্যাস এডুকেশন ইন সায়েন্স' অভিনয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়৷ তারা নারীদের কাজে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে৷

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা পরিষদের হিসাব অনুযায়ী ২০১১ সালে বাংলাদেশে যৌতুক সংক্রান্ত নির্যাতনে ৩৩০ জন নারী নিহত হয়েছেন৷ তার আগের বছর নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন৷ আর ২০১৩ সালে এধরনের ঘটনা ঘটেছে ৪৩৯টি৷

সেন্টার ফর ম্যাস এডুকেশন ইন সায়েন্স-এর মোহাম্মদ রাশেদ মনে করেন সবার অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে এই প্রচার প্রচারণা বেশ কাজে আসছে৷ এর মাধ্যমে অনেক দু:খজনক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে৷

ইউনিসেফ মনে করে এর ইতিবাচক ফল এরইমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে৷ দেশের ৬ লাখ অল্পবয়েসি, যাদের মধ্যে ৬০ ভাগই কিশোরী, এখন বিয়ের সঠিক বয়স, শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব সম্পর্কে সরাসরি জানতে পেরেছে৷

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উন্নয়ন অন্বেষণ' তাদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক জরিপে দেখতে পেয়েছে, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে যৌতুক প্রথা কমে আসছে৷

আর নারী শিক্ষার হার বাড়ানোর নীতি-কৌশলের কারণেও মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার বেড়েছে৷ তবে শহরে আর গ্রামে এখনো নারী শিক্ষায় বৈষম্য আছে৷ ৯৭ ভাগ মেয়ে এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, যা উন্নয়নশীল বিশ্বে সর্বোচ্চ৷

প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষায়ও অগ্রগতি লক্ষ্যণীয়৷ এখন গ্রামে ২৩ ভাগ মা সন্তান প্রসব করেন প্রশিক্ষিত ধাত্রীর উপস্থিতিতে৷ নব্বইয়ের দশকে যা ছিল মাত্র শতকরা পাঁচ ভাগ৷ ১৯৭৫ সালে মাত্র ৮ ভাগ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন৷ ২০১১ সালে এই হার দাঁড়ায় শতকরা ৬২ ভাগে৷

এই উন্নয়নের পরও বাংলাদেশের নারীরা এখনো পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে আছে৷ ছেলে শিশুর চেয়ে কন্যাশিশুর মৃত্যুর হার এখনো বেশি৷ উন্নয়ন অন্বেষণ এর ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী ১,০০০ নবজাতকের মধ্যে কন্যা শিশু মারা যায় ২০টি৷ আর ছেলে শিশু ১৬টি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়