1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ বন্ধে পুরুষের ভূমিকা মুখ্য

মেয়েরা যাতে সহবাস উপভোগ করতে না পারে, যাতে যৌনসুখ না পায়, আবার কখনও নারীর সতীত্ব রক্ষার নামে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ করা হয়৷ এ প্রথা বন্ধে বিশ্বব্যাপী একটি ‘ক্যাম্পেইন' শুরু করেছে জাতিসংঘ৷

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বৃহস্পতিবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে এই ‘ক্যাম্পেইন' বা প্রচারের উদ্বোধন করেন৷ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই প্রজন্মেই এই ধারা বা রীতি বন্ধ করতে হবে এবং এই অভ্যাসের যেন এখানেই সমাপ্তি হয়৷ কেননা এর ফলে নারীদের জীবনে নরকের অশান্তি নেমে আসে৷

তিনি বলেন, ‘‘সতীত্বের প্রমাণ হিসেবে মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ রোধ করতে পুরুষদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে এবং যাঁরা বন্ধ করবেন বা করতে সাহায্য করবেন, তাঁদের প্রশংসা করতে হবে৷''

Symbolbild weibliche Genitalverstümmelung Beschneidung

অনেকক্ষেত্রেই একেবারে সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যৌনাঙ্গচ্ছেদ করার সময়

সাধারণত ৪ থেকে ১৪ বছরের মেয়েদের ওপর ‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন’ এফজিএম বা যৌনাঙ্গচ্ছেদ করা হয়ে থাকে৷ তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বয়স আরো কম হতে পারে৷ বিয়ের আগে বা প্রথম সন্তান জন্মের ঠিক আগেও কখনো কখনো মেয়েদের ওপর এফজিএম প্রয়োগ করা হয়৷ বেশিরভাগ সময়ই চেতনানাশক ব্যবহার করা হয় না৷ নারীদের ভগাঙ্কুর বা যৌনাঙ্গের অনেকটাই কেটে ফেলা হয়, যার ফলে প্রচণ্ড ব্যথা এবং অনেক রক্তপাত হয়৷ অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ২৯টি দেশের সাড়ে ১২ কোটি নারী যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার৷ সেই প্রতিবেদনে এই রীতিকে নারীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানানো হয়েছে৷

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যৌনাঙ্গচ্ছেদের শিকার এক নারী জানান, ‘‘এটা কোনো সংস্কৃতি নয়, এটা মানুষের অধিকার হরণ৷ এর ফলে নারীদের স্বপ্ন, আশা, জীবন – সব তছনছ হয়ে যায়৷'' আর এক নারী সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘‘যেভাবে যৌনাঙ্গ কাটা হয়, তাতে ভয়াবহ ব্যথা লাগে৷ আমি চাই না আমার মতো অন্য মেয়েরা এত কষ্ট পাক৷'' কেবল নাইরোবি না, ইথিওপিয়া, সোমালিয়াতেও এই ‘ক্যাম্পেইন' নিয়ে সফর করবেন বান কি-মুন৷ বলা বাহুল্য, এ সব এলাকায় সবচেয়ে বেশি নারীদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ করা হয়৷

ইউনিসেফ-এর মতে, মেয়েদের যৌনাঙ্গচ্ছেদের কারণে তাদের শরীরে তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি নানান সমস্যা দেখা দেয়৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অমানবিক কাজটি করানো হয় অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা৷ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর উপায়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খর্ব করা হচ্ছে মানবাধিকার৷ লঙ্ঘিত হচ্ছে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার৷ যে কোনো ধরনের এফজিএম করলেই শারীরের মারাত্মক ক্ষতি হয় এবং একবার তা হলে শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব৷ এর ফলে মেয়েটি বিভিন্ন ধরনের হীনমন্যতায় ভোগে৷ আর শারীরিকভাবে যে ক্ষতি হয়, তা চূড়ান্ত রূপ নেয় গর্ভাবস্থায়৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন