1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মেয়েকে বোকো হারামের হাতে তুলে দিয়েছে বাবা!

নাইজেরিয়ার ১৩ বছরের এক মেয়ে বলেছে, তার বাবা তাকে বোকো হারাম জঙ্গিদের হাতে তুলে দিয়েছিল৷ নাইজেরিয়া পুলিশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সে এই তথ্য জানায়৷

দেশটির উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কানু থেকে বিস্ফোরক বহনের দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ডিসেম্বরের ১০ তারিখে কানুর একটি পোশাক মার্কেটে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় তিন তরুণী৷ এর মধ্যে একজন ছিল ১৩ বছরের এই মেয়েটি৷ তবে বাকি দু'জন তাদের বোমা বিস্ফোরিত করলেও এই মেয়েটি সেটা করেনি৷ ঐ হামলায় চারজন নিহত হয়েছিল৷ আর আহত হয়েছিল এই মেয়েসহ সাতজন৷

আহত অবস্থায় মেয়েটিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ এরপর বুধবার তাকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করায়৷ মেয়েটি বলেছে, কানু শহরের পূর্ব পাশে বোকো হারামের যে শিবিরে তার বাবা তাকে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে সে অনেক মানুষকে জীবন্ত কবর দিতে দেখেছে৷

Nigeria Boko Haram Abubakar Shekau Archiv

বোকো হারাম নেতা আবুবকর শেকাউ

মেয়েটি জানিয়েছে, জঙ্গিরা তার কাছে জানতে চেয়েছিল সে স্বর্গে যেতে চায় কিনা৷ উত্তরে ‘হ্যাঁ' বললে জঙ্গিরা তাকে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হতে বলে৷ কিন্তু মেয়েটি এভাবে মরতে রাজি না হওয়ায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়৷ এরপর তাকে আত্মঘাতী হামলার পোশাক পরিয়ে হামলা করতে পাঠানো হয়৷

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা আদেনরেলে শিনাবা বলেছেন, আহত অবস্থায় মেয়েটিকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ মেয়েটির বাবাকে পুলিশ এখনও খুঁজে পায়নি বলেও জানিয়েছেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা৷ মেয়েটি বলছে, তার বাবা বোকো হারামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট৷

গত পাঁচ বছর ধরে নাইজেরিয়ায় একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বোকো হারাম৷ তাদের হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে৷ ঘর ছাড়া হয়েছে ১৬ লক্ষের বেশি মানুষ৷

বার্তা সংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, ২০১৪ সালে বোকো হারামের বিভিন্ন হামলায় চার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে৷ এছাড়া এপ্রিল মাসে তারা একটি স্কুল থেকে ২৭৬ জন ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়৷ এর মধ্যে কেউ কেউ পালাতে সমর্থ হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ২১৯ জন৷ বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বোকা হারামের সাম্প্রতিক সময়ে চালানো আত্নঘাতী হামলায় কিশোরী ও তরুণীদের বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে৷ অপহৃত ছাত্রীদেরই এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আশংকা অনেকের৷

জেডএইচ/ডিজি (এপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন