1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

মেয়রের প্রধান চ্যালেঞ্জ যখন যৌনপল্লী

ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া-র মেয়র ত্রি রিসমাহারিনী৷ দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য জনপ্রিয়তা পেলেও একটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তিনি৷ আর তা হলো শহরের যৌনপল্লী উচ্ছেদ৷

default

ফাইল ছবি

৭০'এর দশকে সুরাবায়ায় গড়ে ওঠে ‘ডলি' নামের যৌনপল্লীটি৷ এটির অবস্থান সুরাবায়া শহরের ঠিক মধ্যেখানে৷ স্থানীয় এনজিও ইয়াইয়াসান আবদি আসিহ জানিয়েছে সেখানে অন্তত ৬০টি বাড়ি রয়েছে এবং অন্তত শতাধিক যৌনকর্মী কাজ করে৷ এরই প্রতিবেশী এলাকা জারাকেও এক হাজারের বেশি যৌনকর্মী ছোট ছোট যৌন পল্লীতে কাজ করে৷

এই এলাকা দুটো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ‘রেড লাইট' এলাকা হিসেবে পরিচিত৷ অথচ মুসলিম অধ্যুষিত ইন্দোনেশিয়ার ঐ এলাকাটিতে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল রয়েছে৷ আগের সব মেয়র নির্বাচনের আগে যৌনপল্লীগুলো উচ্ছেদের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় আসার পর তা কার্যকর করেনি৷

৫২ বছর বয়সি রিসমাহারিনী ২০১০ সালে মেয়র নির্বাচিত হন৷ পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ফলে এরই মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি৷ রিসমাহারিনী বিশ্বাস করেন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সক্ষম৷ কেননা এরই মধ্যে ঐ এলাকার তিনটি ছোট যৌনপল্লী বন্ধ করেছেন তিনি এবং ডলি-র সব ধরনের যৌনব্যবসা বন্ধের জন্য এ বছরের ১৯শে জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন৷ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, ‘‘ডলি বন্ধ করা খুব চ্যালেঞ্জের কাজ এবং আমি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চাই৷''

২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৬৫০ যৌনকর্মীকে সুরাবায়া সরকার রান্না শেখা, পার্লার ও অন্যান্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাতে তারা ঐ পেশা ছেড়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারে৷ ঐ ব্যবসা পুরোপুরি ছেড়ে যাতে অন্য কোন ব্যবসা শুরু করতে পারে তাই অনেককে ৩০ লাখ রুপিয়া করে দেয়া হয়েছে৷

তবে ডলি-র এক যৌনকর্মী মিমি জানালেন, ঐ অর্থে কোনো ব্যবসা চালু করা সম্ভব নয়৷ তিনি একটি খাবারের দোকান দিতে চান এবং এজন্য তার প্রয়োজন ১০ কোটি রুপিয়া৷

প্রতি রাতে তাঁর কাছে ৭ থেকে ১০ জন কাস্টমার আসে এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ১১ ডলারের মত আয় হয় তার৷ এর থেকে যৌনপল্লীর মালিককে দিতে হয় অর্ধেক অর্থ৷ কিন্তু তারপরও তিনি এ ব্যবসা ছাড়তে রাজি নন৷ কেননা তার একটি ৬ বছর বয়সি মেয়ে আছে, যে নানা-নানীর কাছে বড় হচ্ছে এবং তার ভরণপোষণের জন্য যে অর্থ পাচ্ছে, এই ব্যবসা ছেড়ে দিলে তা পাবে কিনা সেই ভরসা নেই৷ মিমি-র মত আরো অনেক যৌনকর্মীর একই বক্তব্য৷

এনজিও কর্মী লিলিক সুলিসটিওয়াতি জানালেন, এ সব যৌনপল্লীর কর্মীদের স্থানীয় ক্লিনিকে মাসে একবার রুটিন স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়৷ কিন্তু কয়েকটি যৌন পল্লী বন্ধ করে দেয়ায় এদের অনেকেই এখন হোটেলে বা গাড়িতে যৌন ব্যবসা করে, যার ফলে এইচআইভি-সহ অনেক রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কেননা এরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় না৷

রিসমাহারিনী বলেছেন, ‘‘একজন নেতা হিসেবে এই যৌনকর্মীদের কাজকে আমি ঘৃণার চোখে দেখি না৷ আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হল যৌনকর্মীদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ৷ কারণ তারা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার৷'' তিনি বলেন, তার সরকার এখন নজর দিচ্ছে যাতে হোটেল ও গাড়িতে বিনামূল্যে জন্মনিরোধীকরণ ওষুধ ও কনডমের ব্যবস্থা রাখা হয়৷ সেইসাথে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি ৷

এপিবি/এসবি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন