1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

‘মেঘারণ্য’

কুয়াশার বাষ্পে যে পানি থাকে, শুধু তা থেকে যে অরণ্য বেঁচে থাকে, তারই নাম ক্লাউড ফরেস্ট বা মেঘারণ্য৷ মেক্সিকোর তাকানা আগ্নেয়গিরি মাথার উপর এই ধরণের একটি মেঘারণ্য আছে, যা এখন সেখানকার চাষিদের কল্যাণে সুরক্ষিত৷

default

কোস্টারিকার একটি মেঘারণ্য

হাবিয়ের রামিরেস যখন আগ্নেয়গিরির মাথায় বসে থাকেন, তখন তিনি কখনো-সখনো ভাবেন, মানুষজন এই তাকানা আগ্নেয়গিরি সম্পর্কে কত রকম কাহিনি শোনায়: তাকানা নাকি একটি সুপ্ত ড্র্যাগন৷ বাকিটা কিন্তু রূপকথা নয়৷ রোজই কুয়াশা এসে পাহাড়টিকে ঢেকে দেয়৷ সেই কুয়াশার জল আটকে থাকে গাছের ডালে-পাতায়৷ ফলে সৃষ্টি হয় এক অভিনব পরিবেশ, যার নাম ক্লাউড ফরেস্ট বা মেঘারণ্য

রামিরেস বলেন: ‘‘বিভিন্ন প্রজাতির সহাবস্থান হলো এখানকার জীববৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্য৷ জন্তু-জানোয়ার থেকে শুরু করে ছত্রাক, জীবাণু, উদ্ভিদ, পাখি – সব প্রজাতির এক অদ্ভূত সংমিশ্রণ৷'' উদ্ভিদ ও গাছগুলো পাহাড়ের ঢালে মাটি ধরে রাখে এবং বাতাসকেও আর্দ্র রাখে৷ ফরেস্ট ইঞ্জিনিয়ার রামিরেস বিশ্বের বৃহত্তম প্রকৃতি সুরক্ষা সংগঠন আইইউসিএন-এর হয়ে কাজ করেন৷

সেই কাজের সূত্রেই তাঁকে মাসে বেশ কয়েকবার তাকানা আগ্নেয়গিরির উপর চড়তে হয়৷ আজ তিনি একদল স্থানীয় কৃষিজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এসেছেন৷

চাষিদের পাহাড়ের উপর জমি আছে, যে জমি তাঁরা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন৷ কী কাজের জন্য তাঁরা সে জমি ব্যবহার করবেন, সেটা তাঁরা নিজেরাই ঠিক করবেন৷ চাষি ফ্রান্সিস্কো অরটিস বলেন: ‘‘প্রকৃতিই আমাদের সব, কেননা আমরা তা থেকে বেঁচে থাকি৷ সেই কারণে তাকে রক্ষা করাটা আমাদের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ৷'' অন্যান্য চাষিদের মতো ফ্রান্সিস্কো-ও ঠিক করেছেন যে, তিনি এই পাহাড়ে ভুট্টা কিংবা সীমের চাষ করবেন না৷ সেজন্য তিনি আইসিইউএন-এর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাবেন৷

সবাই মিলে তাঁরা নিজেদের জমির উপর পুরানো গাছের গুঁড়ি ও ডাল দিয়ে একটি ফায়ারওয়াল বা প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করছেন৷ এভাবে তাঁরা পাহাড়ের বৃক্ষশূন্য ঢালগুলিকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে চান৷ রামিরেস বলেন: ‘‘পানি যখন আসে, তখন তা পথে যা কিছু আছে, সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়: কাদা, মাটি, পাথর – সবই দুর্ধর্ষ গতিতে৷ এ সব কিছু প্রথমে কোনো বাধায় আটকা পড়ে, পরে জলের তোড়ে ভেসে যায়৷ ফলে উপত্যকার সব নদী কুল ছাপিয়ে যায়৷''

নদীর পানি আগে অনেক বেশি ঘোলাটে ছিল, কেননা আগ্নেয়গিরি থেকে পাতা, ডালপালা সবই জলে ভেসে নীচে আসতে৷ এখন যে নদীর পানি নির্মল, সেটা তাকানা-র চাষিদের ঐ ‘বাঁধের' কল্যাণে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক