1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মৃত স্বামীর সঙ্গে প্রতিদিনকার ‘সহজীবন’!

ক্যানসারের কাছে হার মেনে স্বামী গত হয়েছেন সাত বছর আগে৷ সবার চোখে তিনি মৃত৷ কিন্তু স্ত্রীর কাছে তিনি এখনো জীবিত৷ তাই স্বামীর মৃতদেহের সঙ্গেই বাস করেছেন তিনি গত সাত বছর৷ ঘটনার নায়িকা দক্ষিণ কোরিয়ার এক নারী ফার্মাসিস্ট৷

দক্ষিণ কোরিয়ার ওয়াইটিএন চ্যানেল প্রকাশ করার পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে খবরটি নিয়ে৷ পরিচয় গোপন রেখে এক ব্যক্তি গত ডিসেম্বরেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, সৌলের এক অ্যাপার্টমেন্টে এক ভদ্রমহিলা তাঁর মৃত স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন৷ পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করলেও খবরটি প্রকাশ করেনি৷ ওয়াইটিএন-এর খবরে জানানো হয়, ৪৭ বছর বয়সি ফার্মাসিস্ট চো-র স্বামী ক্যানসারে ভুগে ২০০৭ সালে মারা যান৷ কিন্তু চো তাঁর স্বামীর মৃতদেহের সৎকার না করে নিয়ে আসেন নিজের অ্যাপার্টমেন্টে৷ এরপর সাতটি বছর স্বামীকে কাছছাড়া করেননি চো!

নিজে ফার্মাসিস্ট হওয়ার সুবাদে চো জানেন কোন ওষুধের কার্যকারিতা কেমন৷ তাছাড়া নিজের একটা ওষুধের দোকানও আছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সৌলে৷ নিজের দোকানের ওষুধ আর ফার্মাসিস্ট হিসেবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মিশরীয়দের মতো ‘মমি' করে স্বামীর দেহটাকে নিজের ঘরেই রেখে দিয়েছিলেন চো৷ ঘটনাটা অবিশ্বাস্য, তবে বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে সৌলের পুলিশই এর সত্যতা স্বীকার করেছে৷ সাত বছর পরও মৃতদেহ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় দেখে পুলিশও অবাক৷ একেই বোধহয় বলে বিজ্ঞান! তাই বিস্ময় নিয়েই পুলিশের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘‘কীভাবে এটা সম্ভব হলো তা আমরা বুঝতে পারছি না৷''

তবে মৃতদেহ যে মমি করে দীর্ঘদিন রেখে দেয়া যায় এটা সবাই জানেন৷ এছাড়া ভালোবাসার টানে, কিংবা কুসংস্কারের জেরে ভারতে সদ্য বৈধব্য বরণ করা নারীদের মৃত স্বামীর সঙ্গে ‘সহমরণ'-এ যাবার দৃষ্টান্তও আছে ভুরি ভুরি৷ কিন্তু মৃত স্বামীর সঙ্গে ‘সহজীবন'-এর কথা কি শুনেছেন কখনো? দক্ষিণ কোরিয়ার এক নারী স্বামীর মৃত্যুর পরও তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ না মেনে বোধহয় নীরবেই জানালেন, ভালোবাসা বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, সংস্কার-কুসংস্কার, সামাজিক ভুল-শুদ্ধের বাছবিচার কিংবা লাভ-ক্ষতির হিসেব অনেক সময় একেবারেই মানে না৷

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করেছে সৌল পুলিশ৷ অভিযুক্ত নারীকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি৷ পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে মৃতদেহ সৎকার করার আইন লঙ্ঘনের অপরাধে তাঁর শাস্তি হতে পারে৷

এসিবি/ডিজি (এএফপি, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন