1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

মৃত্যু কী ? শিশুদের সে কথা জানালেন জার্মান মনোবিজ্ঞানী

মৃত্যু খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা৷ জীবনের সঙ্গে মৃত্যু ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ তবে মৃত্যু যেন শুধু বড়দের জন্য৷ ছোটদের এ বিষয়ে তেমন কিছু জানানো হয় না বা বলা হয় না৷ অবশ্য হালে এ ব্যাপারটা কিন্তু একদম বদলে গেছে

default

ছোট ছোট বাচ্চারা যখন প্রশ্ন করে বাবা-মায়েদের, ‘দাদু বা নানু কীভাবে মারা গেছে?' তখন বাবা-মায়েদের বিপদে পড়তে হয়৷ কারণ মৃত্যু কী, কেনই বা মৃত্যু আসে, বা মৃত্যু কেন স্বাভাবিক তা বোঝাতে হিমশিম খান তারা৷ সম্প্রতি এক জার্মান মনোবিজ্ঞানী বাচ্চাদের জন্য বিশেষ একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করেছেন৷ এই প্রোগ্রামে বাচ্চাদের মৃত্যু সম্পর্কে নানা বিষয় জানানো হয়, দেওয়া হয় নানা তথ্য৷

কোলোন শহরের অদূরেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ এই কোর্সের৷ কোর্সের মেয়াদ পাঁচ দিন৷ কোর্সের নাম ‘হসপিস মাখ্ট শুলে' অর্থাৎ যে মানুষটি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি তাঁর সঙ্গে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাটানো৷ সেই কোর্সে প্রতিদিনই বাচ্চাদের একবার করে জানানো হয় মৃত্যু হচ্ছে খুবই স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া৷ পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকে এর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে৷ কেউ মারা যেতে পারে রোগে ভুগে, কেউ দুর্ঘটনায়, কেউ আবার নিজের মৃত্যু নিজেই ডেকে আনতে পারে৷ যেভাবেই হোক না কেন মৃত্যু অবধারিত৷ বিভিন্ন ধরণের মেঘের রঙের মধ্যে দিয়ে বাচ্চাদের বোঝানো হয়েছে৷ বেঁচে থাকার অর্থ হল সাদা মেঘ৷ অসুস্থ মানে অন্ধকার এবং মৃত্যু মানে কালো মেঘ৷ এই হচ্ছে প্রধান তিনটি রঙ৷

Death Valley

এসব বাচ্চাকে বলা হয়েছিল পাঁচদিনে তারা কী দেখেছ, জেনেছে তা নিয়ে একটি লেখা জমা দিতে৷ কী লিখেছে তারা? একটি ছেলে জানাল, ‘‘আমার দাদা এখন বসবাস করছে কালো মেঘের মধ্যে৷ কারণ তিনি মারা গেছেন৷ আমি সাদা মেঘের মধ্যে কারণ এখানে আমার সব বন্ধু-বান্ধব আর খেলার সাথী রয়েছে৷''

একটি মেয়ে জানাল, ‘‘সাদা মেঘে আমি লিখেছি আমাদের স্কুলে একটি নতুন টয়লেট বসানো হয়েছে৷ স্কুলের বাগানে ফুল ফুটছে৷ আর অন্ধকার মেঘে আম্মুর কথা লিখেছি৷ কারণ আম্মু অসুস্থ৷''

মনোবিজ্ঞানী বেটিনা হাগেডর্ন ডুরেন শহরে গত তের বছর ধরে এ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন৷ হসপিস মাখ্ট শুলের কোর্সটি তিনিই চালু করেছেন ২০০৫ সালে৷ তিনি বলেন, এর মূল কারণ হল হঠাৎ করেই পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যুর খবর অথবা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই – এ ধরণের খবর মানুষ মেনে নিতে পারে না৷ অনেকে ভীষণভাবে ভেঙে পড়ে, অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে৷

বেটিনার কথায়, ‘‘মৃত্যু প্রসঙ্গে নিয়ে বাচ্চারা প্রশ্ন করলে বেশির ভাগ বাবা-মায়েরাই জানেন না, কী উত্তর দিতে হবে৷ তারা মনে করেন এ বিষয়ে বাচ্চাদের কিছু বলা ঠিক না৷ আমরা কিন্তু বাচ্চাদের সঙ্গে ভয়-ভীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলি৷ এমনকি জন্ম-মৃত্যুর নানা দিক নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করি, অনেক কিছু বুঝিয়ে দেই৷ মৃত্যু অবধারিত৷ প্রতিটি মানুষের জীবনে মৃত্যু একবার আসবেই৷ তাই খুবই স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুকে গ্রহণ করতে হবে৷''

২০০৮ সালে হসপিস মাখ্ট শুলে ব্যাপক পরিচিতি এবং সুনাম কুড়িয়েছে৷ জার্মানির একটি স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানি জানিয়েছে,‘এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য কর্মসূচী'৷ এ ধরণের স্বীকৃতিতে বেটিনা হাগেডর্ন গর্বিত৷ তিনি বলেন, ছোট ছোট বাচ্চাদের সবচেয়ে বেশি আদর করেন দাদা-দাদী এবং নানা-নানী৷ আর হঠাৎ করে যখন তারা মারা যান তখন এই শিশুরা বুঝতে পারে না, কী হচ্ছে বা কেন হচ্ছে৷ নিজের অভিজ্ঞতার কথা বললেন তিনি৷

Arafats Grab

বেটিনা জানান, ‘‘আমার ছোট ভাই খুবই অসুস্থ ছিল৷ অসুস্থ হওয়ার পর আমার বাব-মা ধরেই নিয়েছিলেন আমার ভাই আর বাঁচবে না৷ আমার বড় ভাই এবং আমাকে তারা কিছুই বলেননি৷ আমরা দুজন হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম৷ যখন আমার বাবা-মা বের হয়ে আসেন আমি প্রচন্ড দুর্বল, ভীষণভাবে দুঃখী দুটি মানুষকে দেখতে পাই৷ আমি ভীষণ ভয় পাই৷ আমার বয়স তখন মাত্র ছয়৷ কিন্তু সেই দিনটি আমি কিছুতেই ভুলিনি৷''

তবে এই কোর্সে অনেক কিছু বাচ্চাদের শেখানো হয় যা সত্যিই চমৎকার৷ যেমন :

- তুমি যখন মারা যাবে তখন তুমি আর কখনো দুঃখ পাবে না৷ আর এ জন্য মারা যাওয়ার আগে মন খারাপের কোন কারণ নেই৷

- আমি মৃত্যুকে আর ভয় পাচ্ছি না৷ আমি অনেক কিছু শিখেছি৷

- কান্নাকাটি করা ভাল, তাতে অনেক কিছু হালকা হয়ে যায়৷ অনেকে কাঁদতে সাহসই পায় না৷ কান্নার মধ্যে দিয়ে দুঃখগুলো পালিয়ে যায়৷

- এই সপ্তাহে আমি অনেক কিছু শিখেছি৷ আমি মৃত্যুকে আর ভয় পাচ্ছি না৷ তবে আমি কীভাবে মারা যাবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি৷ সেটা বাদ দিল সবকিছু বেশ স্বাভাবিক৷

এই বাচ্চাগুলো হাসপাতালে ছুটোছুটি করে বেড়িয়েছে৷ মৃত্যুপথযাত্রীদের হাতে হাত রেখে বলেছে, ‘‘ভয় পেও না৷ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছো বলে মন খারাপ করো না৷ যেখানে তুমি যাচ্ছো সেখানে তোমার কোন কষ্ট হবে না৷ হাসতে ভুলে যেও না৷ আমি তোমার কথা সবসময় মনে করবো৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়