1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

‘মৃত্যুর সওদাগর'এর জন্য পরিচিত যে গ্রাম

ফ্রান্সের প্রত্যন্ত একটি শহর শেভ্রঁ৷ বর্তমানে বেশ গরিব এই জনপদটি প্রায় এক শতক আগে কিন্তু জনপ্রিয় ছিল৷ জনপ্রিয়তার কারণ সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল৷

যাঁর নামে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়েছে৷ এক শতকেরও বেশি আগে প্যারিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঐ শহরে ডিনামাইটের পরীক্ষা চালিয়েছিলেন তিনি৷

শেভ্রঁর ইতিহাসবিদ দানিয়েল মোগিন জানালেন, ‘‘১৯ শতকের শেষ দিকে এই শহরেই বেশিরভাগ কাজ করেছেন নোবেল৷ মালাকফ অ্যাভিনিউতে ভীষণ অভিজাত ভবনে থাকতেন তিনি৷''

তখন ঐ গ্রামে ছিল মাত্র এক হাজার অধিবাসী৷ এখন সেখানে জনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার৷ বর্তমানে বেকারত্ব, মাদক আর সহিংসতার শহর নামেই বেশি পরিচিত এটি৷ অথচ এক শতক আগে শহরটির চিত্র কিন্তু এমন ছিল না৷ শান্তিপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত ছিল৷

ঐ শহরের আর্কাইভ বিভাগে কর্মরত কামেলে মাইলে জানালেন, ‘‘সপ্তাহান্তে প্যারিসের অধিবাসীরা কান্ট্রিসাইড উপভোগ করার জন্য এখানে আসেন৷ কারণ এখানে অনেক খামার আছে এবং চারদিকে অনেক সবুজ৷''

১৮৩৩ সালে আলফ্রেড নোবেল সুইডেনের স্টকহোমে জন্মগ্রহণ করেন৷ ১৮৭০ পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাযাবরের মত ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি৷ আর ১৮৬৭ সালে আবিষ্কার করেন ডিনামাইট

Nobelpreis-Medaille

প্যারিসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঐ শহরে ডিনামাইটের পরীক্ষা চালিয়েছিলেন আালফ্রেড নোবেল

১৮৮১ সালে শেভ্রঁতে একটি পার্কের মাঝখানে নিজের গবেষণাগার তৈরি করেন৷ সেখানেই চালাতেন বিস্ফোরক নিয়ে নানা পরীক্ষা৷ তাঁর প্রয়োজন ছিল শান্ত একটি এলাকা, যেখানে মানুষজন কম এবং শেভ্রঁ ছিল এজন্য একেবারে উপযুক্ত৷ তবে শেভ্রঁতে থাকার পেছনে তাঁর আরও একটা উদ্দেশ্য ছিল৷ কারণ সেখানে ছিল গান পাউডারের কারখানা৷

নোবেলকে ‘মৃত্যুর সওদাগর' হিসেবে অভিহিত করেছিল ফরাসি এক পত্রিকা৷ একবার ভুলবশতঃ নোবেলের ভাইয়ের মৃত্যুর খবরের বদলে নোবেলের মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছিল৷ শিরোনামে রেখা হয়েছিল, ‘‘মারা গেলেন মৃত্যুর সওদাগর৷'' পত্রিকাটিতে লেখা হয়েছিল, আলফ্রেড নোবেল, যিনি খুব অল্প সময়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর পথ তৈরি করেছেন গতকাল মারা গেছেন৷''

১৮৯০ সালে কোটিপতি নোবেল শেভ্রঁ ছেড়ে ইটালিতে যান এবং পাঁচ বছর পর মৃত্যুবরণ করেন৷ তবে বর্তমান প্রজন্মের কেউই জানেন না নোবেল একসময় শেভ্রঁতে দীর্ঘদিন থেকেছিলেন৷ সংবাদ সংস্থা এএফপি'র সাংবাদিকরা যখন স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করেন তাঁরা বিষয়টি জানেন কিনা তখন অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন৷ তাদের অনেকেই ২০ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে সেখানে বাস করছেন৷ কিন্তু কেউ বিষয়টি জানেন না৷

এপিবি/জেডএইচ (এপি, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন