1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে শিশুটি এখন হাসছে, খেলছে

রাস্তার ধারে পড়ে থাকা শিশুটি না খেয়ে থাকতে থাকতে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছিল৷ কঙ্কালসার দুর্বল শরীরটায় ভন ভন করছিল মাছি৷ এক মানবাধিকার কর্মী স্নেহভরে শিশুটির মুখে তুলে দিয়েছিলেন পানি৷ নাইজেরিয়ার সেই শিশুটি এখন হাসছে, খেলছে৷

গত ৩১ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তোলপাড় তোলে নাইজেরিয়ার এক হাড়জিরজিরে শিশুর ছবি৷ ছবিতে দেখা যায়, শিশুটির মুখে পানি তুলে দিচ্ছেন ডেনিশ মানবাধিকার কর্মী আনিয়া রিংরেন লভেন৷ তারপর তানিয়া শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে যান হাসপাতালে ৷ সেদিন হাসপাতালে না নিলে শিশুটি এতদিনে হয়ত মারাই যেত৷

শিশুটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিল তার পরিবার৷ নিজেদের সন্তানকে ‘ডাইনি' ভেবে শিশুটির বাবা-মা-ই রাস্তায় ফেলে যায় ওকে৷ বাবা-মা থাকতেও শিশুটি তাই এতিম৷ কেউ খেতে দেয় না৷ ‘ডাইনি' ভেবে সবাই মুখ ফিরিয়ে নেয়৷ এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল শিশুটি৷

আবুজা শহরের রাস্তা থেকে তুলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর পানি খাওয়ানোর দৃশ্যের সেই ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন আনিয়া রিংরেন লভেন৷ ছবির সঙ্গে লিখেছিলেন, ‘‘গত ৩ বছরে আমি নাইজেরিয়ায় অনেক দেখেছি৷ উদ্ধার অভিযানের সময়ের অনেক অভিজ্ঞতার কথাই আমি আপনাদের জানাইনি৷

এখানে ডাইনি সন্দেহে হাজার হাজার শিশুকে ফেলে দেয়া হয়, নির্যাতন করা হয়৷ অনেক মৃত শিশুর লাশ দেখেছি আমরা৷ অনেক ভীত-সন্ত্রস্ত শিশুও দেখেছি৷'' তারপর আনিয়া লিখেছিলেন, ‘‘এই ছবিটা দেখলে বুঝবেন কেন আমি লড়ছি৷ কেন আমি সর্বস্ব বিক্রি করে এ লড়াইয়ে নেমেছি৷''

আনিয়া আনিয়া রিংরেন লভেনের পোস্ট করা ছবি দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি অনেকে৷ শিশুটির সুস্থতা কামনা করেছেন সবাই৷ চিকিৎসার জন্য টাকাও পাঠিয়েছেন অনেকে৷ কয়েকদিনের মধ্যেই চিকিৎসার জন্য খোলা তহবিলে জমা হয়ে যায় ১ মিলিয়ন ডলার৷ কয়েক দফা রক্তদান এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের পর শিশুটি এখন বেশ সুস্থ৷ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে শিশুটি এখন হাসছে, খেলছে৷

নাইজেরিয়ার কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ‘ডাইনি', অর্থাৎ অশুভ শক্তি ভেবে অনেক শিশুকেই ফেলে দেয়৷

আনিয়া রিংরেন লভেন সেই শিশুদের রক্ষা করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন৷ দুঃস্থ শিশুদের সহায়তার জন্য নাইজেরিয়াতেই একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ সংস্থার নাম আফ্রিকান চিলড্রেন'স এইড এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন৷ ওই সংস্থার শিশুদের সঙ্গেই এখন আনন্দে দিন কাটাচ্ছে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা সেই শিশু৷ আনিয়া রিংরেন লভেন শিশুটির নাম দিয়েছেন, ‘হোপ', অর্থাৎ আশা৷

এসিবি/ডিজি (হাফিংটন পোস্ট)

নির্বাচিত প্রতিবেদন