1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

‘মৃত্যুর বণিক’ থেকে শান্তির পথে

মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ভাবন করেই হয়েছিলেন ধনবান৷ সেই আয় থেকে বিরাট অঙ্কের অর্থ রেখে যান বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘নোবেল’-এর জন্য৷ আলফ্রেড নোবেল তাই ধ্বংসে ভূমিকা রাখার যাতনা থেকে শান্তির পথে আসা ঊজ্জ্বল এক নাম৷

পুরো নাম: আলফ্রেড ব্যর্নহার্ড নোবেল

জন্ম: ২১শে অক্টোবর, ১৮৩৩,  স্টকহোম, সুইডেন

মৃত্যু: ১০ই ডিসেম্বর, ১৮৯৬, সারেমো, ইটালি

সমাধি: স্টকহোলম

পেশা: রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও আবিষ্কারক

বাবা: ইমানুয়েল নোবেল

মা:  ক্যারোলিনে আন্দ্রিয়েতা আলসেস

খুব উল্লেখযোগ্য কাজ:   ডিনামাইট আবিষ্কার, নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন

অনেক কিছুর উদ্ভাবক তিনি৷ ‘ডিনামাইট' সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য৷ নাইট্রোগ্লিসারিন এবং কোয়ার্টসের মিশ্রনে তৈরি ভয়ঙ্কর এক বিস্ফোরক ডিনামাইট৷ এটা উদ্ভাবনের আগে নাইট্রোগ্লিসারিন নিয়ে গবেষণার করার সময় একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রাণ হারান  বহু মানুষ৷ এমনকি তাঁর নিজের ছোট ভাইও মারা যান এমনই এক দুর্ঘটনায়৷ তবে ডিনামাইট শুধু ধংসাত্মক কাজেই ব্যবহৃত হয়না৷ এই  আবিষ্কারের ফলেই পানামা খাল, বিশ্বের দীর্ঘতম রেলপথ ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ে অথবা পাহাড় ভেদ করে গটহার্ড টানেল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে৷ আজো বহু নির্মাণ কাজে ডিনামাইটের ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি৷ এই ডিনামাইটের পরই নোবেল একে একে উদ্ভাবন করেন পিস্তল থেকে শুরু করে কামান অবধি বিভিন্ন রকমের মারণাস্ত্র৷

১৮৪২ সালে, খুব ছোটবেলায় জন্মস্থান স্টকহোম ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে আলফ্রেড নোবেল চলে যান রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবুর্গে৷ বাবা ছিলেন প্রকৌশলী৷ সেখানে তিনি ইস্পাত ও লোহার কারখানা স্থাপন করেন৷ সেই ইস্পাত ও লোহা দিয়ে তৈরি যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করা হতো  রুশ সেনাবাহিনীতে৷ ১৮৫৯ সালে নোবেল স্টকহোমে ফিরে রসায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন৷ তখন ইংরেজি সাহিত্যের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ৷ এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশও ভ্রমণ করেছেন তিনি৷ প্যারিসে পরিচয় হয় নাইট্রোগ্লিসারিনের মূল আবিষ্কারক অ্যাসকানিয় সোব্রেরোর সঙ্গে৷ সোব্রেরো নাইট্রোগ্লিসারিনের ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবেই গবেষণা বন্ধ করে দেন৷ কিন্তু নোবেল সেই বিস্ফোরক পদার্থের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন৷

তারপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নব্বইটিরও বেশি ডিনামাইট কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন আলফ্রেড নোবেল৷ ডিনামাইট আবিষ্কারের সাফল্যের সাথে সাথে ব্যালিস্টিক পাউডারও আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অস্ত্রের উন্নতি সাধন করেন৷ বলা যায়, বিভিন্ন মারণাস্ত্রের অগ্রদূত ছিলেন আলফ্রেড নোবেল৷ এই অস্ত্র বাবসা করেই তিনি হয়ে ওঠেন বিত্তশালী ব্যক্তি৷

This is an undated photo of the founder of the Nobel Foundation Alfred Nobel. The Swedish industrialist is also the inventor of dynamite. (AP Photo)

আলফ্রেড ব্যর্নহার্ড নোবেল

অথচ মনেপ্রাণে আলফ্রেড নোবেল ছিলেন যুদ্ধবিরোধী মানুষ৷ তাঁর ধারণা ছিল এমন  অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ বা আগ্রাসনের  প্রবণতাকে ঠেকানো যাবে৷ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি৷ ১৮৮৮ সালে তাঁর ভাই লুডভিগ নোবেল ফ্রান্সের কান শহরে মৃত্যু বরণ করেন৷ খবরটি ভুলভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সবাই ভেবেছিল আলফ্রেড নোবেলই বুঝি মারা গেছেন৷ পত্রিকায় মৃত্যুসংবাদের শিরোনামে লেখা হয় ‘মৃত্যুর বণিক মারা গেছেন'৷ এমন শিরোনামের খবরটি  খুব বিচলিত করে তাঁকে, সবকিছু থেকেই ধিরে ধিরে সরে দাঁড়ান আলফ্রেড নোবেল৷

সাড়ে তিনশ'রও বেশি বস্তুর উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেল ছিলেন নিঃসন্তান৷ ১৮৯৫ সালে উইল করে তাঁর  সম্পত্তির ৯৪ ভাগই দান করে দেন ‘নোবেল প্রাইজ ফাউন্ডেশ'-কে৷ ১৯০১ সালে থেকে পাঁচটি বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতি বছরই দেয়া হয় এই পুরস্কার৷ চিকিৎসাশাস্ত্র, রসায়নবিদ্যা, পদার্থ বিজ্ঞান, সাহিত্যের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিও দেয় ‘নোবেল'৷ আলফ্রেড নোবেল তাই বেঁচে আছেন৷ থাকবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন